বিচার বিভাগে রাজনীতিকরণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে : যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন
ডেস্ক রিপোর্ট
| পরের সংবাদ» |
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ করায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। বিচার বিভাগের ওপর সরকার রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই বিনা বিচারে আটক রয়েছে। ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ২০১২ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ১৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হচ্ছে গুম, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অধিকারের বিষয়গুলো। সন্দেহজনক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও অপহরণ অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এজন্য দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করছে। রিপোর্টে বলা হয়, স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেফতার ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু সমস্যা হিসাবে রয়ে গেছে। দুর্বল বিচার বিভাগ ও বিচারের আগে দীর্ঘসময় কারাবন্দি করে রাখাও অব্যাহত আছে। সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করছে। মত প্রকাশের ও সমাবেশ করার স্বাধীনতা সংকুচিত করারও উদাহরণ রয়েছে। অনেক সাংবাদিক স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ (সেলফ সেন্সরশিপ) মেনে চলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা ও সরকারি পর্যায়ে বেপরোয়া দুর্নীতিও সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক বেসরকারি সংগঠনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে ২০১২ সালে ৭০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জনকে র্যাব হত্যা করেছে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসেবে ২০১২ সালে নিরাপত্তা হেফাজতে ১০১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে জেলখানায় মারা গেছে ৩৪ জন। এর মধ্যে অনেক মৃত্যুই হয়েছে নির্যাতনের কারণে।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের মতে, ২০১২ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৬৯ জন নিহত এবং ১৭ হাজার ১৬১ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ৩৮২টি ঘটনায় ৩৭ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ১৪৬টি অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় ৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬১৯ জন আহত হয়েছে। অধিকারের হিসাবে, র্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ২০১২ সালে ২৪ জন গুম হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে গুমের সংখ্যা ৫৬ জন। বাংলাদেশের সংবিধানে নির্যাতন ও অন্যান্য নির্মম ও অমানবিক আচরণ নিষিদ্ধ হলেও র্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন ও শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালায়। তারা হুমকি-ধমকি দেয়, প্রহার করে, ইলেকট্রিক শক দেয়। অধিকারের মতে, এ সময় অন্তত ৭২ জনকে নির্যাতন এবং ৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসবের জন্য দায়ীদের বিচার করার ঘটনা বিরল।
২০১২ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্তত ১৩ জনকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেছে। এর মধ্যে ৫ জনের বয়স ১৭ বছরেরও কম। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে, এ সময় কারাবন্দির সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৭০০ জন। তবে কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৩৩ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে কয়েদির সংখ্যা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। বাকি দুই-তৃতীয়াংশকেই বিনাবিচারে আটক রাখা হয়েছে। এই সংখ্যা ৫৬ হাজার।
রাজনৈতিক কর্মসূচির জের ধরে সরকার স্বেচ্ছাচারী কায়দায় নেতাকর্মীদের আটক করে। অনেককে কোনো কারণ ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়। অধিকারের হিসাবে, ২০১২ সালের ১২ মার্চ বিএনপির ঢাকায় মহাসমাবেশের আগে ৮ হাজার ৬৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়, সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের কথা বলা হলেও অস্থায়ী বিধানের দ্বারা সেই স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। নিম্ন আদালতে নিয়োগ ও বেতনভাতার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের হাতে। বর্তমানে ২০ লাখ মামলা বিচারধীন। দুর্নীতি ও মামলাজটের কারণে আদালতের বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট, উকিল ও অন্যান্য কর্মকর্তা ঘুষ দাবি করেন। বিডিবার বিদ্রোহের গণবিচার করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ হাজার ৯২৬ জনেক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
সংবিধানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে সরকার বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমকে শ্রদ্ধা জানাতে মাঝে মাঝেই ব্যর্থ হয়। সরকারের হয়রানির ভয়ে অনেক সাংবাদিক সেলফ সেন্সরশিপ মেনে চলেন। সরকার অনেক সময় চাপ প্রয়োগ করে থাকে। সাংবাদিকদের অনেক সময় শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়। তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। অধিকার ও অন্যান্য গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, ২০১২ সালে ৪ সাংবাদিক নিহত এবং ১১৮ জন আহত হয়েছেন। সরকার হুমকি ও হয়রানির মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
রিপোর্টে বলা হয়, সরকার অনেক সময় সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অধিকারের মতে, ২০১২ সালে অন্তত ১০৫ বার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনে দুর্নীতির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তির বিধান থাকলেও সরকার কার্যকরভাবে সেই আইন বাস্তবায়ন করছে না। এ সময় নানাভাবে সরকারের দুর্নীতির খবর বেরিয়েছে। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাসায় নিয়ে যাওয়ার পথে দুর্নীতির ৭৪ লাখ টাকা আটক করা হয়।
বিচার বিভাগের ওপর সরকার রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। বিরোধী নেতাদের মামলার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ বিরোধীদলীয় নেতাদের জামিন বাতিল করে দিয়েছে। দুর্নীতি বিচার বিভাগের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা এবং এ কারণে বিচার বিলম্বিত হয়। মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের মতে, বিচার বিভাগের রাজনীতিকরণের কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
