জমি দখলে নিয়েছে ছাত্রলীগ


ধুনটে সংখ্যালঘুর 

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর ভাঙন জনপদে সংখ্যালঘু পরিবারের জায়গা দখল নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা বাড়ি তৈরির জন্য মাটি ভরাট করছে। এ ঘটনায় সংখ্যালঘু পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছাত্রলীগ নেতাকে নিষেধ করার পরও সেখানে কাজ চলছে। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের যমুনা নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্ব পাশে পুকুরিয়া মৌজার ১৮ শতক জমিতে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। পৈতৃক সূত্রে ওই জমির মালিক পুকুরিয়া গ্রামের প্রতাব সরকার, মনিন্দ্র নাথ সরকার, সুকুমার সরকার, সুবল চন্দ্র সরকার, ফনিন্দ্রনাথ সরকার ও বৈদ্যনাথ সরকার। যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে তারা ৬ ভাই অনেকদিন আগে পৈতৃক ভিটে ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ওই জমি পানির নিচে থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুমে তারা সেখানে বিভিন্ন ফসল চাষ করে। কিন্ু্ত ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক শ্রমিক দিয়ে ওই জমিতে মাটি ভরাট করছে। এ ঘটনায় প্রতাব সরকার বাদী হয়ে মঙ্গলবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ছাত্রলীগ নেতা পুকুরিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক জানান, তাদের ওয়ারিশের কাছ থেকে ১২ শতক জমি নিজ নামে কিনে নিয়েছেন। তাদের অংশের ৪ শতক জমি বাদ রেখে কেনা জমিতে বাড়ি করার জন্য মাটি ভরাট করা হচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জায়গা বেদখল করার অভিযোগ সঠিক না। তবে জমির দাম পরিশোধ করলেও রেজিস্ট্রি দলিল করা হয়নি।
প্রতাব সরকার জানান, অভিযোগ করার পর পুলিশ উভয় পক্ষকে দলিলপত্র নিয়ে থানায় যেতে বলেছিল। কিন্ু্ত ওই নেতা কোনো দলিলপত্র না দেখিয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া থানা থেকে অভিযোগপত্র তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল জানান, ওই জমির প্রকৃত মালিক প্রতাব সরকার ও তার ৫ ভাই। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করছে। তবে ওই নেতা কোন শর্তে জমির মালিকানা দাবি করছে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া উভয় পক্ষের কগজপত্র দেখে জমির মালিকানা নির্ধারণ করা হবে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়