মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৯, জীবিত উদ্ধার দুই সহস্রাধিক
- Get link
- X
- Other Apps
ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ
আনোয়ার হোসেন ও অরূপ রায় | তারিখ: ২৬-০৪-২০১৩
- সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার ছাদ কেটে গতকাল উদ্ধার তত্পরতা চালানো হয়ছবি: প্রথম আলো
- নিখোঁজ স্বজনের ছবি ও পরিচয়পত্র হাতে শত শত মানুষ গতকাল সাভারের অধর চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হন। ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধার করা মৃতদেহগুলো সেখানেই রাখা হচ্ছে। উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা নিয়ে স্বজনের সন্ধানে এসব মানুষ কখনো স্কুলমাঠে, কখনো হাসপাতালে ছুটে বেড়িয়েছেনছবি: সাজিদ হোসেন
- মুঠোফোনে স্বজনের খবর জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক নারীছবি: প্রথম আলো
সাভারে ভবনধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৯। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই সহস্রাধিক মানুষকে। এর মধ্যে গতকাল রাত ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ২৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গত দুই দিনে ১৬৮টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। অনেকে বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু নয়তলা ভবনটি ধসে একতলার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ভেতরে ঢোকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেতরে থাকা লাশে পচন ধরেছে। দুর্গন্ধের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। ভবনটির বিভিন্ন স্থানের ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেক মৃতদেহ আটকে থাকতে দেখা গেছে।
গত বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নয়তলা ভবনটি ধসে পড়ে। এর দুই দিন আগে ভবনটির পিলারে ফাটল ধরা পড়ে।
গতকাল সকালে স্বজনদের খোঁজে ওই ভবনের আশপাশে এবং সাভার অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মানুষের ঢল নামে। তাঁদের আহাজারিতে সাভারের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
সাভার ব্যাংক কলোনির সাখাওয়াত হোসেন সকাল থেকেই ধসে পড়া ভবনের আশপাশে ঘুরছিলেন। তিনি জানান, তাঁর ভাই ইমরান হোসেন ভবনের চারতলায় প্যান্টম নিটওয়্যারে কাজ করছিলেন। তাঁকে জীবিত বা মৃত কোনোভাবেই উদ্ধার করা যায়নি।
উদ্ধার তৎপরতায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ এনে গতকাল সেখানে বিক্ষোভ করেন স্বজনহারা মানুষ ও স্থানীয় লোকজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় অনেক মানুষ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধারকাজে ব্যাপক সহায়তা করছেন। তবে উৎসুক মানুষের অযাচিত ভিড়ের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে ধ্বংসস্তূপের ওপরে উঠে যাওয়ায় ভবনের ভাঙা অংশগুলো আরও নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে।
উদ্ধারকাজ সমন্বয় করছে সেনাবাহিনীর একটি সেল। এই সেলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী প্রথম আলোকে বলেন, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। এসব তলার ধ্বংসস্তূপের কিছু কিছু স্থানে দেড়-দুই ফুট করে ফাঁকা আছে। সেখান থেকে উদ্ধার চলছে। চতুর্থ তলার নিচে বাকি তলাগুলো একসঙ্গে মিশে গেছে। এ জন্য সেখানে পৌঁছা কঠিন হয়ে গেছে।
এদিকে ধসে পড়ার আশঙ্কায় সাভার রোডের রানা টাওয়ারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নয়তলা এই ভবনের মালিকও একই ব্যক্তি, সোহেল রানা। এই ভবনের নিচতলার পশ্চিম দিকের বিমে লম্বালম্বি চিড় ধরেছে। ভেতরেও ফাটল রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। ওই ভবনের চারতলা পর্যন্ত বাটা জুতা কোম্পানির শোরুম, ব্যাংক-বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। ব্যাংকের গেটে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘সাময়িক অসুবিধার জন্য ব্যাংকের এই শাখা বন্ধ করা হয়েছে’।
এদিকে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর গত বুধবার সাভারের বিভিন্ন পোশাক কারখানা দুপুরের পর ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরেও পোশাক কারখানাগুলোয় ছুটি ছিল। আশুলিয়ায় ছুটি না দেওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
