চুল ঝরে কেন
- Get link
- X
- Other Apps
ফারহানা মোবিন | তারিখ: ১৬-০৪-২০১৩
চুল ঝরার কারণগুলো বুঝে যত্ন নিতে হবে চুলের। মডেল: রিবা,
ছবি: নকশা
হয়তো ভাবছেন, ঠিকমতো যত্ন নেওয়া হয় না তাই। আবার হতে পারে প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কেন পড়ছে চুল, সেটা নিয়ে ভেবে অনেকের খুব দুশ্চিন্তা। জেনে নিন কেন পড়তে পারে চুল।
পুষ্টিকর খাবারের অভাব, অতিরিক্ত প্রাণীজ আমিষ গ্রহণ (গরু বা খাসির মাংস), অতিরিক্ত শ্রম ও রাত জাগা, বিশ্রামের অভাব, দুশ্চিন্তা ও হতাশাতেও চুল পড়ে। তাই হতাশা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষের পরিবর্তে উদ্ভিজ আমিষ (যেমন: ছোলা, ডাল, বাদাম) ও শাকসবজি, ফলমূল বেশি করে খান।
পরিহার করতে হবে অতিরিক্ত রাত জাগা, আর পরিশ্রম করতে হবে নিজের দৈহিক ক্ষমতা বুঝে।
চুল অযত্ন-অবহেলায়ও নষ্ট হয়, ঝরে পড়ে। সঠিকভাবে চুল না আঁচড়ালে চুলের গোড়ায় ধুলা জমে। এভাবে ধুলা জমতে জমতে চুলে খুশকি, ছত্রাক তৈরি হয়। এভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল পড়ে যায়।
তাই নিয়মিত চুল আঁচড়ান। চুল নিয়মিত আঁচড়ালে প্রতিটি চুলের গোড়ার স্নায়ুগুলো সতেজ হয়। ফলে পুরো মাথায় রক্ত চলাচলও বেড়ে যায়। এতে চুল হয়ে ওঠে পুষ্টিসমৃদ্ধ। চুল পড়া কমে।
রিবন্ডিং বা রং করা চুলের জন্য নিতে হবে আলাদা যত্ন। চুলে রং করার ক্ষেত্রে রঙের মেয়াদ ও কী ধরনের চুলে কোন রং ব্যবহার করা যাবে তা খেয়াল রাখুন।
আয়রন ও ক্যালসিয়াম হলো চুলের পুষ্টির অন্যতম উপাদান। তাই আয়রন ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণটা খুব দরকার। গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের পরও অনেকের চুল পড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল, ছোট মাছ, দুধ, ডিম খান।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানি দেহের প্রতিটি প্রান্তে রক্তকে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এতে রক্ত চুলের গোড়ায় পৌঁছায়।
দীর্ঘ বছর ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলেও অনেকের চুল পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও চুল পড়ে। এ ক্ষেত্রে ৩০ বা ৩৫ বছর বয়সের পর এ ধরনের অসুবিধা হলে নিয়মিত (প্রতিবছর) হরমোন চেক করান।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও চুল ঝরে যায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ভীষণ জরুরি।
ভেজা চুলে ঘুমাবেন না। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। আর খেয়াল রাখুন, নিয়মিত যেন চুলের জট ছাড়ানো হয়। এতে মাথার ভেতরে অক্সিজেন সঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে।
অতিরিক্ত ধুলাবালু, রোদ থেকে রক্ষার জন্য মাথায় কাপড় বা পরিধেয় কাপড়ের সঙ্গে মানানসই ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলে ময়লা জমবে কম। চুল পড়ে যাওয়া কমবে।
মাঝেমধ্যে গোসলের পানিতে কয়েক ফোটা জীবাণুরোধী মিশিয়ে গোসল করুন। এতে চুলের গোড়ায় জমে থাকা রোগজীবাণু মরবে। গোসলের বালতি, মগ, বাথরুম, চিরুনি, চুলের ব্রাশ, ক্লিপও রাখুন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
মেনোপজ পর অর্থাৎ মাসিক বন্ধ হওয়ার পরও অনেকের চুল পড়তে থাকে। নারীদের দেহের অনেক জরুরি কিছু হরমোনের পরিমাণ কমে আসে। কারও কারও এই জন্য চুল পড়তে পারে। তাই মেনোপজ হওয়ার আগে ও পরে খাদ্যাভ্যাস, চুল ও ত্বকের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হোন। সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দীর্ঘদিন একই ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করলে চুল ঝরতে পারে। প্রসাধনী মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করুন।
হেয়ার ড্রায়ার বা চুল শুকানোর যন্ত্র যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করাই ভালো।