২০১২ সালে ৮০৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সামাজিক কারণে অনেক ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয় না। এ সময় ৩১ জন নারী ধর্ষণের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ সময় গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০১ জন। আসকের মতে, এ সময় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১০০৮টি। ২০১২ সালে গণপিটুনিতে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছে।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ২০১২ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ১৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হচ্ছে গুম, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অধিকারের বিষয়গুলো। সন্দেহজনক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও অপহরণ অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এজন্য দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করছে। রিপোর্টে বলা হয়, স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেফতার ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু সমস্যা হিসাবে রয়ে গেছে। দুর্বল বিচার বিভাগ ও বিচারের আগে দীর্ঘসময় কারাবন্দি করে রাখাও অব্যাহত আছে। সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করছে। মত প্রকাশের ও সমাবেশ করার স্বাধীনতা সংকুচিত করারও উদাহরণ রয়েছে। অনেক সাংবাদিক স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ (সেলফ সেন্সরশিপ) মেনে চলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা ও সরকারি পর্যায়ে বেপরোয়া দুর্নীতিও সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক বেসরকারি সংগঠনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে ২০১২ সালে ৭০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জনকে র্যাব হত্যা করেছে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসেবে ২০১২ সালে নিরাপত্তা হেফাজতে ১০১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে জেলখানায় মারা গেছে ৩৪ জন। এর মধ্যে অনেক মৃত্যুই হয়েছে নির্যাতনের কারণে।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের মতে, ২০১২ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৬৯ জন নিহত এবং ১৭ হাজার ১৬১ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ৩৮২টি ঘটনায় ৩৭ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ১৪৬টি অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় ৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬১৯ জন আহত হয়েছে। অধিকারের হিসাবে, র্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ২০১২ সালে ২৪ জন গুম হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে গুমের সংখ্যা ৫৬ জন। বাংলাদেশের সংবিধানে নির্যাতন ও অন্যান্য নির্মম ও অমানবিক আচরণ নিষিদ্ধ হলেও র্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন ও শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালায়। তারা হুমকি-ধমকি দেয়, প্রহার করে, ইলেকট্রিক শক দেয়। অধিকারের মতে, এ সময় অন্তত ৭২ জনকে নির্যাতন এবং ৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসবের জন্য দায়ীদের বিচার করার ঘটনা বিরল।
২০১২ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্তত ১৩ জনকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেছে। এর মধ্যে ৫ জনের বয়স ১৭ বছরেরও কম। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে, এ সময় কারাবন্দির সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৭০০ জন। তবে কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৩৩ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে কয়েদির সংখ্যা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। বাকি দুই-তৃতীয়াংশকেই বিনাবিচারে আটক রাখা হয়েছে। এই সংখ্যা ৫৬ হাজার।
রাজনৈতিক কর্মসূচির জের ধরে সরকার স্বেচ্ছাচারী কায়দায় নেতাকর্মীদের আটক করে। অনেককে কোনো কারণ ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়। অধিকারের হিসাবে, ২০১২ সালের ১২ মার্চ বিএনপির ঢাকায় মহাসমাবেশের আগে ৮ হাজার ৬৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়, সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের কথা বলা হলেও অস্থায়ী বিধানের দ্বারা সেই স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। নিম্ন আদালতে নিয়োগ ও বেতনভাতার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের হাতে। বর্তমানে ২০ লাখ মামলা বিচারধীন। দুর্নীতি ও মামলাজটের কারণে আদালতের বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট, উকিল ও অন্যান্য কর্মকর্তা ঘুষ দাবি করেন। বিডিবার বিদ্রোহের গণবিচার করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ হাজার ৯২৬ জনেক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
সংবিধানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে সরকার বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমকে শ্রদ্ধা জানাতে মাঝে মাঝেই ব্যর্থ হয়। সরকারের হয়রানির ভয়ে অনেক সাংবাদিক সেলফ সেন্সরশিপ মেনে চলেন। সরকার অনেক সময় চাপ প্রয়োগ করে থাকে। সাংবাদিকদের অনেক সময় শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়। তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। অধিকার ও অন্যান্য গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, ২০১২ সালে ৪ সাংবাদিক নিহত এবং ১১৮ জন আহত হয়েছেন। সরকার হুমকি ও হয়রানির মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
রিপোর্টে বলা হয়, সরকার অনেক সময় সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অধিকারের মতে, ২০১২ সালে অন্তত ১০৫ বার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনে দুর্নীতির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তির বিধান থাকলেও সরকার কার্যকরভাবে সেই আইন বাস্তবায়ন করছে না। এ সময় নানাভাবে সরকারের দুর্নীতির খবর বেরিয়েছে। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাসায় নিয়ে যাওয়ার পথে দুর্নীতির ৭৪ লাখ টাকা আটক করা হয়।
বিচার বিভাগের ওপর সরকার রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। বিরোধী নেতাদের মামলার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ বিরোধীদলীয় নেতাদের জামিন বাতিল করে দিয়েছে। দুর্নীতি বিচার বিভাগের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা এবং এ কারণে বিচার বিলম্বিত হয়। মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের মতে, বিচার বিভাগের রাজনীতিকরণের কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
২০১২ সালে ৮০৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সামাজিক কারণে অনেক ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয় না। এ সময় ৩১ জন নারী ধর্ষণের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ সময় গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০১ জন। আসকের মতে, এ সময় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১০০৮টি। ২০১২ সালে গণপিটুনিতে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছে।
Comments