আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনা স্থগিত
- Get link
- X
- Other Apps
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৬-০৪-২০১৩
পুলিশের ‘বেআইনি’ হস্তক্ষেপে আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পত্রিকাটির পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে বলা হয়, যেহেতু উচ্চ আদালতের নির্দেশে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রয়েছে, সেহেতু পত্রিকাটি প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করাটা আসলে আদালত অবমাননার শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, এর আগে ২০১০ সালের জুন মাসে আমার দেশ বন্ধ ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পত্রিকাটি পুনরায় প্রকাশিত হয়ে আসছিল। গত ১১ জুন সার্চ ওয়ারেন্টের নামে পত্রিকাটির প্রেসে তল্লাশি চালানো হয় এবং পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাহত করার জন্য একপর্যায়ে প্রেসটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অব্যাহত বাধার মুখে সব প্রস্তুতি থাকলেও পত্রিকা ছাপা সম্ভব হচ্ছে না।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস (দৈনিক সংগ্রাম-এর প্রেস) থেকে অস্থায়ীভাবে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। প্রেস ও পাবলিকেশন্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ঢাকার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। এরপর দুই দিন পত্রিকা প্রকাশিত হলেও ১৪ এপ্রিলের পত্রিকা ছাপার সময় ১৩ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে পুলিশ আল ফালাহ প্রেসে অভিযান চালিয়ে পত্রিকার মুদ্রিত কপি জব্দ করে এবং প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়।
লিখিত বক্তব্যে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করে বলা হয়, রিমান্ডের নামে পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতন করা হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে লিখিত বক্তব্যে আইনি প্রক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করে আনা এবং পত্রিকাটি আবারও পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকাটির সাহিত্য সম্পাদক হাসান হাফিজ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, আইনজীবী সালাহউদ্দিন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মাহমুদুরের বাসায় খালেদা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত রোববার রাতে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বাসায় যান। সেখানে তিনি মাহমুদুরের মা ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দেন।
সাংবাদিকদের গণ-অনশন: মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। তিনি বলেন, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলেও সাগর-রুনিসহ কোনো সাংবাদিক হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও আমার দেশ পত্রিকার প্রেস খুলে দেওয়ার দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে বক্তৃতা করেন আবদুস শহীদ, বাকের হোসাইন, ইলিয়াস খান প্রমুখ।
কর্মসূচি শেষে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংগ্রাম সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা: ছাপাখানায় বেআইনিভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এর সম্পাদক আবুল আসাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় আমার দেশ পাবলিকেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগমকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি মাহমুদুর রহমানের মা। গত শনিবার রাতে প্রিন্টিং প্রেস অ্যাক্টের আওতায় সহকারী কমিশনার (প্রকাশনা) নাসরীন সুলতানা রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করেন। মাহমুদা বেগম গতকাল হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উদ্বেগ: আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশে বাধা ও পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংস্থাটি বলেছে, গণমাধ্যম ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে আমার দেশ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদের নামে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে, যার ফলে সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আসক গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ যেমন নৈতিকভাবে সমর্থন করে না, তেমনি স্বাধীনতার অপব্যবহারও কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, এর আগে ২০১০ সালের জুন মাসে আমার দেশ বন্ধ ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পত্রিকাটি পুনরায় প্রকাশিত হয়ে আসছিল। গত ১১ জুন সার্চ ওয়ারেন্টের নামে পত্রিকাটির প্রেসে তল্লাশি চালানো হয় এবং পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাহত করার জন্য একপর্যায়ে প্রেসটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অব্যাহত বাধার মুখে সব প্রস্তুতি থাকলেও পত্রিকা ছাপা সম্ভব হচ্ছে না।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস (দৈনিক সংগ্রাম-এর প্রেস) থেকে অস্থায়ীভাবে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। প্রেস ও পাবলিকেশন্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ঢাকার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। এরপর দুই দিন পত্রিকা প্রকাশিত হলেও ১৪ এপ্রিলের পত্রিকা ছাপার সময় ১৩ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে পুলিশ আল ফালাহ প্রেসে অভিযান চালিয়ে পত্রিকার মুদ্রিত কপি জব্দ করে এবং প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়।
লিখিত বক্তব্যে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করে বলা হয়, রিমান্ডের নামে পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতন করা হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে লিখিত বক্তব্যে আইনি প্রক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করে আনা এবং পত্রিকাটি আবারও পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকাটির সাহিত্য সম্পাদক হাসান হাফিজ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, আইনজীবী সালাহউদ্দিন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মাহমুদুরের বাসায় খালেদা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত রোববার রাতে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বাসায় যান। সেখানে তিনি মাহমুদুরের মা ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দেন।
সাংবাদিকদের গণ-অনশন: মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। তিনি বলেন, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলেও সাগর-রুনিসহ কোনো সাংবাদিক হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও আমার দেশ পত্রিকার প্রেস খুলে দেওয়ার দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে বক্তৃতা করেন আবদুস শহীদ, বাকের হোসাইন, ইলিয়াস খান প্রমুখ।
কর্মসূচি শেষে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংগ্রাম সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা: ছাপাখানায় বেআইনিভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এর সম্পাদক আবুল আসাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় আমার দেশ পাবলিকেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগমকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি মাহমুদুর রহমানের মা। গত শনিবার রাতে প্রিন্টিং প্রেস অ্যাক্টের আওতায় সহকারী কমিশনার (প্রকাশনা) নাসরীন সুলতানা রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করেন। মাহমুদা বেগম গতকাল হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উদ্বেগ: আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশে বাধা ও পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংস্থাটি বলেছে, গণমাধ্যম ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে আমার দেশ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদের নামে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে, যার ফলে সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আসক গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ যেমন নৈতিকভাবে সমর্থন করে না, তেমনি স্বাধীনতার অপব্যবহারও কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments