যুবকের চোখ তুলে নিল আ.লীগ নেতার ক্যাডাররা!



ফরিদপুর অফিস | তারিখ: ২৯-০৪-২০১৩
ফরিদপুর শহরে গত শনিবার রাতে পাভেল মুন্সী নামের এক যুবকের বাম চোখ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁর ডান চোখটিও উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সেটি কোনোমতে রক্ষা পেয়েছে।
মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ এনে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুদ্দিন মিরাজের ক্যাডার বাহিনী পাভেলের ওপর এই নৃশংসতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাভেল ফরিদপুর শহরের শোভারামপুর মহল্লার করিম মুন্সীর ছেলে। তিনি পেশায় গাড়িচালক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে খায়রুদ্দিনের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ব্যাপারে তিনি থানায় মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, পাভেল সেটি চুরি করেছেন। এ নিয়ে পাভেলের পরিবারের সঙ্গে তাঁর একাধিক সালিস বৈঠকও হয়েছে।
পাভেলের মা পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, খায়রুদ্দিন ও তাঁর বাহিনীর লোকেরা মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ এনে তাঁর ছেলেকে শাসিয়ে আসছিল। পাভেলকে মোটরসাইকেলটি ফেরত অন্যথায় তাঁর হাত-পা কেটে চোখ তুলে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
পাভেলের বাবা করিম মুন্সীর ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ পাভেল শনিবার সন্ধ্যায় ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। পরে শহরের হাজী শরীয়তউল্লাহ বাজার এলাকার দেলোয়ার ফার্মেসির কাছ থেকে কয়েকজন যুবক তাঁকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়। শহরের গোয়ালচামট খোদাবক্স রোড এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনিতে নিয়ে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। পরে লোহার শিক দিয়ে তাঁর বাম চোখ উপড়ে ফেলা হয়।
পাভেলের বাবার অভিযোগ, খায়রুদ্দিনের নেতৃত্বেই এ ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি নিজেই কোতোয়ালি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পাভেলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সুমন সেন জানান, ভালো চিকিৎসা পেলে ডান চোখটি আংশিক ভালো হতে পারে। শনিবার রাতেই তাঁকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে খায়রুদ্দিন মিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি পাভেলের চোখ উপড়ে ফেলার সাথে জড়িত নই। আমি জানতে পেরেছি, মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়েই সে ধরা পড়ে এবং ক্রুদ্ধ জনতা তার চোখ উপড়ে ফেলে।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহসীনুল হক জানান, এ ঘটনায় কারও পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। জানতে চাইলে পাভেলের বাবা বলেন, পাভেল সুস্থ হয়ে উঠলে খায়রুদ্দিন ও তাঁর বাহিনীর সদস্যদের নামে মামলা করবেন তাঁরা।
এর আগেও খায়রুদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ৪ মে ফরিদপুরে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর ফরিদপুর প্রতিনিধি পান্না বালা এবং গত ১ মার্চ মন্ত্রীর বাড়ির সামনে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবদুল হালিমকে মারধর করেন তিনি।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়