Posts

Showing posts with the label রাজনীতি

সরকার, তুমি তার

Image
আনিসুল হক  |  আপডেট: ০০:০৭, মে ৩০, ২০১৪  |  প্রিন্ট সংস্করণ ১ Like ৭       আনিসুল হক  |  আপডেট: ০০:০৭, মে ৩০, ২০১৪  |  প্রিন্ট সংস্করণ ১ Like ৭       পরবর্তী অংশ এই গল্পটা বলেছিলেন আব্রাহাম লিংকন। আব্রাহাম লিংকন সবে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। গৃহযুদ্ধের পরে। দলে দলে লোকে তাঁর কাছে এসে বলতে লাগল, ‘আমরা দেশের জন্য অনেক স্বার্থ ত্যাগ করেছি। পদ চাই। আমাদের মূল্যায়ন করুন।’ তখন আব্রাহাম লিংকন এই গল্পটা করেন। এক রাজা বেরোবেন শিকারে। তিনি মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজকের আবহাওয়া কেমন? পথে ঝড়বৃষ্টি হবে না তো?’ মন্ত্রী বললেন, ‘না না, আজ ঝড়বৃষ্টি হবে না। আবহাওয়া চমৎকার।’ কিছুদূর যাওয়ার পর এক ধোপার সঙ্গে দেখা। ধোপা বললেন, ‘রাজামশাই, বেশ তো চলেছেন, কিন্তু সামনে তো ঝড়বৃষ্টি হবে।’ রাজা এগোলেন। ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়লেন। তখন তিনি ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে সেই পদে বসালেন ধোপাকে। ধোপা বললেন, ‘রাজামশাই, যখন ঝড়বৃষ্টি হয়, তখন আমার গাধার কান নড়ে। গাধার কান নড়া দেখে আমি বুঝেছিলাম, আজ বৃষ্টি হবে।’...

জীবন গৌণ, ক্ষমতা আর লালসাই মুখ্য

শাহদীন মালিক  |  আপডেট: ০০:০৬, মে ০৫, ২০১৪  |  প্রিন্ট সংস্করণ ১   Like ২           পূর্ববর্তী অংশ হলেও, খোদ প্রধানমন্ত্রীও একই গোছের কথা বলেছেন। গুম, অপহরণ আর চারদিকের লাশের জন্য দায়ী বিরোধীরা। খালেদা জিয়াও এ দেশেরই রাজনৈতিক মহাব্যক্তিত্ব। তিনিই বা কম যাবেন কেন? তাঁর বিবেচনায় গুম, অপহরণ, হত্যা—এসবই সরকারি দলের কাজ। উভয়ের কথাই হয়তো সত্য। অর্থাৎ আমাদের রাজনৈতিক দল নেই। আছে দুটো বৃহৎ মাফিয়া চক্র। গুম, অপহরণ আর হত্যার প্রথম প্রকাশ্য আইনগত লাইসেন্স দেওয়া হয় গত বিএনপি সরকারের আমলে প্রণীত—অর্থাৎ খোদ জাতীয় সংসদ দ্বারা প্রণীত এবং পাসকৃত যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে। ওই আইনের মাধ্যমে ২০০২-এর অক্টোবর থেকে ২০০৩-এর মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত তথাকথিত অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় যেসব ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত, আহত-পঙ্গু হয়েছিলেন এবং যাঁদের সহায়সম্পত্তি বিনষ্ট হয়েছিল, তাঁরা কেউই কোনো কারণে ওই সব অপরাধের জন্য বিচার চাইতে পারবেন না। আমাদের মহান জাতীয় সংসদ আইন করে বলে দিল, এ দেশে যাঁরা আইনশৃঙ...

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নিবন্ধ : বাংলাদেশে রাজনীতিতে আ.লীগ খেকশিয়াল আর বিএনপি সিংহ : এখন শিয়ালের দিন কিন্তু আঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সিংহ, আওয়ামী লীগের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ভারতের ভাগ্য

