সোনারগাঁয়ে এক ঘরে চারজনকে জবাই করে হত্যা



সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি | তারিখ: ২১-০৪-২০১৩
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও শ্যালকসহ চারজনকে গত শুক্রবার রাতে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বাড়ির নৈশপ্রহরীকে আটক করেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন চেয়ারম্যানের স্ত্রী শামীমা ইসলাম সোমা (৪১) ও শামীমার ছোট ভাই রানা ইসলাম (২৭) এবং বাড়ির দুই গৃহপরিচারিকা রেখা আক্তার (২২) ও মনি আক্তার (১৪)। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির নৈশপ্রহরী আবদুস সাত্তারকে আটক করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম দেশের বাইরে আছেন। উপজেলার ঝাউচর গ্রামে তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকে চেয়ারম্যানের পরিবার। নিচতলা এবং তৃতীয় তলায় ভাড়াটেরা থাকে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় তলার দরজা বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যানের পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে ঘরের ভেতরে ঢুকে ড্রয়িংরুমে দুই গৃহপরিচারিকা, শয়নকক্ষে চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও আরেক কক্ষ থেকে শ্যালকের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাঁদের জবাই করে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাসায় মূল্যবান জিনিসপত্র থাকলেও কোনো কিছু খোয়া যায়নি।
চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর ভাই দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী কামরুন নাহার সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী শামীমা ইসলাম গ্রামের বাড়ি ঝাউচরে থাকতেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। শামীমার ভাই রানা চেয়ারম্যানের সিলেটের ভোলাগঞ্জের পাথরের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। শুক্রবার তিনি বোনকে দেখতে ঝাউচরে আসেন।
চেয়ারম্যান রফিকুল বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আছেন। গতকাল তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি এখনো কাউকে সন্দেহ করতে পারছেন না। তবে রোববার (আজ) দেশে ফিরে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন।
গতকাল স্থানীয় সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডির) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল খুনের আলামত ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, চেয়ারম্যানের স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিঠির সূত্র ধরে অনেক কিছু জানা যেতে পারে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়