জবরদস্তিমূলকভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপতে দিচ্ছে না সরকার
| পরের সংবাদ» |
আমার দেশ পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, উচ্চআদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জবরদস্তিমূলকভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপতে দিচ্ছে না সরকার। গত ১১ এপ্রিল সকালে পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করার পর রাতে অবৈধভাবে প্রেসে তালা লাগিয়ে দেয় ডিবি পুলিশ। এরপরও তিন দিন আইন অনুযায়ি বিকল্প পন্থায় পত্রিকা ছাপা হয়। কিন্তু গত ১৩ এপ্রিল রাতে আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে অভিযান চালিয়ে জবরদস্তিমূলভাবে পত্রিকা ছাপা বন্ধ করে দেয় এবং সার্কুলেশন ও প্রেস বিভাগের ১৯ জন কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা খাতুন ও আল ফালাহ প্রেসের কীপার ও সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ অবস্থায় পত্রিকা ছাপতে পারছি না।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে পত্রিকা প্রকাশে সব ধরনের বাধা দূর করা, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও প্রেস কর্মীদের মুক্তিসহ দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন আমার দেশ’র নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আমার দেশ’র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সালেহ উদ্দীন আহমেদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ফিচার সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহীম চৌধুরী প্রমুখ।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী সালেহ উদ্দীন বলেন, সরকার অবৈধভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপা বন্ধ করে দিয়েছে। পত্রিকার ছাপায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি আদালত অবমাননার শামিল। কারণ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছিল। আমার দেশ প্রকাশনা বন্ধ করে সরকার স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা পত্রিকা প্রকাশ করতে সক্ষম হবো। এক প্রশ্নের জবাবে সালেহ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রেস এ্যান্ড পাবলিকেশন্স আইন-১৯৭৩ অনুযায়ি নির্দিষ্ট প্রেসে পত্রিকা ছাপতে না পারলে অন্য কোনো প্রেসে পত্রিকা ছাপার ২৪ ঘন্টার মধ্যে জেলা প্রশাসককে জানাতে হবে। আমার দেশ কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘন্টার কম সময়ে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছে, যার কপি আমাদের কাছে রয়েছে। জেলা প্রশাসক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বিষয়টি গত ১২ এপ্রিলই স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি বলেন, আমার দেশ কর্তৃপক্ষ পত্রিকা অন্য প্রেস থেকে ছাপার ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেয়নি।
আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আইনে অনুমতি নেয়ার বিষয় নেই। বরং শুধু অবহিত করার বিধান রয়েছে, যা আমার দেশ কর্তৃপক্ষ করেছে। উপরন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার দেশ প্রকাশিত হওয়ার কারণে এর প্রকাশনা বাধাগ্রস্থ করা আদালত অবমাননার শামিল। এ বিষয়ে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইন ও সামাজিক রীতি-নীতি উপেক্ষা করে বর্বরভাবে কমান্ডো স্টাইলে গ্রেফতার, একটানা ১৩ দিন রিমান্ডে অত্যাচার ও আমার দেশ পত্রিকা ছাপা বন্ধ করে দেয়ার প্রেক্ষিতে আজকের এ সংবাদ সম্মেলন। আপনারা জানেন, ইতোপূর্বে ২০১০ সালের ১ জুন গভীর রাতে আমার দেশ বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ি দৈনিক আমার দেশ পুনরায় প্রকাশিত হয়ে আসছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ১১ জুন রাতে সার্চ ওয়ারেন্টের নামে আমার দেশ প্রেসে তল্লাশি ও এক পর্যায়ে সেটি তালাবদ্ধ করে পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাহত করা হয়। ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট অনুযায়ি আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে অস্থায়ীভাবে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। প্রেস ও পাবলিকেশন্স’র ধারা ৪(২)(বি) ও ১০ অনুযায়ী ঢাকা জেলা প্রশাসককে (জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট) অবহিত করা হয়, যার রিসিভড কপি আমাদের কাছে রয়েছে। গত ১২ ও ১৩ এপ্রিলের পত্রিকা প্রকাশিত হলেও ১৪ এপ্রিলে পত্রিকা প্রকাশের সময় (১৩ এপ্রিল রাত ১১ টার দিকে) পুলিশ আল ফালাহ প্রেসে অভিযান চালিয়ে আমার দেশ পত্রিকার মুদ্রণ কপি জব্দ করে প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়। সেখানে কর্মরত ১৯জন সংবাদপত্রকর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ৭৪ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা মাতা মাহমুদা বেগম এবং সংগ্রাম সম্পাদক ও আল ফালাহ প্রেসের কীপার জনাব আবুল আসাদকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা দায়ের করে।
