চট্টগ্রামে হেফাজতের প্রচারাভিযানে যুবলীগের সশস্ত্র হামলা : আহত ২০
চট্টগ্রাম ব্যুরো
হেফাজতে ইসলামের প্রচারাভিযানে হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। এ হামলায় হেফাজতে ইসলামের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর লালখান বাজার মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা হেফাজতে ইসলামের একটি প্রচার গাড়িও জ্বালিয়ে দেয়। যুবলীগ ক্যাডার দিদারুল আলম মাসুম এ হামলায় নেতৃত্ব দেয় বলে অভিযোগ করেছে হেফাজতে ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, কাল শুক্রবার নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে হেফাজতে ইসলামের পূর্ব ঘোষিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় শানে রেসালত সম্মেলন ও ৫ মে ঢাকা অবরোধ সফল করতে গতকাল সকাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযানে নামে হেফাজতে ইসলাম। প্রচারের অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যায় হেফাজতের প্রচারাভিযানে অংশ নেয়া একটি গাড়িবহর লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা প্রচারকাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দিয়ে লালখান বাজার মাদরাসায় হামলার চেষ্টা করে। তবে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে হামলাকারীরা পিছু হটে। আধঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালালেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে হেফাজতের পক্ষ থেকে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, যুবলীগ সন্ত্রাসী দিদারুল আলম মাসুম বাহিনীর হামলায় তাদের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জনকে চমেকসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে মাওলানা হেলাল উদ্দিন ও সাফায়াত হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করে তিনি বলেন, আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় একাধিকবার পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগে ৮ এপ্রিল নগরীর ওয়াসা মোড়ে মাসুম বাহিনীর হামলায় হেফাজতে ইসলামের ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছিল। ওই হামলার সময় পুলিশের সামনেই একটি শটগান নিয়ে মাসুম হেফাজত কর্মীদের ওপর গুলি চালায়। |
Comments