ভবনধসের ঘটনায় বুধবার রাতেই দুটি মামলা হয় সাভার মডেল থানায়। একটির বাদী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং অন্যটির পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ধারণা, ভবনটিতে প্রায় তিন হাজার লোক ছিলেন। এ পর্যন্ত আহত ও নিহত মিলে দুই হাজার ২০০ লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। যতক্ষণ মনে হবে লোক জীবিত আছেন, ততক্ষণ উদ্ধার তৎপরতা চলবে।
দেহ ঝুলছে ধ্বংসস্তূপে: নীল জিন্স প্যান্ট কাপড়ের বেল্ট দিয়ে আটকানো। আকাশি রঙের গেঞ্জি। শরীরের সঙ্গে জড়ানো কাপড় মাপার ফিতা। সম্ভবত কাজ করছিলেন। বেশ সুঠামদেহী। তবে মুখটা দেখা যায় না। বুক থেকে ওপরের অংশ ধ্বংসস্তূপের ভেতরে। নাম-পরিচয়হীন এই অভাগার দেহের বাকি অংশটুকু ঝুলে আছে। প্রাণ নেই বলে আশপাশে মাছি ভনভন করছে।
গতকাল রানা প্লাজার উত্তর দিকে এই দৃশ্য দেখা গেছে। উত্তর দিকে লাগোয়া আর এস প্লাজা। নির্মাণাধীন এই ভবনের নিচতলার দেয়াল কয়েক স্থানে কেটে ফেলা হয়েছে। এরই একটি কাটা দিয়ে একটু এগোতেই এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এই মৃতদেহের সঙ্গে ঝুলে আছে আরেকটি মৃতদেহ। সেটি অবশ্য উল্টোভাবে। গায়ে বেগুনি রঙের গেঞ্জি। নিচের দিকে মাথা ঝোলানো। হাত একটা ছড়িয়ে দিয়ে নিচের দিকে কাউকে যেন ডাকছে। বুক থেকে পা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের মধ্যে গেঁথে আছে। এর আশপাশে আরও অনেক মৃতদেহের হাত, পা কিংবা শরীরের কিছু অংশ বেরিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিরা ধসে পড়া ভবনের পঞ্চম তলায় ছিলেন। চতুর্থ তলায় কিছু লোক বেঁচে আছেন বলে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মৃতদেহগুলো উদ্ধার করতে হলে রড কেটে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হবে। সে ক্ষেত্রে এটি ভেঙে পড়লে নিচের মানুষগুলোকে উদ্ধার করা যাবে না। এ জন্য মৃতদেহগুলো সেভাবেই রেখে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজে সমন্বয়হীনতা: উদ্ধার তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্ট, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চিকিৎসক দল অংশ নিয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও একটা বড় অংশ ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে একটু পরপরই টর্চ, রড কাটার যন্ত্র, অক্সিজেন, ছুরি-কাঁচিসহ যখন যা দরকার চাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সকাল থেকে অক্সিজেনের অভাব দেখা গেছে। একজন আরেকজনের ওপর দায়িত্ব দিয়ে খালি হাঁক দিতে থাকেন ‘ওমুকটা লাগবে’। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দরকারি জিনিসটি সময়মতো মিলছে না।
মোবারক ও শাহীন নামের দুই উদ্ধারকর্মী অভিযোগ করেন, উদ্ধার তৎপরতায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে। জীবিত ব্যক্তিদের জন্য অক্সিজেন চেয়ে পাননি। এ ছাড়া কোনো কিছু চাইলে একজন আরেকজনকে নির্দেশ করেন।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। অনেকে বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু নয়তলা ভবনটি ধসে একতলার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ভেতরে ঢোকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেতরে থাকা লাশে পচন ধরেছে। দুর্গন্ধের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। ভবনটির বিভিন্ন স্থানের ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেক মৃতদেহ আটকে থাকতে দেখা গেছে।
গত বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নয়তলা ভবনটি ধসে পড়ে। এর দুই দিন আগে ভবনটির পিলারে ফাটল ধরা পড়ে।
গতকাল সকালে স্বজনদের খোঁজে ওই ভবনের আশপাশে এবং সাভার অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মানুষের ঢল নামে। তাঁদের আহাজারিতে সাভারের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
সাভার ব্যাংক কলোনির সাখাওয়াত হোসেন সকাল থেকেই ধসে পড়া ভবনের আশপাশে ঘুরছিলেন। তিনি জানান, তাঁর ভাই ইমরান হোসেন ভবনের চারতলায় প্যান্টম নিটওয়্যারে কাজ করছিলেন। তাঁকে জীবিত বা মৃত কোনোভাবেই উদ্ধার করা যায়নি।
উদ্ধার তৎপরতায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ এনে গতকাল সেখানে বিক্ষোভ করেন স্বজনহারা মানুষ ও স্থানীয় লোকজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় অনেক মানুষ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধারকাজে ব্যাপক সহায়তা করছেন। তবে উৎসুক মানুষের অযাচিত ভিড়ের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে ধ্বংসস্তূপের ওপরে উঠে যাওয়ায় ভবনের ভাঙা অংশগুলো আরও নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে।
