ফটিকছড়ি রণক্ষেত্র
অফিস-আদালতে উপস্থিতি ছিল কম। সচিবালয়, ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও উপস্থিতি কম ছিল। হরতাল ঘিরে সচিবালয় ও এর আশপাশের এলাকায় নেয়া হয় কড়ানিরাপত্তা ব্যবস্থা। হরতাল চলাকালে মোড়ে মোড়ে চালানো হয়েছে নিরাপত্তা তল্লাশি। সিএনজি অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল কোনটাই পুলিশি তল্লাশি থেকে বাদ যায়নি। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে কোন বাস দেশের কোথাও ছেড়ে যায়নি এবং কোন বাস টার্মিনালে প্রবেশ করেনি।
হরতাল স্বতঃস্ফূর্ত দাবি করেছে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল জব্বার। তিনি বলেছেন, ছাত্রশিবিরের শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচিতে পুলিশের অগণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার লংঘনকারী আচরণ ছাত্রজনতাকে বিক্ষুব্ধ করেছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে ডাকা হরতাল দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডের নামে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে ও তিনিসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ১৮ দলীয় জোটের সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈশাখী উৎসবের কারণে পার্বত্য ৩ জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান হরতালের আওতামুক্ত ছিল।
ছাত্রশিবিরের দেয়া তথ্য মতে, সারাদেশে ১৮৩ শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২৭, চট্টগ্রামে ৩৯, নোয়াখালীতে ১৭, কুমিল্লায় ১৯, বরিশালে ২, খুলনায় ৩৫, দিনাজপুরে ২২, ইবিতে ২০, সিলেটে ৭, ময়মনসিংহে ১, রংপুরে ৫ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন। ঢাকায় ৭, চট্টগ্রামে ৬, কুমিল্লায় ২, খুলনায় ১০ জনসহ ৪০ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। খুলনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শিবির নেতা মনসুর নিহত হয়েছে। এছাড়া পুলিশ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে সারাদেশে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন শাখা হতে জানানো হয়, হরতাল চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০ পিকেটারকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তিনটি যানবাহন ভাঙচুর ও তিনটি যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়।
হরতালের সমর্থনে সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর রামপুরা বাজার এলাকায় মিছিল বের করে ঢাকা মহানগরী পূর্ব ছাত্রশিবির। এ সময় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। সকাল ৭টায় চকবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ছাত্রশিবির একটি মিছিল বের করে। হরতালের সমর্থনে সকালে মতিঝিলে ও পল্টনে মিছিল এবং টায়ার জালিয়ে আগুন দেয় শিবির কর্মীরা। পল্টনে এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সবুজবাগে কদমতলায় মিছিল শেষে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৩ জনকে আটক করে।
হরতালের সমর্থনে সকালে ফার্মগেট, বিজয় সরণি, বাড্ডা স্বাধীনতা সড়ক, ভাটারা বাটা গলি ও উত্তরা জসিম উদ্দিন রোডে মিছিল করেছে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা। উত্তরায় মিছিলে নেতৃত্ব দেন মহানগর উত্তর সভাপতি রাকিব মাহমুদ। মিছিল শেষে পুলিশ উত্তরা থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ভাটারায় আগুন জালিয়ে রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ এখান থেকে ২ শিবির কর্মীকে আটক করে।
হরতালের সমর্থনে সকাল সাড়ে ৬টায় মিরপুরের প্রশিকা বিল্ডিংয়ের সামনে মিছিল বের করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ সময় ২ জনকে আটক করে। এছাড়া মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে মিরপুর পশ্চিম থানা, মিরপুর-১১ বাংলা স্কুলের সামনে, ইনডোর স্টেডিয়াম ও মিরপুর সাড়ে-১১ সিটি মাঠের সামনে পল্লবী থানা, টোলারবাগ আবাসিক ১নং গেটের সামনে সরকারি বাঙলা কলেজ, গাবতলী ও মাজার রোডে দারুসসালাম থানা, সোহরাওয়ার্দী কলেজ গেট, মোহাম্মদপুর পুরান থানা রোড ও তাজমহল রোডে মোহাম্মদপুর থানা, ধানমন্ডি শংকর, ২৭ নং মিনাবাজার, জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এ ধানমন্ডি থানা, লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালের সামনে সাংগঠনিক কলেজ থানা, শ্যামলী রিং রোডে আদাবর থানা, মিরপুর-১৪ নম্বরে ইউনানী আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, মিরপুর-১০ নম্বর ও কাজীপাড়ায় মিরপুর পূর্ব থানা মিছিল, পিকেটিং ও রাস্তা অবরোধ করে। সকাল ৭টায় ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবির ধানমন্ডি ৭ নম্বরে একটি মিছিল বের করে।