Image
ইলিয়াস হোসেন « আগের সংবাদ 193 বাংলাদেশে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ‘খেকশিয়াল’ আর বিএনপিকে ‘সিংহ’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটি বলছে, বাংলাদেশে এখন শিয়ালের দিন কিন্তু আঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সিংহ। গতকাল পত্রিকাটির ভারতীয় সংস্করণ বাণিজ্যিক দৈনিক মিন্টের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই মন্তব্য করা হয়। ‘ফক্স অ্যান্ড লায়ন ইন বাংলাদেশ : ইডিওলজিক্যাল রাইভালরি ইজ রেসপন্সিবল ফর ভোলাটিলিটি ইন ইন্ডিয়া’স ইস্টার্ন নেইবার (বাংলাদেশের খেকশিয়াল ও সিংহ : ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী আদর্শিক দ্বন্দ্ব)’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে এই মন্তব্য করা হয়। উল্লেখ্য, চতুর, দুর্বৃত্ত, ধূর্ত অর্থেও ফক্স বা খেকশিয়াল কথাটি ব্যবহৃত হয়। সিংহ কথাটি সাধারণত এর বিপরীত অর্থ বহন করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে বিএনপি হলো সিংহের দল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ হলো খেকশিয়ালের আস্তানা। এই শ্রেণীকরণকে অনেকে সরলীকরণ করতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে বিভক্ত দেশটির অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বোঝা ...

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়

আর কয়েক দিন পরই বাঙালির গৌরবের কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী। আর এর কয়েক মাস পরই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাইজ লাভের শতবর্ষ উদ্যাপনের জন্য যে সময় বাংলাদেশের মানুষের ব্যস্ত থাকার কথা, সেই সময় আমরা যে অবস্থায় বেঁচে আছি, এ অবস্থাকে কোনোমতেই একটি সভ্য দেশের মানুষের বেঁচে থাকা বলা যায় না। বরং বলা যায়, প্রাণটা বেরোচ্ছে না বলেই বেঁচে আছি। প্রতিদিন রাস্তায় বেরোলে যানজট, ছিনতাই, দুর্ঘটনা আর প্রতিনিয়ত লাফিয়ে চলা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে রোজগারের সঙ্গে হিসাব মেলাতে গিয়ে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে। কম খেয়ে, পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেয়ে বিরামহীন অসুস্থতা আমাদের তাড়িত করছে। সুচিকিৎসার গ্যারান্টি নেই; আছে ভুয়া ডাক্তারের গলাকাটা ভিজিট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্য আর কোচিং 'ডোনেশন'-এর খৰ ঝুলছে আমাদের মাথার ওপর। সর্বোপরি চাকরি ক্ষেত্রে 'কালো বিড়াল'দের দৌরাত্ম্য। একই বছর কয়বার তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়বে, তা স্বয়ং দেশের কর্তাব্যক্তিরাও আজ বলতে অপারগ। পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন দলের নেতা ও 'বড়ভাই'দের বিরক্তিকর অভিভাবকত্ব। বিভিন্ন রাজনৈতি...

কিছুই তো বদলাল না

Image
এ কে এম জাকারিয়া |  তারিখ: ২৯-০৩-২০১৩ ০ মন্তব্য প্রিন্ট ShareThis পরের সংবাদ» হরতালে অগ্নিদগ্ধ গাড়ি ‘আমি এই সিদ্ধান্তে এসেছি, রাজনীতি বিষয়টা এতটাই সিরিয়াস যে তা রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।’ এই বোধোদয় ফরাসি জেনারেল ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রেঞ্চ ফিফথ রিপাবলিকের প্রতিষ্ঠাতা চার্লস দ্য গলের। যার রয়েছে দুই-দুটি বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণের এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। রাজনীতি তবে কার হাতে ছাড়তে হবে? আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলছে, রাজনীতিটা রাজনীতিবিদেরাই করবেন, কিন্তু সুতাটি থাকবে জনগণের এবং তাদের পক্ষে বিভিন্ন সামাজিক শক্তির হাতে। তাঁরা কোনো রাজনীতিককে টেনে তুলবেন, আবার কাউকে নামাবেন। রাজনীতির মতো ‘সিরিয়াস’ বিষয়টি তাই গণতান্ত্রিক দেশে শুধু রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। আমাদের দেশে গণতন্ত্র কার্যকর রয়েছে। এখানেও রাজনীতিবিদেরাই রাজনীতি করেন, কিন্তু রাজনীতি বিষয়টি যে পুরো তাঁদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি, সেটা সম্ভবত তাঁরা ভুলে যান। সে কারণে তাঁরা যখন বেশি ‘রাজনীতি’ করতে যান, যখন রাজনীতিটাকে পুরো দখল ক...