হেয়ার ড্রায়ার বা চুল শুকানোর যন্ত্র যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করাই ভালো।
লেখক: চিকিৎসক
পুষ্টিকর খাবারের অভাব, অতিরিক্ত প্রাণীজ আমিষ গ্রহণ (গরু বা খাসির মাংস), অতিরিক্ত শ্রম ও রাত জাগা, বিশ্রামের অভাব, দুশ্চিন্তা ও হতাশাতেও চুল পড়ে। তাই হতাশা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষের পরিবর্তে উদ্ভিজ আমিষ (যেমন: ছোলা, ডাল, বাদাম) ও শাকসবজি, ফলমূল বেশি করে খান।
পরিহার করতে হবে অতিরিক্ত রাত জাগা, আর পরিশ্রম করতে হবে নিজের দৈহিক ক্ষমতা বুঝে।
চুল অযত্ন-অবহেলায়ও নষ্ট হয়, ঝরে পড়ে। সঠিকভাবে চুল না আঁচড়ালে চুলের গোড়ায় ধুলা জমে। এভাবে ধুলা জমতে জমতে চুলে খুশকি, ছত্রাক তৈরি হয়। এভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল পড়ে যায়।
তাই নিয়মিত চুল আঁচড়ান। চুল নিয়মিত আঁচড়ালে প্রতিটি চুলের গোড়ার স্নায়ুগুলো সতেজ হয়। ফলে পুরো মাথায় রক্ত চলাচলও বেড়ে যায়। এতে চুল হয়ে ওঠে পুষ্টিসমৃদ্ধ। চুল পড়া কমে।
রিবন্ডিং বা রং করা চুলের জন্য নিতে হবে আলাদা যত্ন। চুলে রং করার ক্ষেত্রে রঙের মেয়াদ ও কী ধরনের চুলে কোন রং ব্যবহার করা যাবে তা খেয়াল রাখুন।
আয়রন ও ক্যালসিয়াম হলো চুলের পুষ্টির অন্যতম উপাদান। তাই আয়রন ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণটা খুব দরকার। গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের পরও অনেকের চুল পড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল, ছোট মাছ, দুধ, ডিম খান।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানি দেহের প্রতিটি প্রান্তে রক্তকে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এতে রক্ত চুলের গোড়ায় পৌঁছায়।
দীর্ঘ বছর ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলেও অনেকের চুল পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও চুল পড়ে। এ ক্ষেত্রে ৩০ বা ৩৫ বছর বয়সের পর এ ধরনের অসুবিধা হলে নিয়মিত (প্রতিবছর) হরমোন চেক করান।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও চুল ঝরে যায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ভীষণ জরুরি।
ভেজা চুলে ঘুমাবেন না। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। আর খেয়াল রাখুন, নিয়মিত যেন চুলের জট ছাড়ানো হয়। এতে মাথার ভেতরে অক্সিজেন সঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে।
অতিরিক্ত ধুলাবালু, রোদ থেকে রক্ষার জন্য মাথায় কাপড় বা পরিধেয় কাপড়ের সঙ্গে মানানসই ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলে ময়লা জমবে কম। চুল পড়ে যাওয়া কমবে।
মাঝেমধ্যে গোসলের পানিতে কয়েক ফোটা জীবাণুরোধী মিশিয়ে গোসল করুন। এতে চুলের গোড়ায় জমে থাকা রোগজীবাণু মরবে। গোসলের বালতি, মগ, বাথরুম, চিরুনি, চুলের ব্রাশ, ক্লিপও রাখুন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
মেনোপজ পর অর্থাৎ মাসিক বন্ধ হওয়ার পরও অনেকের চুল পড়তে থাকে। নারীদের দেহের অনেক জরুরি কিছু হরমোনের পরিমাণ কমে আসে। কারও কারও এই জন্য চুল পড়তে পারে। তাই মেনোপজ হওয়ার আগে ও পরে খাদ্যাভ্যাস, চুল ও ত্বকের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হোন। সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দীর্ঘদিন একই ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করলে চুল ঝরতে পারে। প্রসাধনী মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করুন।
হেয়ার ড্রায়ার বা চুল শুকানোর যন্ত্র যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করাই ভালো।
হেয়ার ড্রায়ার বা চুল শুকানোর যন্ত্র যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করাই ভালো।
লেখক: চিকিৎসক
- Get link
- X
- Other Apps
Comments