দেশের জনগণকে জেগে ওঠার আহ্বান : অন্যায়-দুর্নীতির সমালোচনা করায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার : ফরহাদ মজহার
এরশাদুল বারী
| পরের সংবাদ» |
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক, কবি ও লেখক, রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার চরম ফ্যাসিস্ট রূপান্তর এবং সরকার, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সব স্তর দুর্নীতিতে সয়লাব হয়েছে। আর কঠোর ভাষায় তার সমালোচনা করায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল আমার দেশ সম্পাদককে গ্রেফতারের সংবাদ জানার পর কার্যালয়ে সংবাদকর্মীদের খোঁজ-খবর নিতে এসে এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব বলেন।
একজন সম্পাদককে তার কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া এবং সংবাদপত্রের কর্মীদের নির্যাতন করা নাগরিক ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার জন্য দেশের জনগণকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। আমার দেশ-এর ওপর এ আঘাত মানে পুরো গণমাধ্যমের ওপরই আঘাত—যোগ করেন তিনি। ফরহাদ মজহার বলেন, নিঃসন্দেহে মত প্রকাশের দিক থেকে দেশের প্রতিটি গণমাধ্যম তাদের নিজস্ব নীতির ওপর চলে। কিন্তু এভাবে গণমাধ্যমের ওপর হামলা চলতে থাকলে এবং রাষ্ট্র যে পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, তাতে রাষ্ট্রের কোনো সংবাদ মাধ্যম স্বাধীনভাবে তাদের সংবাদপত্র চালাতে পারবে না। আমার দেশ-এর অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, দেশে একমাত্র তারাই সত্যিকার অর্থে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম চালাতে পারবেন, যারা এই সরকারকে সমর্থন করেন। এই সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলতে পারবেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যম চালাবেন। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য জনগণের জন্য এটা মঙ্গলজনক হতে পারে না। এটা বাংলাদেশকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থানে এবং খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী এটা মেনে নিতে পারে না। এটা বর্বরতা ও মধ্যযুগীয় ঘটনা। তিনি বলেন, যারা এটাকে তুচ্ছ বা অন্যদের ওপর হামলা বলে মনে করছেন, তাদের বোঝা দরকার এ ঘটনা শুধু গণমাধ্যমের ওপরই নয়, গণতন্ত্রের ওপর একটা প্রচণ্ড আঘাত। আমাদের বুঝতে হবে, সমাজে বিভিন্ন মত-পথ ও চিন্তা থাকতে পারে। এসব ভিন্নমত মেনে নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগুতে হবে। আমার দেশ-এর ব্যাপারে অনেকের মত বা ভিন্ন বক্তব্য থাকতে পারে। কিন্তু আমরা দেখলাম, সমাজের একটি অংশ তাকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছিল এবং নিন্দা জানিয়েছিল। এটার কারণও আছে। তারা সংক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষুব্ধতার কারণে মত প্রকাশের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো উচিত নয়। আমরা সমঝোতার মাধ্যমে এর সমাধান করতে পারি। লেখালেখির মাধ্যমে বিরোধিতা করতে পারি। কিন্তু যদি আমরা রাষ্ট্রকে এক্ষেত্রে ব্যবহার করি সংবাদপত্র বন্ধ করতে, তার ওপর নির্যাতন করতে, তাহলে এই আক্রমণ আজ হোক, কাল হোক, অন্য পত্রিকা বা গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হতে পারে। আমরা কীভাবে চিন্তা করতে পারি—আগামী দিনে ভিন্ন একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে না, তারা অন্য পত্রিকার ওপর আক্রমণ করবে না। দেশের সচেতন নাগরিকদের বলব বিষয়টি ভেবে দেখতে। এমন অবস্থায় যদি আমরা একটি জায়গায় দাঁড়াতে পারি, দেশের জনগণ যদি জেগে ওঠে, তাহলে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য তিনি দেশের জনগণকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। তা না হলে আমরা দু’পক্ষে বিভক্ত হব। হিংসা বেড়ে যাবে। দেশের ভবিষ্যত্ কঠিন খারাপের দিকে ধাবিত হবে।
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, সরকার এরই মধ্যে আকার-ইঙ্গিত ও বিরোধী দলকে নিপীড়নের মাধ্যমে নিজের চরিত্র দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে তারা সহিংসতা ও বল প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। বলা বাহুল্য, এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে পৃথিবীর কোনো রাজারাজড়া ও সরকারই সফল হয়নি। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সরকার বিদ্যমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতাকে আরও উস্কে দিল এবং মত প্রকাশকে রুদ্ধ করে জনগণকে আরও কঠোর পথে তাদের অধিকার আদায় করে নিতে বাধ্য করল।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে এর আগেও সরকার গ্রেফতার, রিমান্ড, নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা করেছিল। আমরা তার জীবনের জন্য আশঙ্কা করছি। তার জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আশা করব, সারা দেশে জনগণ এর বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সোচ্চার হবে। তিনি বলেন, জনগণের কথা বলে—এমন পত্রিকার উপস্থিতি সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য বিপজ্জনক মনে করে। সরকার মূলত আমার দেশকে বন্ধ করে দিতে চায়। ফলে পত্রিকা বন্ধ করলে এতে আশ্চর্য হব না। সেক্ষেত্রে সব পত্রিকার সম্পাদক ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আবেদন করব, এর বিরুদ্ধে তারা যেন তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। তাছাড়া পত্রিকা বন্ধ হলে এর সহস্রাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবিকানির্বাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এই পত্রিকা বন্ধ করা মানে তাদের জীবনের ওপর চরম আঘাত হানা। তাদের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে। এটা হতে পারে না।