জবির সামনে গাড়িতে আগুন ॥ ৫ শিবিরকর্মীর কারাদ-
আমাদের জবি রিপোর্টার জানান, ছাত্রশিবিরের ডাকা হরতালে গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের পাঁচ নেতা-কর্মীকে এক বছর করে কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হরতালের সমর্থনে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় তিনটি গাড়িতে আগুন, কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেলের বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনায় পাঁচজনকে এক বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার মোড় এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ব্যানারে নেতা-কর্মী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় পৌঁছলে ভাঙচুর শুরু করেন শিবিরকর্মীরা। এ সময় একটি লেগুনাসহ দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ও প্রায় ১০/১২টি বাস ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে এবং গুলি ছুড়লে তারা পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচ শিবিরকর্মীকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সাজাপ্রাপ্তরা হলো- ওয়াসিম মাহমুদ মো. ইয়াসিন, জসিম উদ্দিন, আল-ইমদাদ ও মাসুদুর রহমান। এরা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় কর্মী বলেও জানা গেছে। এদিকে, এ ঘটনার পর সকাল সাড়ে আটটার দিকে নয়াবাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে আবারও মিছিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। পরে পুলিশ ধাওয়া করলে তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত আটককৃত পাঁচজনকে এক বছর করে সাজা দিয়েছে। পর তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের গুলিতে জামায়াত কর্মী নিহত ঃ আহত ৫০
খুলনা ব্যুরো জানায়, ছাত্রশিবিরের ডাকা হরতালের সর্মথনে মিছিল ও পিকেটিং চলাকালে পুলিশের গুলিতে জামায়াত কর্মী মুনসুর আলী (৪০) নিহত হয়েছে। এ সময় জামায়াত-শিবির, গ্রামবাসী ও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও গ্রামবাসী আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে আটক করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনাটি ঘটে।
গতকাল বেলা সাড়ে ৯টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার চেঁচুড়ি এলাকায় হরতালের সর্মথনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির চেষ্টা করে। এ সময়ে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে হরতালকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে মুনসুর আলী নামে এক জামায়াত কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এসময় গ্রামবাসীরা এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একপর্যায়ে গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায়। এতে করে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় আহত হন পুলিশ কনস্টেবল ইমান আলী, এএসআই রুহুল আমীন, কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, আনসার সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ও নায়েক আলাউদ্দিন, জামায়াতের রাসেল, কামরুল ইসলাম, মুজিবর রহমান ও মাসুম বিল¬াহসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এছাড়া নগরীর শিরোমনি এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। এসময় তারা একটি বাসসহ ৫টি ইজিবাইক ভাঙচুর করে। সকাল ৭টায় ফুলতলা এলাকায় শিবির কর্মীরা মিছিল থেকে ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তারা হানিফ পরিবহনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। একই সময় খুলনা মেডিকেল কলেজের সামনে হরতালকারীরা দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইজিবাইক ভাঙচুর করে।
সড়ক অবরোধ-৫টি ট্রাক ভাঙচুর
কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ ও রাস্তা এবং রেল লাইনের উপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে কুষ্টিয়ায় হরতাল পালন করেছে পিকেটাররা। সকালে কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়কের রাস্তায় খোকসা, কুমারখালী, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ১৯টি স্পটে পিকেটাররা বিক্ষোভ করেছে। খোকসায় বাস স্ট্যান্ডে সড়কের উপর অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়ক বন্ধ করে দেয়। এ সময় কুষ্টিয়া আলমডাঙ্গা সড়কে ৩টি ও খোকসায় ২টি সহ ৫টি ট্রাক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সাভারে ৭টি হাতবোমা বিস্ফোরণ
সাভার উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালীন ঢাকার সাভারে পৃথক পৃথক স্থানে পরপর ৭টি হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের রেডিও কলোনী বাসস্ট্যান্ডের নিকটে পিকেটাররা ৪টি ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিকটে ৩টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ-শিবির সংর্ঘষ ৩টি ট্রেন ভাঙচুর, ২৮ রাউন্ড গুলি
জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাটে শিবিরের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শহরের অদূরে পুরানাপৈল রেলগেট এলাকায় পুলিশের সাথে শিবির কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় রাজশাহীগামী বরেন্দ্র এক্সপেস, চিলাহাটিগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। ইট-পাটকেলের আঘাতে ট্রেনের অন্ততঃ ১৫ যাত্রী আহত হয়। পুলিশ শিবির কর্মীদের ছত্রভংগ করতে শর্টগানের ২৮ রাউন্ড গুলি ও ১৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের পর পর পুরানাপৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিস ভাঙচুর করে শিবির কর্মীরা ।
চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে চাঁদপুর জেলা বিএনপি। শহরের মিশন রোডে সকাল ১০টায় সিএনজিতে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটারা।
এছাড়া ফরিদগঞ্জের বাগড়া বাজারে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছ কেটে অবরোধ ও চাঁদপুর-কুমিল্ল¬া মহাসড়কের ঘোষেরহাটে টায়ারে আগুন দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। পরে পুলিশ ঐ দু‘টি স্থান থেকে গাছ এবং টায়ার সরিয়ে দেয়।
১০ রাউন্ড গুলি গ্রেফতার-৫
ডবরামপুর (দিনাজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির মুক্তির দাবীতে ডাকা হরতাল চলাকালে গত ১১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় বিরামপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জামায়াত-শিবিরের ৫ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
নোয়াখালীতে হরতাল পালিত
নোয়াখালী ব্যুরো জানান, বিএনপি’র আহবানে নোয়াখালীতে দ্বিতীয় দিনের হরতাল পালিত হয়েছে। সকালে জেলা শহরে হরতালের সমর্থনে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ আজাদের নেতৃত্বে দুইবার বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। হরতাল চলাকালে রাস্তায় কিছু রিকশা চলাচল করে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। অফিস আদালতে উপস্থিতির হার কম ছিল। বিকালে আমার দেশ সম্পাদকের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিএনপি’র উদ্যোগে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মহাসড়ক অবরোধ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া
সাতক্ষীরা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, পরিবহন ও মটরসাইকেল ভাংচুর,গাছের গুঁড়ি ফেলে, ইট বিছিয়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আওয়ামী লীগের নেতাদের কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম ও ককটেল নিক্ষেপ করার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় শিবিরের ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। ভোরে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ছয়ঘরিয়া মোড়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। তারা ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা গামী এসপি গোল্ডেন লাইনের একটি পরিবহন ভাংচুর করে। পরে পুলিশ যেয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে যানবাহন চলাচল উপযোগী করে দেয়। এদিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বিনেরপোতা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ও ইট বিছিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। এসময় তারা দুটি মটরসাইকেল ভাংচুর করে । পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিবিরকর্মীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ মহাসড়ক থেকে ইটও সরিয়ে দেয়। শহরের অদুরে বাকাল মোড় ও রামচন্দ্রপুর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা । শহরের অদুরে বিভিন্ন এলাকায় শিবিরের নেতাকর্মীরা খ- খ- মিছিল সমাবেশ করে ।
বগুড়া অফিস জানায়, ছাত্র শিবিরের ডাকা হরতাল বগুড়ায় ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে সকালে বগুড়ার চারমাথায় এলাকায় হরতাল সমর্থকরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সকাল ৭টায় শহরের গোহাইল রোডে ছাত্র শিবিরের একটি মিছিল বের হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের ইয়াকুবিয়া মোড়ে হরতাল সমর্থকরা পর পর তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে। ককটেল তিনটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে রাস্তায় পথচারীরা ছুটোছুটি শুরু করে।
নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা জানান, সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শিবিরের ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে নীলফামারীতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জলঢাকা উপজেলার কালীগঞ্জে আওয়ামীলীগ-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় জামায়াতের পাঁচ জনকে আটক করেছে।
শিবিরের ডাকা হরতালের সমর্থনে দুপুর সাড়ে বারটায় গোলনা কালীগঞ্জ বাজারে জামায়াত শিবিরের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয় । মিছিল শেষ করে গোলনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর প্রভাষক ইউসুফ আলী বাড়ী যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ যুবলীগের কর্মীরা তাকে আটক করে বেদম মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুনরায় মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ যুবলীগ কর্মীরা মিছিল ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় জামায়াত কর্মী ইমরান আলীর দোকানসহ বাজারের কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে আওয়ামী ও যুবলীগ কর্মীরা। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।
শিবিরের ৪ কর্মী আটক
টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার টঙ্গীতে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে মহাসড়কে কিছু রিকশা ও সিএনজি ব্যতীত তেমন কোন যানচলাচল করেনি। তবে সকাল থেকে টঙ্গীর কোথাও হরতাল আহ্বানকারী ছাত্র শিবিরের কোন কর্মী ও সমর্থককে মিছিল মিটিং কিংবা পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। হরতালের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ের টঙ্গী কলেজগেইট পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। বুধবার রাতে টঙ্গীতে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় ইসলামী ছাত্র শিবির গাজীপুর মহানগরীর ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহ সভাপতি নাজমুল ইসলাম (২৪), শিবির কর্মী ইলিয়াস আলী (২২), তালহা বিন কাদের (২৫) ও মেহেদী হাসান (২৩) কে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের গুলি শিবিরের ককটেল নিক্ষেপ
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায় : চট্টগ্রামে বিএনপি ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের ডাকে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল শুরুর প্রাক্কালে নগরীর বাদুরতলা এলাকার কয়েকটি মেচে অভিযান চালিয়ে ১৫ জন শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
নগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার আবদুর রব জানান, অভিযানকালে শিবির কর্মীরা পুলিশের উপর ককটেল ছুঁড়ে মারে। এসময় পুলিশ গুলি করলে ২ শিবির কর্মীর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের ২ জনকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এসময় শিবির কর্মীদের কাছ থেকে ২টি এলজি, ৩টি ককটেল, ৪টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে নগর শিবিরের নেতারা বলছেন, শিবির কর্মীদের ঘুম থেকে তুলে পুলিশ এসব অস্ত্র ধরিয়ে দিয়েছে। তাদের ২ কর্মীকে আটক করার পর পুলিশ পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করেছে বলেও অভিযোগ করেন শিবির নেতারা। পুলিশের সহকারী কমিশনার আবদুর রব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিবির কর্মীরা হরতালে নাশকতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এদিকে হরতালে নগরীর রেয়াজ উদ্দিন বাজার, আগ্রাবাদ, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শিবির কর্মীরা হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। নগরীর চন্দনপুরা থেকে পুলিশ একটি তাজা ককটেলসহ এক শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। কেন্দ্রীয় সভাপতিকে রিমান্ডে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রেখে নির্যাতনের প্রতিবাদে শিবির আহুত এ হরতালে নগরীর জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল নোমানের মুক্তির দাবিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে বিএনপি। হরতাল চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল ও মহিলা দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির মুক্তির দাবীতে গতকাল রাজশাহীতে শিবিরের ব্যাপক পিকেটিং, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। সকাল পৌনে সাতটার দিকে মহানগরীর শালবাগান এলাকায় মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সেখানে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রায় একই সময় নগরীর দেবিশিং পাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিবির। এসময় তারা রাস্তার ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। অন্যদিকে খড়খড়ি বাইপাস সড়কে দুইটি মালবাহী ট্রাক ভাঙচুর করে হরতাল সমর্থকরা। এছাড়া নগরীর হেতমখাঁ এলাকায় মিছিল ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। পুলিশ পৌঁছে রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মহানগরীর হেতমখাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
