বিদেশি গণমাধ্যমে হেফাজতের লংমার্চ : বাংলাদেশের বৃহত্তম সমাবেশ
ডেস্ক রিপোর্ট
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
শনিবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত ঐতিহাসিক মহাসমাবেশের খবর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী গণমাধ্যম।
হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে ‘বাংলাদেশের বৃহত্তম সমাবেশ’ বলে মন্তব্য করেছে কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল আল জাজিরা। আল জাজিরা গতকাল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশের খবর। এ বিষয়ে চ্যানেলটিতে দুটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়।
তবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চ্যানেল হওয়ার পরও গতকালের খবরে আল জাজিরার বাংলাদেশ প্রতিনিধির নাম প্রকাশ করা হয়নি। খবরে এক নারী সাংবাদিকের বক্তব্য প্রচার করে আল জাজিরা জানায়, তার নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঢাকার অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি মহাসমাবেশ ও ঢাকার সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য, আল জাজিরার বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগ সমর্থক অনেকেই বিভিন্ন সময় বিষোদগার করেছেন।
গতকাল আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শত-সহস্র লোক ঢাকায় সমবেত হয়ে নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবি জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ হলেও এখানে রক্ষণশীল ইসলামি দলগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার বিকাল থেকেই ঢাকাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
বিশাল জনসমুদ্র—বিবিসি : বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, মতিঝিলের এই সমাবেশে সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন। মতিঝিল শাপলা চত্বরকে ঘিরে চারপাশের এলাকা বিরাট এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভোর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বরের দিকে আসতে থাকে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ এবং নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি ও গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
শাপলা চত্বরে তৈরি বিশাল মঞ্চ থেকে সারাদিন ধরে বক্তৃতা দেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হেফাজতে ইসলামের নেতারা।
দুপুরের পর শাপলা চত্বরকে ঘিরে পুরো এলাকাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে বায়তুল মোকাররম পর্যন্ত রাস্তাটি ছিল মানুষের ভিড়ে ঠাসা। মতিঝিলকে ঘিরে আশপাশের রাস্তাগুলোতেও ছিল মানুষের স্রোত।
সাদা পোশাকের সমুদ্র—এএফপি : বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় মতিঝিল পরিণত হয়েছিল সাদা পোশাকের এক সমুদ্রে। এতে যোগ দেন কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। তারা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা। এএফপির রিপোর্টে আরও বলা হয়, রাতভর লংমার্চ করে হাজার হাজার ইসলামপন্থী মানুষ জড়ো হন ঢাকায়। তাদের দাবি নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি। এর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষ ও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে উত্তেজনা আরও গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। সমাবেশে যোগ দেয়া মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ৫ লাখ।
কয়েক লাখ মুসল্লির জমায়েত—এপি : বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, ইসলাম অবমাননাকারীদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করার দাবিতে কয়েক লাখ মুসল্লি সমবেত হন মতিঝিলে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সমাবেশ হলো।
কানাগরুর ভিন্নপথ : তবে যথারীতি কানাগরুর মতোই ভিন্নপথ ধরেছে বাংলাদেশবিরোধী এবং আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা।
‘মৌলবাদী হানায় রক্তাক্ত শাহবাগ’ শিরোনামে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, ঢাকায় বড়মাপের জমায়েত করে শাহবাগে অবস্থানকারীদের ওপর হামলা চালাল মৌলবাদীরা। তবে আন্দোলনকারীদের পাল্টা প্রতিরোধে তারা পিছু হটে যায়। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র কর্মীদের ছোড়া ইটে অন্তত তিন অবস্থানকারী রক্তাক্ত হয়েছে। এদিকে ধর্মনিরপেক্ষ কয়েকটি সংগঠনের ডাকা হরতালে এ দিন গোটা বাংলাদেশ ছিল স্তব্ধ। দোকানপাট খোলেনি, বাস ও অন্য যানবাহন রাস্তায় দেখা যায়নি, স্কুল-কলেজও ছিল বন্ধ। বিভিন্ন শহরে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে হরতালের সমর্থকরা। রাতে মশাল-মিছিলও হয়।
শাহবাগের আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও দেশে ইসলামি শাসন কায়েমের দাবিতে এদিন বাংলাদেশের নানা জায়গা থেকে ঢাকায় লংমার্চের ডাক দিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম নামে একটি মৌলবাদী সংগঠন। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি তাদের সমর্থন জানায়। তাদের এই কর্মসূচির প্রতিবাদে এদিন হরতালের ডাক দিয়েছিল সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঘাদানিক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। শাহবাগিরাওপ্র্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকায় ভিড় জমায় বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্ররা। ১০টায় সভা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ৭টায়ই বক্তৃতা শুরু করে দেন মৌলভীরা। কিন্তু কর্মীরা সভায় আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় ভাংচুর করতে থাকে। পুলিশের সামনেই মহাখালীতে ঘাদানিকের একটি সভাস্থলে হামলা চালায় উন্মত্ত মৌলবাদীরা। রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশের হিসাবে অন্তত দু’লক্ষ মানুষ এদিন মৌলবাদীদের সভায় ছিলেন। সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘নাস্তিকদের নেত্রী’ ও খালেদা জিয়াকে ‘ধর্মানুরাগী’ বলে বর্ণনা করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের বিচারেরও বিরোধিতা করে। চলে নানা ধরনের উসকানি। এই সভায় যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।
হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে ‘বাংলাদেশের বৃহত্তম সমাবেশ’ বলে মন্তব্য করেছে কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল আল জাজিরা। আল জাজিরা গতকাল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশের খবর। এ বিষয়ে চ্যানেলটিতে দুটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়।
তবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চ্যানেল হওয়ার পরও গতকালের খবরে আল জাজিরার বাংলাদেশ প্রতিনিধির নাম প্রকাশ করা হয়নি। খবরে এক নারী সাংবাদিকের বক্তব্য প্রচার করে আল জাজিরা জানায়, তার নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঢাকার অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি মহাসমাবেশ ও ঢাকার সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য, আল জাজিরার বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগ সমর্থক অনেকেই বিভিন্ন সময় বিষোদগার করেছেন।
গতকাল আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শত-সহস্র লোক ঢাকায় সমবেত হয়ে নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবি জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ হলেও এখানে রক্ষণশীল ইসলামি দলগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার বিকাল থেকেই ঢাকাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
বিশাল জনসমুদ্র—বিবিসি : বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, মতিঝিলের এই সমাবেশে সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন। মতিঝিল শাপলা চত্বরকে ঘিরে চারপাশের এলাকা বিরাট এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভোর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বরের দিকে আসতে থাকে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ এবং নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি ও গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
শাপলা চত্বরে তৈরি বিশাল মঞ্চ থেকে সারাদিন ধরে বক্তৃতা দেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হেফাজতে ইসলামের নেতারা।
দুপুরের পর শাপলা চত্বরকে ঘিরে পুরো এলাকাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে বায়তুল মোকাররম পর্যন্ত রাস্তাটি ছিল মানুষের ভিড়ে ঠাসা। মতিঝিলকে ঘিরে আশপাশের রাস্তাগুলোতেও ছিল মানুষের স্রোত।
সাদা পোশাকের সমুদ্র—এএফপি : বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় মতিঝিল পরিণত হয়েছিল সাদা পোশাকের এক সমুদ্রে। এতে যোগ দেন কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। তারা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা। এএফপির রিপোর্টে আরও বলা হয়, রাতভর লংমার্চ করে হাজার হাজার ইসলামপন্থী মানুষ জড়ো হন ঢাকায়। তাদের দাবি নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি। এর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষ ও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে উত্তেজনা আরও গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। সমাবেশে যোগ দেয়া মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ৫ লাখ।
কয়েক লাখ মুসল্লির জমায়েত—এপি : বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, ইসলাম অবমাননাকারীদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করার দাবিতে কয়েক লাখ মুসল্লি সমবেত হন মতিঝিলে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সমাবেশ হলো।
কানাগরুর ভিন্নপথ : তবে যথারীতি কানাগরুর মতোই ভিন্নপথ ধরেছে বাংলাদেশবিরোধী এবং আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা।
‘মৌলবাদী হানায় রক্তাক্ত শাহবাগ’ শিরোনামে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, ঢাকায় বড়মাপের জমায়েত করে শাহবাগে অবস্থানকারীদের ওপর হামলা চালাল মৌলবাদীরা। তবে আন্দোলনকারীদের পাল্টা প্রতিরোধে তারা পিছু হটে যায়। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র কর্মীদের ছোড়া ইটে অন্তত তিন অবস্থানকারী রক্তাক্ত হয়েছে। এদিকে ধর্মনিরপেক্ষ কয়েকটি সংগঠনের ডাকা হরতালে এ দিন গোটা বাংলাদেশ ছিল স্তব্ধ। দোকানপাট খোলেনি, বাস ও অন্য যানবাহন রাস্তায় দেখা যায়নি, স্কুল-কলেজও ছিল বন্ধ। বিভিন্ন শহরে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে হরতালের সমর্থকরা। রাতে মশাল-মিছিলও হয়।
শাহবাগের আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও দেশে ইসলামি শাসন কায়েমের দাবিতে এদিন বাংলাদেশের নানা জায়গা থেকে ঢাকায় লংমার্চের ডাক দিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম নামে একটি মৌলবাদী সংগঠন। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি তাদের সমর্থন জানায়। তাদের এই কর্মসূচির প্রতিবাদে এদিন হরতালের ডাক দিয়েছিল সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঘাদানিক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। শাহবাগিরাওপ্র্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকায় ভিড় জমায় বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্ররা। ১০টায় সভা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ৭টায়ই বক্তৃতা শুরু করে দেন মৌলভীরা। কিন্তু কর্মীরা সভায় আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় ভাংচুর করতে থাকে। পুলিশের সামনেই মহাখালীতে ঘাদানিকের একটি সভাস্থলে হামলা চালায় উন্মত্ত মৌলবাদীরা। রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশের হিসাবে অন্তত দু’লক্ষ মানুষ এদিন মৌলবাদীদের সভায় ছিলেন। সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘নাস্তিকদের নেত্রী’ ও খালেদা জিয়াকে ‘ধর্মানুরাগী’ বলে বর্ণনা করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের বিচারেরও বিরোধিতা করে। চলে নানা ধরনের উসকানি। এই সভায় যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।
Comments