ব্লাসফেমি নয়, সেনা হস্তক্ষেপ নয়: প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও)
- Get link
- X
- Other Apps
অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ০৮-০৪-২০১৩
বিবিসিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) আইনের আদলে নতুন কোনো আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা জানান। সাক্ষাত্কারটি আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ প্রচলিত আইনেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তিনি নাকচ করেছেন।
হেফাজতে ইসলাম এ ধরনের আইন প্রণয়নসহ ১৩ দফা দাবিতে লংমার্চের পর গত ৬ এপ্রিল ঢাকায় মহাসমাবেশ করেছে। একই দাবিতে আজ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল করছে সংগঠনটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের অভাব নেই। তথ্য-প্রযুক্তি আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ফৌজদারি বিধিতেও বিষয়টাতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কাজেই নতুন আইনের প্রয়োজন হবে না বলে তিনি মনে করেন।
তবে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন আইন না করলেও হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো নিয়ে তাঁর সরকার আলোচনা করবে। তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোর মধ্যে কিছু গ্রহণযোগ্য হলে, তা গ্রহণ করব। আর যেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে না, সেগুলো গ্রহণ করব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ প্রচলিত আইনেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তিনি নাকচ করেছেন।
হেফাজতে ইসলাম এ ধরনের আইন প্রণয়নসহ ১৩ দফা দাবিতে লংমার্চের পর গত ৬ এপ্রিল ঢাকায় মহাসমাবেশ করেছে। একই দাবিতে আজ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল করছে সংগঠনটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের অভাব নেই। তথ্য-প্রযুক্তি আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ফৌজদারি বিধিতেও বিষয়টাতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কাজেই নতুন আইনের প্রয়োজন হবে না বলে তিনি মনে করেন।
তবে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন আইন না করলেও হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো নিয়ে তাঁর সরকার আলোচনা করবে। তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোর মধ্যে কিছু গ্রহণযোগ্য হলে, তা গ্রহণ করব। আর যেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে না, সেগুলো গ্রহণ করব না।’
ব্লগারদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে
হেফাজতের দাবি অনুযায়ী ৬ এপ্রিলের লংমার্চের আগে চারজন ব্লগারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, এর সঙ্গে লংমার্চের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ব্লগ ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কে কে কী লিখছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়ে কিছু আছে কি না, সেসব খতিয়ে দেখতে সরকার আগেই একটি তদন্ত কমিটি করেছিল। সেই প্রক্রিয়াতেই ওই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।ব্লগারদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রচলিত আইনে গ্রেপ্তার করেছি, সেই আইনেই বিচার করা যাবে। তবে এখন সবাই সবার মৃত্যুদণ্ড চায়। মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার মালিক তো আর আমি না। দেশে কোর্টকাচারি রয়েছে। তারাই ঠিক করবে, কার মৃত্যুদণ্ড হবে বা কার হবে না। সেটা আমরা করব কীভাবে। এটা সরকার করবে না, সরকারের দায়িত্ব নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো কোনো কথা যদি লেখায় থাকে, অবশ্যই আমাদের তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা খুব স্বাভাবিক। আমি একজন মুসলমান। এখন নবী করিম (সা.) সম্পর্কে কেউ যদি আজেবাজে কথা লেখে, আমরা তো চুপ করে বসে থাকতে পারি না। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ হয়তো ধর্ম না মানতে পারে, তার মানে এই নয় যে, তারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলবে। নোংরা কথা লিখবে।’
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়
বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ব্লগারদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সমালোচনা উঠেছে। এমনকি ক্ষমতাসীন জোটের শরিকেরাও অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকার একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলছে। অন্যদিকে হেফাজতের দাবির প্রতি সরকার নমনীয় অবস্থান দেখাচ্ছে।শেখ হাসিনা বলেন, ‘নবী করিম (সা.) সম্পর্কে কেউ যদি আজেবাজে কথা লেখে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমি অন্যের কথা শুনলাম, মোটেও না। আমি নিজেও ধর্মে বিশ্বাস করি। কাজেই আমার নিজেরও অনুভূতিতে আঘাত লাগে, কেউ যদি বাজে কথা লেখে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মত দেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হচ্ছে, সমান অধিকার। প্রতিটি ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করা। কেউ একটা ধর্ম সম্পর্কে যা খুশি লিখবে, এটা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। সমালোচকেরা সঠিক কাজ করছেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সব ধর্মের সমান অধিকার
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের সমান অধিকার আছে। কোনো ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অধিকার কারও নেই।ইসলাম ধর্ম এবং ধর্মনিরপেক্ষতা—এই দুইভাগে দেশের মানুষ বিভক্ত নয় বলেও তিনি মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষ-বিপক্ষ, এ দুটি ভাগ বা ধারা কাজ করছে।
হেফাজতকে ধন্যবাদ
হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের দিক থেকে এর আগে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে নানা আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াতের ফাঁদে পা না দেওয়ায় হেফাজতে ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দেখেছেন, ১৮ দলের পক্ষ থেকে মঞ্চে গিয়ে সমর্থন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আশঙ্কা অমূলক ছিল না। তবে আমি ধন্যবাদ জানাব যে, হেফাজতে ইসলাম কিছু কর্মসূচি নিলেও তারা যথারীতি তাদের সমাবেশ শেষে ফিরে গেছে। জামায়াতের ফাঁদে পা দেয়নি।’তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নাকচ
বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিও নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেত্রী দেশকে সেই ২০০৭ সালের পরিবেশে কেন নিতে চাইছেন?’বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবিতে আন্দোলন করছে, সে ব্যাপারে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে পুরোনো অবস্থানই তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিরোধী দল সংসদে এসে দাবি তুলে ধরতে পারে।
সেনা হস্তক্ষেপ নয়
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করবে কি না, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সেনাবাহিনী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করবে না।বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি যদি আশা করে থাকেন যে কিছু মানুষ খুন করলেই, একেবারে আর্মি ঝাঁপিয়ে পড়বে আর ওনাকে ক্ষমতায় নেবে, বর্তমান আর্মি তা করবে না।’
গণহত্যার অভিযোগ নাকচ
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনেক মানুষ হতাহতের যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। এমন অভিযোগ নাকচ করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন শেখ হাসিনা।- Get link
- X
- Other Apps
Comments