লালমোহনে মেজর হাফিজের বাসায় ছাত্রলীগের হামলা মনোহরগঞ্জে আ.লীগ-বিএনপি রূপগঞ্জে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ :



ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। ভোলার লালমোহনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৬০ জন আহত হয়েছে। পরে সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজের বাসায় হামলা করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এছাড়া ফেনীর পরশুরামে এক ভূমি কর্মকর্তা সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
মনোহরগঞ্জে আহত ১০ : কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে দুই যুবদল নেতাসহ ১০ জন আহত হয়েছে। সোমবার সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল আলম বাচ্চু ও যুবদলকর্মী মনজুরুল ইসলাম আহত হয়। আহতদের লাকসাম ফেয়ার হেল্থ হাসপাতাল ও সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলায় বিএনপির মিছিল চলাকালে দোকানের সাটারে হাত দেয়াকে কেন্দ্র করে সরকার দলীয় নেতা মোস্তফা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, তার ভাই নজরুল ইসলাম, ক্যাডার মাসুদ, রানা, আনুসহ যুব ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল আলম বাচ্চু ও যুবদলকর্মী মনজুরুল ইসলামকে লাঠি ও হাতুড়ে দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে আ.লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মনছুরের রাকিব জেনারেল স্টোর ও মনছুর কনফেকশনারি ভাংচুর করে। তাছাড়া উভয়পক্ষের হামলায় বাজারে আরাও কিছু দোকানপাট ভাংচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার জেরে দিনভর উপজেলা বাইশগাঁও, মান্দারগাঁও, দাদঘরসহ বিভিন্ন স্থানে উভয়দলের নেতাকর্মীদের মাঝে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হয়।
রূপগঞ্জে আহত ১৫ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া এলাকায় সোমবার পূর্বশত্রুতার জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লাভরাপাড়া গ্রামের জুয়েল মিয়া, সোহেল মিয়া, রশিদ মিয়া, শওকত আলী, আলী আহাম্মদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এ সময় তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ রাজিব ও কামাল হোসেন নামের ২ জনকে আটক করে।
আহত আলী আহাম্মদ, শওকত আলী, মোহাম্মদ আলী, মিজানুর রহমান, সবুজ মিয়া, আরিফ হোসেন, ফারুক হাসান, নাজমুল ইসলাম, খাইরুল আলম, রশিদ মিয়া, আবুল হোসেন, রোমান মিয়া, মোবারক হোসেন, নুরে আলম, রেজিয়া বেগমকে রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লালমোহনে সংঘর্ষ : ভোলার লালমোহনে আওয়ামী লীগ বিএনপির ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ওসি ও সাংবাদিকসহ ৬০ জন আহত হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রাকসহ ৭ গাড়ি, উপজেলা ছাত্রলীগের অফিস ও উপজেলা বিএনপি অফিসে ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে ক্যাডাররা। এ ঘটনায় ২৫০ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৩০টি দোকানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সোমবার রাতে লালমোহন পৌর শহরের করিম রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় লালমোহন পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র ও যুবলীগকর্মীরা হোন্ডা মহড়া দিয়ে বিএনপি সমর্থিত কর্মীদের পৌর শহরের দোকান বদ্ধ করে দিচ্ছে এবং হামলা চালাচ্ছে। গতকাল দৈনিক সত্য সংবাদের লালমোহন প্রতিনিধি মো. ফয়সালের ওপর হামলা ও সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজের বাসায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। উপজেলা পোস্ট অফিসের সামনে দিয়ে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ জামাল মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ অতর্কিত শেখ জামালের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে করিম রোডে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ধাওয়া করে। এতে দু’পক্ষের মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের কর্মীরা বিএনপি অফিসের ব্যানার, ফেস্টুন ভাংচুর করে অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। নীলা ফার্মেসি, সুরুজ মিয়ার মুদি দোকানসহ ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এছাড়া বিএনপি সমর্থকরা বাজারের মধ্যে ছাত্রলীগের অফিস ভাংচুর করে। এতে ইউনুছ মিয়া, জুয়েল, ফরহাদ, মনির, মাকসুদ, হারুন, রাকিবসহ ৬০ জন আহত হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ওসি খন্দকার মিজানুর রহমান খানসহ ৪-৫ জন পুলিশ ও সংবাদ কভারেজ করতে গিয়ে দিগন্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি ইউনুছ শরীফ, আমার দেশ সাংবাদিক মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলা ভিশনের ক্যামেরাম্যান শামিম, ভোরের ডাক প্রতিনিধি ফরহাদ হোসেন আহত হন। এ হামলার ঘটনায় বিএনপির প্রায় আড়াইশ’ কর্মী বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ বিএনপিকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
পরশুরামে আহত ১ : ফেনীর পরশুরামে এক ভূমি কর্মকর্তা সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন। উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের বোচা মিয়ার ছেলে দাউদ মিয়া প্রকাশ ট্রলি দাউদ ১০-১২ দিন আগে পরশুরাম পৌর ভূমি অফিসে খাজনা দিতে যায়। অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দেবাশীষ রায় ৩০ হাজার টাকা খাজনার রশিদ লেখেন। রশিদ লেখা শেষ হলে টাকা না দিয়ে চলে যায়। পরে সোমবার দাউদ পৌর ভূমি অফিসে গিয়ে দেবাশীষ রায়ের ওপর চড়াও হয়। এ সময় সে ওই কর্মকর্তাকে বেদম মারধর করে আহত করে। এ ঘটনায় দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে থানায় দাউদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সারিয়াকান্দিতে আহত ৩ : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নারচী ইউনিয়নের চরহরিণা গ্রামে ইরির জমিতে পানি দেয়ার ড্রেন ভেঙে ফেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলো জাহাঙ্গীর আলম টেপা, বাদশা ও বুদা। তারা আহতরা সারিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার উপজেলার ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম টেপার সঙ্গে একই গ্রামের লিটন, ছকমল, সোহেলের ইরির জমিতে পানি দেয়ার ড্রেন ভেঙে দেয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটি হয়। এর জেরে নারচী বাজারে প্রতিপক্ষরা লাঠিসোটা ও ধারাল অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৩ জন আহত হয়।
বাহুবলে আহত ১ : হবিগঞ্জের বাহুবলের দৌলতপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় সেলিনা খাতুন নামের এক মহিলা আহত হয়েছে। গতকাল এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় সেলিনা খাতুন বাহুবল হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছে।
বাবুগঞ্জে ভাংচুর : অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বরিশালের বাবুগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত সাটানো ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড খুলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল উপজেলার কেদাপুর ইউনিয়নের ক্লাবগঞ্জ বাজারে ২০ থেকে ২৫টি সাটানো ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড খুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে।
ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মাস্টার ও সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির জানান, আমাদের নামে বঙ্গবন্ধুু ও শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত সাটানো ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড খুলে নেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের দলের মধ্যে একটি গ্রুপের এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়