একজন সম্পাদককে তার কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া এবং সংবাদপত্রের কর্মীদের নির্যাতন করা নাগরিক ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার জন্য দেশের জনগণকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। আমার দেশ-এর ওপর এ আঘাত মানে পুরো গণমাধ্যমের ওপরই আঘাত—যোগ করেন তিনি। ফরহাদ মজহার বলেন, নিঃসন্দেহে মত প্রকাশের দিক থেকে দেশের প্রতিটি গণমাধ্যম তাদের নিজস্ব নীতির ওপর চলে। কিন্তু এভাবে গণমাধ্যমের ওপর হামলা চলতে থাকলে এবং রাষ্ট্র যে পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, তাতে রাষ্ট্রের কোনো সংবাদ মাধ্যম স্বাধীনভাবে তাদের সংবাদপত্র চালাতে পারবে না। আমার দেশ-এর অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, দেশে একমাত্র তারাই সত্যিকার অর্থে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম চালাতে পারবেন, যারা এই সরকারকে সমর্থন করেন। এই সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলতে পারবেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যম চালাবেন। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য জনগণের জন্য এটা মঙ্গলজনক হতে পারে না। এটা বাংলাদেশকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থানে এবং খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী এটা মেনে নিতে পারে না। এটা বর্বরতা ও মধ্যযুগীয় ঘটনা। তিনি বলেন, যারা এটাকে তুচ্ছ বা অন্যদের ওপর হামলা বলে মনে করছেন, তাদের বোঝা দরকার এ ঘটনা শুধু গণমাধ্যমের ওপরই নয়, গণতন্ত্রের ওপর একটা প্রচণ্ড আঘাত। আমাদের বুঝতে হবে, সমাজে বিভিন্ন মত-পথ ও চিন্তা থাকতে পারে। এসব ভিন্নমত মেনে নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগুতে হবে। আমার দেশ-এর ব্যাপারে অনেকের মত বা ভিন্ন বক্তব্য থাকতে পারে। কিন্তু আমরা দেখলাম, সমাজের একটি অংশ তাকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছিল এবং নিন্দা জানিয়েছিল। এটার কারণও আছে। তারা সংক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষুব্ধতার কারণে মত প্রকাশের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো উচিত নয়। আমরা সমঝোতার মাধ্যমে এর সমাধান করতে পারি। লেখালেখির মাধ্যমে বিরোধিতা করতে পারি। কিন্তু যদি আমরা রাষ্ট্রকে এক্ষেত্রে ব্যবহার করি সংবাদপত্র বন্ধ করতে, তার ওপর নির্যাতন করতে, তাহলে এই আক্রমণ আজ হোক, কাল হোক, অন্য পত্রিকা বা গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হতে পারে। আমরা কীভাবে চিন্তা করতে পারি—আগামী দিনে ভিন্ন একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে না, তারা অন্য পত্রিকার ওপর আক্রমণ করবে না। দেশের সচেতন নাগরিকদের বলব বিষয়টি ভেবে দেখতে। এমন অবস্থায় যদি আমরা একটি জায়গায় দাঁড়াতে পারি, দেশের জনগণ যদি জেগে ওঠে, তাহলে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য তিনি দেশের জনগণকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। তা না হলে আমরা দু’পক্ষে বিভক্ত হব। হিংসা বেড়ে যাবে। দেশের ভবিষ্যত্ কঠিন খারাপের দিকে ধাবিত হবে।
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, সরকার এরই মধ্যে আকার-ইঙ্গিত ও বিরোধী দলকে নিপীড়নের মাধ্যমে নিজের চরিত্র দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে তারা সহিংসতা ও বল প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। বলা বাহুল্য, এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে পৃথিবীর কোনো রাজারাজড়া ও সরকারই সফল হয়নি। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সরকার বিদ্যমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতাকে আরও উস্কে দিল এবং মত প্রকাশকে রুদ্ধ করে জনগণকে আরও কঠোর পথে তাদের অধিকার আদায় করে নিতে বাধ্য করল।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে এর আগেও সরকার গ্রেফতার, রিমান্ড, নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা করেছিল। আমরা তার জীবনের জন্য আশঙ্কা করছি। তার জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আশা করব, সারা দেশে জনগণ এর বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সোচ্চার হবে। তিনি বলেন, জনগণের কথা বলে—এমন পত্রিকার উপস্থিতি সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য বিপজ্জনক মনে করে। সরকার মূলত আমার দেশকে বন্ধ করে দিতে চায়। ফলে পত্রিকা বন্ধ করলে এতে আশ্চর্য হব না। সেক্ষেত্রে সব পত্রিকার সম্পাদক ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আবেদন করব, এর বিরুদ্ধে তারা যেন তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। তাছাড়া পত্রিকা বন্ধ হলে এর সহস্রাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবিকানির্বাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এই পত্রিকা বন্ধ করা মানে তাদের জীবনের ওপর চরম আঘাত হানা। তাদের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে। এটা হতে পারে না।
Comments