আপনারা অবগত আছেন যে, এর আগে গত ১১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মাহমুদুর রহমানকে কারওয়ান বাজারস্থ আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় থেকে ডিবি ও তেজগাঁও থানা পুলিশ যৌথভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই সময়ে তিনি নাস্তা শেষে চা পান করছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে চা পান শেষ করতে দেয়নি। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তাকে পোশাক পরিধান করার সময় দেয়া হয়নি। পত্রিকা অফিসে অবস্থানরত সংবাদকর্মীদের মারধর এবং সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তুলতে বাঁধা দেয়। একটি গণতান্¿িক দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এহেন আচরণ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জেনেছি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে একটানা ১৩ দিন রিমান্ডে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। আমার দেশ’র সংবাদকর্মীরা এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। আমরা মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে শঙ্কায় আছি। এ ঘটনায় সংবাদকর্মীরা উদ্বিগ্ন।
আমার দেশ’র ছাপা বন্ধ করায় কার্যত বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ফলে আমার দেশ’র কেন্দ্রীয় অফিসে কর্মরত প্রায় তিনশ’ সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে কর্মরত আরও প্রায় ৫০০ সাংবাদিক ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বর্তমান সরকারের জবরদস্তি ও ফ্যাসিবাদী আচারণের ফলে সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।
সর্বশেষ আজও সাদা পোশাকধারী পুলিশ আমার দেশ কার্যালয়ের সামনে ও অভ্যর্থনা কক্ষে অবস্থান নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পত্রিকার সাংবাদিকদের অফিসে প্রবেশে হয়রানি ও বাঁধার সৃষ্টি করছে। আমার দেশ’র অনলাইন সংস্করণও পাঠকরা পড়তে পারছে না সরকারি বাঁধার কারণে। সরকার আমার দেশ’র প্রকাশনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা বা ডিক্লারেশন বাতিল না করলেও বেআইনীভাবে ছাপাখানা বন্ধসহ নানাভাবে পত্রিকা প্রকাশ যাতে বন্ধ থাকে তার সব পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা সরকারি এ পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছি।
আপনারা জানেন আমরা দেশ ‘স্বাধীনতার কথা বলে’ শ্লোগান নিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পক্ষে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিল। সরকারের দুর্নীতি, অপকর্ম ও সব ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদে সব সময়ে আমার দেশ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে সরকারের রোষানলে পড়েছে আমার দেশ।
আমরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি আস্থাশীল থেকে আইনী প্রক্রিয়ায় ও রাজপথে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত ও আমার দেশ পত্রিকা পুনরায় পাঠকদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ। এ লড়াই সংগ্রামে আমরা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী এবং অগণিত পাঠকদের পাশে পাব আশা করি। এ বিষয়ে সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে পত্রিকা প্রকাশে সব ধরনের বাধা দূর করা, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও প্রেস কর্মীদের মুক্তিসহ দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন আমার দেশ’র নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আমার দেশ’র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সালেহ উদ্দীন আহমেদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ফিচার সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহীম চৌধুরী প্রমুখ।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী সালেহ উদ্দীন বলেন, সরকার অবৈধভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপা বন্ধ করে দিয়েছে। পত্রিকার ছাপায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি আদালত অবমাননার শামিল। কারণ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছিল। আমার দেশ প্রকাশনা বন্ধ করে সরকার স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা পত্রিকা প্রকাশ করতে সক্ষম হবো। এক প্রশ্নের জবাবে সালেহ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রেস এ্যান্ড পাবলিকেশন্স আইন-১৯৭৩ অনুযায়ি নির্দিষ্ট প্রেসে পত্রিকা ছাপতে না পারলে অন্য কোনো প্রেসে পত্রিকা ছাপার ২৪ ঘন্টার মধ্যে জেলা প্রশাসককে জানাতে হবে। আমার দেশ কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘন্টার কম সময়ে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছে, যার কপি আমাদের কাছে রয়েছে। জেলা প্রশাসক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বিষয়টি গত ১২ এপ্রিলই স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি বলেন, আমার দেশ কর্তৃপক্ষ পত্রিকা অন্য প্রেস থেকে ছাপার ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেয়নি।
আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আইনে অনুমতি নেয়ার বিষয় নেই। বরং শুধু অবহিত করার বিধান রয়েছে, যা আমার দেশ কর্তৃপক্ষ করেছে। উপরন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার দেশ প্রকাশিত হওয়ার কারণে এর প্রকাশনা বাধাগ্রস্থ করা আদালত অবমাননার শামিল। এ বিষয়ে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইন ও সামাজিক রীতি-নীতি উপেক্ষা করে বর্বরভাবে কমান্ডো স্টাইলে গ্রেফতার, একটানা ১৩ দিন রিমান্ডে অত্যাচার ও আমার দেশ পত্রিকা ছাপা বন্ধ করে দেয়ার প্রেক্ষিতে আজকের এ সংবাদ সম্মেলন। আপনারা জানেন, ইতোপূর্বে ২০১০ সালের ১ জুন গভীর রাতে আমার দেশ বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ি দৈনিক আমার দেশ পুনরায় প্রকাশিত হয়ে আসছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ১১ জুন রাতে সার্চ ওয়ারেন্টের নামে আমার দেশ প্রেসে তল্লাশি ও এক পর্যায়ে সেটি তালাবদ্ধ করে পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাহত করা হয়। ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট অনুযায়ি আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে অস্থায়ীভাবে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। প্রেস ও পাবলিকেশন্স’র ধারা ৪(২)(বি) ও ১০ অনুযায়ী ঢাকা জেলা প্রশাসককে (জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট) অবহিত করা হয়, যার রিসিভড কপি আমাদের কাছে রয়েছে। গত ১২ ও ১৩ এপ্রিলের পত্রিকা প্রকাশিত হলেও ১৪ এপ্রিলে পত্রিকা প্রকাশের সময় (১৩ এপ্রিল রাত ১১ টার দিকে) পুলিশ আল ফালাহ প্রেসে অভিযান চালিয়ে আমার দেশ পত্রিকার মুদ্রণ কপি জব্দ করে প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়। সেখানে কর্মরত ১৯জন সংবাদপত্রকর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ৭৪ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা মাতা মাহমুদা বেগম এবং সংগ্রাম সম্পাদক ও আল ফালাহ প্রেসের কীপার জনাব আবুল আসাদকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা দায়ের করে।
আপনারা অবগত আছেন যে, এর আগে গত ১১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মাহমুদুর রহমানকে কারওয়ান বাজারস্থ আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় থেকে ডিবি ও তেজগাঁও থানা পুলিশ যৌথভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই সময়ে তিনি নাস্তা শেষে চা পান করছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে চা পান শেষ করতে দেয়নি। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তাকে পোশাক পরিধান করার সময় দেয়া হয়নি। পত্রিকা অফিসে অবস্থানরত সংবাদকর্মীদের মারধর এবং সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তুলতে বাঁধা দেয়। একটি গণতান্¿িক দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এহেন আচরণ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জেনেছি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে একটানা ১৩ দিন রিমান্ডে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। আমার দেশ’র সংবাদকর্মীরা এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। আমরা মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে শঙ্কায় আছি। এ ঘটনায় সংবাদকর্মীরা উদ্বিগ্ন।
আমার দেশ’র ছাপা বন্ধ করায় কার্যত বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ফলে আমার দেশ’র কেন্দ্রীয় অফিসে কর্মরত প্রায় তিনশ’ সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে কর্মরত আরও প্রায় ৫০০ সাংবাদিক ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বর্তমান সরকারের জবরদস্তি ও ফ্যাসিবাদী আচারণের ফলে সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।
সর্বশেষ আজও সাদা পোশাকধারী পুলিশ আমার দেশ কার্যালয়ের সামনে ও অভ্যর্থনা কক্ষে অবস্থান নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পত্রিকার সাংবাদিকদের অফিসে প্রবেশে হয়রানি ও বাঁধার সৃষ্টি করছে। আমার দেশ’র অনলাইন সংস্করণও পাঠকরা পড়তে পারছে না সরকারি বাঁধার কারণে। সরকার আমার দেশ’র প্রকাশনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা বা ডিক্লারেশন বাতিল না করলেও বেআইনীভাবে ছাপাখানা বন্ধসহ নানাভাবে পত্রিকা প্রকাশ যাতে বন্ধ থাকে তার সব পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা সরকারি এ পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছি।
আপনারা জানেন আমরা দেশ ‘স্বাধীনতার কথা বলে’ শ্লোগান নিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পক্ষে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিল। সরকারের দুর্নীতি, অপকর্ম ও সব ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদে সব সময়ে আমার দেশ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে সরকারের রোষানলে পড়েছে আমার দেশ।
আমরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি আস্থাশীল থেকে আইনী প্রক্রিয়ায় ও রাজপথে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত ও আমার দেশ পত্রিকা পুনরায় পাঠকদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ। এ লড়াই সংগ্রামে আমরা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী এবং অগণিত পাঠকদের পাশে পাব আশা করি। এ বিষয়ে সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।
Comments