পরিস্থিতি সবাইকে ভাবাচ্ছে

Image
ফরহাদ মজহার : বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে সবাইকে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও শক্তিও নতুন পরিস্থিতিতে নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে। ভীতসন্ত্রস্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণী দুই পক্ষের মধ্যে কোন একটা সমঝোতার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে শশব্যস্ত। তারা চাইছে রাজনীতির প্রধান দুই প্রতিপক্ষ সংলাপে বসুক। কোন একটা ফর্মুলা বের করে নির্বাচন করুক। হীনবীর্য পাতিবুর্জোয়া নীতিবাগীশরা যথারীতি সহিংসতা নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্কে আসর গুলজার করে রেখেছে। জামায়াত-শিবিরকে  দানব বানাবার কাজে  সকল সৃষ্টিশীলতা ব্যয় করতে তারা কসুর করছে না, যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার ট্রিগার হ্যাপি পুলিশ বাহিনী দিয়ে জামাতি দানবদের  আরও নিখুঁত টার্গেটে হত্যা করতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত বিরোধী মওলানা মাশায়েখ ও বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে তারা কাতর ভাবে বোঝানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যে তারা ‘নাস্তিক’ নয়। বাংলাদেশে নাস্তিক সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। বাংলাদেশের এখনকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের এটা মোটেও মূল বিষয় নয়। রাজনীতিতে শুধু সেই নাস্তিকদেরই তাদের প্রতিপক্ষ গণদুশমন হিসেবে চিহ্নিত করেছে যারা ভিন্ন বিশ্বাসের মান...

পরিস্থিতি সবাইকে ভাবাচ্ছে

Image
ফরহাদ মজহার : বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে সবাইকে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও শক্তিও নতুন পরিস্থিতিতে নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে। ভীতসন্ত্রস্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণী দুই পক্ষের মধ্যে কোন একটা সমঝোতার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে শশব্যস্ত। তারা চাইছে রাজনীতির প্রধান দুই প্রতিপক্ষ সংলাপে বসুক। কোন একটা ফর্মুলা বের করে নির্বাচন করুক। হীনবীর্য পাতিবুর্জোয়া নীতিবাগীশরা যথারীতি সহিংসতা নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্কে আসর গুলজার করে রেখেছে। জামায়াত-শিবিরকে  দানব বানাবার কাজে  সকল সৃষ্টিশীলতা ব্যয় করতে তারা কসুর করছে না, যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার ট্রিগার হ্যাপি পুলিশ বাহিনী দিয়ে জামাতি দানবদের  আরও নিখুঁত টার্গেটে হত্যা করতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত বিরোধী মওলানা মাশায়েখ ও বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে তারা কাতর ভাবে বোঝানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যে তারা ‘নাস্তিক’ নয়। বাংলাদেশে নাস্তিক সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। বাংলাদেশের এখনকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের এটা মোটেও মূল বিষয় নয়। রাজনীতিতে শুধু সেই নাস্তিকদেরই তাদের প্রতিপক্ষ গণদুশমন হিসেবে চিহ্নিত করেছে যারা ভিন্ন বিশ্বাসের ...

দলমত যার যার কিন্তু রাষ্ট্রটি সবার

Image
আলী ইমাম মজুমদার |  তারিখ: ০৭-০৩-২০১৩ ০ মন্তব্য প্রিন্ট ShareThis « আগের সংবাদ পরের সংবাদ» শাহবাগের জাগরণ মঞ্চ থেকে একটি স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। তা হলো ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এর মর্মার্থ বিনা দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য। এটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাও বটে। আর যেকোনো আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শনও তা-ই। পাশাপাশি বলা যায়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নানা মত ও পথ থাকতে পারে। থাকতে পারে বিভিন্ন আদর্শের দল। এ ধরনের থাকাটাই স্বাভাবিক। আর অত্যন্ত বাস্তব সত্য হচ্ছে, রাষ্ট্রটি সবার। এ রাষ্ট্রের ভালো-মন্দের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এর সব নাগরিকের ভাগ্য। রাজনৈতিক বিশ্বাস ভিন্ন হলে তাকে সমালোচনা করা চলে। বলা যায়, সে মতবাদ ভুল ও দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়। জোর করে তার মতবাদ কেউ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। কোন মতবাদটি সঠিক, তা সময়ে সময়ে জনগণ নির্ধারণ করে নেয় ভোটের মাধ্যমে। কেননা, দেশটির প্রকৃত মালিক তারাই। দেশপ্রেমের ওপর কারও একচেটিয়া অধিকার নেই। প্রাথমিকভাবে ধরে নিতে হবে, সবাই দেশটিকে ভালোবাসেন। এর কল্যাণ চান। কেননা, আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এর কল্যাণের সঙ্গে জড়িত রয়েছে রাষ্ট্রে...