৬ শিবিরকর্মী গ্রেফতার
সিলেট অফিস : সিলেটে পুলিশ ও র্যাবের ওপর হামলা, রাস্তা অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ ও বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হয়েছে ছাত্র শিবিরের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতাল চলাকালে মারমুখি ও জঙ্গি আচরণ করে পিকেটাররা। তারা রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ রাস্তায় বের হওয়া রিকশা, অটো রিকশা ভাঙচুর ও চালকদের মারধর করে। পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বোমা নিয়ে পিকেটিংকালে ছয় জামায়াত-শিবিরকর্মীকে আটক করা হয় ।
দুপুর ১২টার দিকে নগরীর লামাবাজারে ১০/১২ জন শিবিরকর্মী অতর্কিতে পুলিশের একটি জিপে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় গাড়িতে থাক দুই নারী কনস্টেবলের মধ্যে একজন আহত হন।
দিনাজপুর অফিস জানায়, হরতাল চলাকালীন সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ী থানার কয়েকশ’ গজের মধ্যে বিরামপুর উপজেলার ঢাকা মোড় নামক স্থানে শিবির নেতাকর্মীরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে যানবাহন ভাংচুর করে। এসময় টহল পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে শিবির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৩ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ৫ জন শিবির কর্মীকে আটক এবং তাদের নিকটে থাকা ২০টি বাঁশের লাঠি ও ৭টি লোহার রড উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এসআই বজলুর রশিদ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে ৩৪ জনের নামে এবং অজ্ঞাত শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।
শিবির পুলিশ গোলাগুলি ককটেল বিস্ফোরণ
দাউদকান্দি উপজেলা সংবাদদাতা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার শিবিরের ডাকা হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর ও চান্দিনার কাঠেরপুল, তীরচর নিকট শিবিরের কর্মীদের সাথে পুলিশের গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহন ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, কয়েক রাউন্ড কাঁদানি গ্যাস ছুঁড়ে এবং ৬ শিবির কর্মীকে আটক করে।
চান্দিনা উপজেলা সংবাদদাতা জানান, শিবিরের ডাকা হরতালে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনার কাঠেরপুল ও তীরচরের নিকট শিবিরকর্মীদের সাথে পুলিশের গোলাগুলি, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৬ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। এ সময় ৬ শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
চান্দিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) সৈয়দ ফজলে রাব্বি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি, মুরাদনগর ও চান্দিনা চৌরাস্তায় তিন উপজেলার জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ১০/১২টি গাড়ি ভাঙচুর করে। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে।
১১টি বগী ভাঙচুর
আদমদীঘি (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার সান্তাহার-দিনাজপুর রেলপথে ঢাকাগ্রামী আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে হরতাল আহবানকারী জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা। তারা ট্রেনের ১৪টির মধ্যে ১১টি বগীতে এ তা-ব চালায়। তাদের হামলায় ট্রেনের অন্তত শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। এব্যাপারে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, মীরসরাই জামায়াত-শিবিরের হরতালে ছোটকমলদহ, মিঠাছড়া, বারইয়ারহাট বাজারে পৃথকভাবে মিছিল, অবরোধ ও গাড়ি ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবিরের কর্মী সমর্থকরা। এদিকে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছোট কমলদহ এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে এবং গাড়ি ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা।
অন্যদিকে, দেশব্যাপী জামায়াত শিবির চক্রের হরতালের নামে জ্বালাও-পোড়াও, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৃথক পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Comments