হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা : ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাশের দাবি
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আল্লামা হাফেজ শামসুলম আলম, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা মুহাম্মদ ওমর, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা আহমদ দীদার, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আবু আহমদ, মাওলানা ক্বারী জহিরুল হক, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা রাশেদুল ইসলাম, মাওলানা রবীউল হাসান, মাওলানা মুহাম্মদ হাসান প্রমুখ।
অভ্যর্থনা সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী উপস্থিত নেতা-কর্মী ও উলামায়ে কেরামকে হেফাজতে ইসলামের মাসব্যাপী কর্মসূচী সফল করায় সীমাহীন ত্যাগ ও পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মহান আল্লাহর রহমতে আমাদের ঈমানীর দাবীর লংমার্চ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচী শতভাগ সফল হয়েছে। আমরা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দুশমন নাস্তিক-মুরতাদসহ সকল ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছিয়ে দিয়েছি যে, এদেশের ১৫ কোটি মানুষ আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র বরদাশত করবে না। এদেশের উলামা-মাশায়েখ ও কোটি কোটি তৌহিদী জনতা ঈমান-আমল ও ইসলামের ইজ্জত রক্ষার প্রশ্নে মজবুত ঐক্যবদ্ধ ও আপোষহীন। পাশাপাশি আমরা সরকারকেও বুঝিয়ে দিয়েছি যে, তারা যেন অবিলম্বে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা ঈমানী দাবী বাস্তবায়ন করে নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও ইসলামবিরোধী সকল অপতৎপরতা বন্ধ করে। অন্যথায় এদেশের তৌহিদী জনতার প্রতিবাদী বিস্ফোরণে সকল অপশক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, আমরা বার বার বলেছিলাম, আমাদের অবস্থান অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমন নাস্তিক্যবাদী অপশক্তি আমাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নাশকতা নিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়েছে। আমরা লংমার্চ ও মহাসমাবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সমাপ্ত করে সমালোচনাকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছি। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীকে বানচাল করার জন্য হরতাল, পথে পথে আমাদের কর্মীদেরকে বাধাদান, সন্ত্রাসী হামলা ও লংমার্চের গাড়ি ভাঙচুর করে আমাদেরকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য শত উস্কানী দেওয়া হয়েছিল। নাগরকিদের জানমাল ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আমরা চরম ধৈর্যের পরচয় দিয়েছি। আমরা দেশবাসীসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে এ কথা প্রমাণ করেছি যে, এদেশের উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা ছাত্র ও তৌহিদী জনতা কখনো সহিংসতার পথে হাঁটে না। শান্তি রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে হলেও অবিচল থাকে। আল্লামা আহমদ শফী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ধর্মঅবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে কঠোর আইন পাশসহ আমাদের ১৩ দফা দাবী বাস্তবায়ন করুন। ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতা বন্ধ করুন। উলামা-মাশায়েখ, মাদ্রাসা ছাত্র ও কোটি কোটি মুসলমানকে নির্বিগ্নে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে দিন। তাদের উপর হামলা-মামলা ও দমন-পীড়ন বন্ধ করুন। ইতিমধ্যেই যেসকল উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা ছাত্র ও হেফাজতে ইসলামের কর্মীকে গ্রেফতার করেছেন, তাদেরকে মুক্তি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করুন। স্কুল-কলেজে ইসলাম ও নৈতিকতা বিরোধী বইপুস্তকসমূহ প্রত্যাহার করে সঠিক ইসলামী শিক্ষাকে সিলেবাসভুক্ত করুন। প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় কোমলমতি শিশুদেরকে অশ্লীল যৌনশিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনাচার-ব্যভিচারের দিকে ঠেলে দেয়া বন্ধ করুন। নাটক-সিনেমাসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতা ও অপপ্রচার বন্ধ করুন। এদেশের মুসলমানরা আর মুখ বুঝে সহ্য করবে না। তারা জেগেছে। তার প্রমাণ আপনারা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফী দৈনিক কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি চিহ্নিত পত্রিকার হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আপনারা যে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এটা জনগণের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে। মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধ করে সত্য খবর প্রচার করুন। না হয় জনগণ আপনাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবে।
Comments