কেন এই অপ্রয়োজনীয় শত্রুতা
আজ হেফাজতে ইসলামের ঢাকা লংমার্চ। এ লংমার্চকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও তৈরি হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে নয় এ লংমার্চ। হেফাজতে ইসলামের তরফে যে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে তার সবই ধর্মীয় বা ধর্মসংক্রান্ত। এই দাবিগুলোর মধ্যে সংবিধানে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন বাতিল, আল্লাহ, রাসূল (সা:) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন, কথিত শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয়নবী (সা:)-এর শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগারদের অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তি প্রদান প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দাবিগুলোর অধিকাংশই পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে দেশের আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখ এসব দাবি জানিয়ে আসছেন। দাবিগুলোর বেশ কিছু তাৎক্ষণিকভাবেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বাকিগুলো সময় সাপেক্ষ। এসব দাবির যৌক্তিকতা ও প্রণিধানযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। দলমত নির্বিশেষে সকল ধর্মপ্রাণ মানুষই দাবিগুলোর সঙ্গে একমত। হেফাজতে ইসলাম দাবিগুলো মেনে নেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। বলেছিল, না হলে ঢাকামুখী লংমার্চ হবে, আন্দোলন লাগাতার ও জোরদার হবে। সরকার দাবিগুলোর প্রতি কর্ণপাত না করায় হেফাজতে ইসলামকে লংমার্চের মতো একটি বিরাট ও ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তয়ানে তৎপর ও নিয়োজিত হতে হয়েছে। লংমার্চের প্রতি দেশের তাবৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং এমনকি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সমর্থন জানিয়েছে। গোটাদেশে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ। ব্যতিক্রম হলো, সরকার, সরকারী দল ও কিছু বাম সংগঠন এর মধ্যে তাদের বিপদ আবিষ্কার করে নিয়েছে। সমর্থন তো দূরের কথা লংমার্চ যাতে না হতে পারে তার জন্য সব রকম উদ্যোগ-পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের অরাজনৈতিক দাবিতে দেয়া কর্মসূচির প্রতিপক্ষে অবস্থান নিয়ে এবং তা বানচালে উদ্যোগী ও তৎপর হয়ে সরকার ও সরকারী মহল একে কার্যত রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপদান করেছে যা একই সঙ্গে অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।
হেফাজতে ইসলামের তরফে শুরু থেকেই বারবার বলা হয়েছে, লংমার্চের কর্মসূচির সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। অহিংস ও শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সরকারের সহযোগিতা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে। লংমার্চে যারা অংশ নেবেন তাদের উদ্দেশে সুনির্দিষ্টভাবে বলা রয়েছে, কোনো সংঘাত-সহিংসতায় জড়াবেন না, বিশৃংখলা সৃষ্টি করবেন না, সম্পদ-সম্পত্তির হানি করবেন না। সরকার বা প্রশাসনের তরফে যেখানে বাধা দেয়া হবে, সেখানেই বসে পড়বেন এবং জিকির করতে থাকবেন। এরকম একটি অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের উচিত ছিল সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদান করা যাতে এটি একটি নজির সৃষ্টিকারী কর্মসূচিতে পরিণত হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে তা অনুসরণীয় হয়। এতে সরকারের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধির বিরল সুযোগও ছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলো, সরকার এ দু’টি সুযোগ হেলায় হারানোর ঝুঁকি নিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের এই কর্মসূচী বাধাগ্রস্ত, ব্যাহত ও ব্যর্থ করে দেয়ার কৌশলের অংশ হিসাবে সরকার সমর্থক ২৩টি সংগঠন ২৪ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে যা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। ১০টি ক্ষুদ্র বামদল তাতে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে তথাকথিত শাহবাগ আন্দোলনকারীরা ২২ ঘণ্টার অবরোধ ডেকেছে। পায়ে পা লাগিয়ে বিবাদ ও সংঘাত সৃষ্টির এই অপচেষ্টা নিন্দা ও ধিক্কারযোগ্য। সরকারের