উদ্ধারকাজ সমন্বয় করছে সেনাবাহিনীর একটি সেল। এই সেলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী প্রথম আলোকে বলেন, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। এসব তলার ধ্বংসস্তূপের কিছু কিছু স্থানে দেড়-দুই ফুট করে ফাঁকা আছে। সেখান থেকে উদ্ধার চলছে। চতুর্থ তলার নিচে বাকি তলাগুলো একসঙ্গে মিশে গেছে। এ জন্য সেখানে পৌঁছা কঠিন হয়ে গেছে।
এদিকে ধসে পড়ার আশঙ্কায় সাভার রোডের রানা টাওয়ারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নয়তলা এই ভবনের মালিকও একই ব্যক্তি, সোহেল রানা। এই ভবনের নিচতলার পশ্চিম দিকের বিমে লম্বালম্বি চিড় ধরেছে। ভেতরেও ফাটল রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। ওই ভবনের চারতলা পর্যন্ত বাটা জুতা কোম্পানির শোরুম, ব্যাংক-বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। ব্যাংকের গেটে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘সাময়িক অসুবিধার জন্য ব্যাংকের এই শাখা বন্ধ করা হয়েছে’।
এদিকে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর গত বুধবার সাভারের বিভিন্ন পোশাক কারখানা দুপুরের পর ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরেও পোশাক কারখানাগুলোয় ছুটি ছিল। আশুলিয়ায় ছুটি না দেওয়ায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
ভবনধসের ঘটনায় বুধবার রাতেই দুটি মামলা হয় সাভার মডেল থানায়। একটির বাদী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং অন্যটির পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ধারণা, ভবনটিতে প্রায় তিন হাজার লোক ছিলেন। এ পর্যন্ত আহত ও নিহত মিলে দুই হাজার ২০০ লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। যতক্ষণ মনে হবে লোক জীবিত আছেন, ততক্ষণ উদ্ধার তৎপরতা চলবে।
দেহ ঝুলছে ধ্বংসস্তূপে: নীল জিন্স প্যান্ট কাপড়ের বেল্ট দিয়ে আটকানো। আকাশি রঙের গেঞ্জি। শরীরের সঙ্গে জড়ানো কাপড় মাপার ফিতা। সম্ভবত কাজ করছিলেন। বেশ সুঠামদেহী। তবে মুখটা দেখা যায় না। বুক থেকে ওপরের অংশ ধ্বংসস্তূপের ভেতরে। নাম-পরিচয়হীন এই অভাগার দেহের বাকি অংশটুকু ঝুলে আছে। প্রাণ নেই বলে আশপাশে মাছি ভনভন করছে।
গতকাল রানা প্লাজার উত্তর দিকে এই দৃশ্য দেখা গেছে। উত্তর দিকে লাগোয়া আর এস প্লাজা। নির্মাণাধীন এই ভবনের নিচতলার দেয়াল কয়েক স্থানে কেটে ফেলা হয়েছে। এরই একটি কাটা দিয়ে একটু এগোতেই এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এই মৃতদেহের সঙ্গে ঝুলে আছে আরেকটি মৃতদেহ। সেটি অবশ্য উল্টোভাবে। গায়ে বেগুনি রঙের গেঞ্জি। নিচের দিকে মাথা ঝোলানো। হাত একটা ছড়িয়ে দিয়ে নিচের দিকে কাউকে যেন ডাকছে। বুক থেকে পা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের মধ্যে গেঁথে আছে। এর আশপাশে আরও অনেক মৃতদেহের হাত, পা কিংবা শরীরের কিছু অংশ বেরিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিরা ধসে পড়া ভবনের পঞ্চম তলায় ছিলেন। চতুর্থ তলায় কিছু লোক বেঁচে আছেন বলে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মৃতদেহগুলো উদ্ধার করতে হলে রড কেটে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হবে। সে ক্ষেত্রে এটি ভেঙে পড়লে নিচের মানুষগুলোকে উদ্ধার করা যাবে না। এ জন্য মৃতদেহগুলো সেভাবেই রেখে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজে সমন্বয়হীনতা: উদ্ধার তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্ট, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চিকিৎসক দল অংশ নিয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও একটা বড় অংশ ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে একটু পরপরই টর্চ, রড কাটার যন্ত্র, অক্সিজেন, ছুরি-কাঁচিসহ যখন যা দরকার চাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সকাল থেকে অক্সিজেনের অভাব দেখা গেছে। একজন আরেকজনের ওপর দায়িত্ব দিয়ে খালি হাঁক দিতে থাকেন ‘ওমুকটা লাগবে’। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দরকারি জিনিসটি সময়মতো মিলছে না।
মোবারক ও শাহীন নামের দুই উদ্ধারকর্মী অভিযোগ করেন, উদ্ধার তৎপরতায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে। জীবিত ব্যক্তিদের জন্য অক্সিজেন চেয়ে পাননি। এ ছাড়া কোনো কিছু চাইলে একজন আরেকজনকে নির্দেশ করেন।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments