হলে ঢুকে বুয়েট ছাত্রকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা, আটক ১
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হলে ঢুকে এক ছাত্রকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। মৃতপ্রায় ওই ছাত্র রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ ঘটনায় হলের নিরাপত্তা প্রহরীকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ। গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ওই ছাত্রের নাম আরিফ রায়হান দীপ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সদস্য। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না বুয়েট প্রশাসন। তবে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নজরুল ইসলাম হলের ২২৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন দীপ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা তিন থেকে চারজনের একটি দুর্বৃত্ত দল রুমে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার চিত্কারে পাশের কক্ষের ছাত্ররা এগিয়ে এলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে তাকে মেডিকেলের আইসিইউতে রাখা হয়। দুপুর দেড়টা নাগাদ ওই ছাত্রের অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক পীযূষ কান্তি মিত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আরিফের মাথায় দুটি ও পিঠে দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। সব মিলিয়ে তার শরীরে প্রায় ৫০টি সেলাই লেগেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বাম চোখ উঠে গেছে বলে জানান পীযূষ কান্তি । এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী জানান, দীপের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কে বা কারা তাকে কুপিয়েছে এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। সহপাঠী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপ বুয়েট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। ক্যাম্পাসে সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর দীপ, সুজিত, মিঠুন ও লিমন মিলে ০৬ ব্যাচের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়। এর প্রতিবাদে তিন দিন টানা আন্দোলন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর একই ব্যাচের আরও দুই ছাত্রকে মারধর করেন দীপ। সবশেষ গত ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ও সমাবেশে যোগ দেয়ায় শহীদ স্মৃতি হলের ইমাম হাফেজ আবদুল আলিমকে পিটিয়ে আহত করে এই ছাত্রলীগ ক্যাডার দীপ ও তন্ময়। এছাড়া পলাশী বাজারের চাঁদাবাজির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রলীগ ক্যাডারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানান তারা।
Comments