মদদপুষ্টদের এই হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচী যে মূলত সরকার ও সরকারী দলেরই কর্মসূচী তা অনুধাবন করতে কষ্ট হয় না। উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলাম লংমার্চের বিরুদ্ধে ডাকা হরতাল প্রত্যাহার করা না হলে রোববার থেকে লাগাতার হরতালের ঘোষণা দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, একদিকে হেফাজতে ইসলাম, দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, অন্যদিকে সরকার, সরকারী দল ও তার অনুগত ও সমর্থনধন্য বিভিন্ন সংগঠন ও গোষ্ঠী এমুহূর্তে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থায় এসে দাঁড়িয়ে গেছে। দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে গোটা জাতি। কার্যত দেশ একটি গৃহবিবাদ বা গৃহযুদ্ধের মুখে এসে পড়েছে। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সরকারের দায় প্রধান, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
বিস্ময়কর বাস্তবতা এই যে, সরকারের তরফে লংমার্চ বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে নানাভাবে। এতে কাজ না হওয়ায় ভয় দেখানো হয়েছে, হুমকি-ধমকির ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতেও কিছু না হওয়ায় হরতাল-অবরোধের কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে। অবশেষে হরতাল-অবরোধ বাস্তবায়ন ও লংমার্চ প্রতিহত করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই প্রতিহত করার তৎপরতা প্রত্যক্ষ করা গেছে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা যাতে ঢাকায় আসতে না পারে সেজন্য সড়ক, নৌ ও রেলপথ কার্যত অচল করে দেয়া হয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মালিকদের বাস-মাইক্রোবাস ভাড়া দিতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। রেলের টিকিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লঞ্চ-স্টিমার চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি নৌকা চলাচলও বন্ধ। পথে পথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ঢাকামুখী জনাগমন রোধের দায়িত্ব পালন করছে। খবর পাওয়া গেছে, যানবাহন না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে ঢাকার পথে রওয়ানা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ কর্মসূচীতে সরকারের দেখার বিষয়, কোথাও কোনো অঘটন বা আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় কি না। সরকার তা না করে নিজেই আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সৃষ্টিতে নেমে পড়েছে। বলা বাহুল্য যারা লংমার্চে অংশ নিচ্ছে, তারা বিভিন্ন দলের। এদের মধ্যে সরকারী দলের লোকেরাও থাকতে পারে। সরকার বাধাপ্রদান ও প্রতিহত করার পদক্ষেপ তাদেরও বিরাগভাজন হচ্ছে, দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। অথচ এটা উপলব্ধিতে আনছে না। তারপরও আমরা আশাকরি, আজকের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সফল হবে, ঐতিহাসিক গুরুত্বের অধিকারী হবে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ কোথাও বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে। এও আশা করি, সরকার, সরকারী দল ও মহল এমন কিছু করবে না, যাতে আখেরে তাদের পস্তাতে হয়, ইতিহাসের কাছে দায়ী হতে হয়। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী বানচাল করতে হরতালসহ নানা কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে, জবাবদিহি করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিক। শেষ অবধি সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে এটা আমরা কামনা করি। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সমাবেশের জন্য শাপলা চত্বর নির্বাচন করেছে কর্তৃপক্ষ। এটা ভালো দিক। তবে যে শর্তে দিয়েছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। সঙ্গতকারণেই সমাবেশে লোক সমাগম বেশি হবে বলে ধারণা করা যায় এবং সমাবেশের কার্যক্রমও প্রলম্বিত হতে পারে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিশেষে আমরা বলতে চাই, সরকার অপ্রয়োজনীয় শত্রুতা সৃষ্টি করেছে, যা দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণতার পরিচায়ক নয়।
হেফাজতে ইসলামের তরফে শুরু থেকেই বারবার বলা হয়েছে, লংমার্চের কর্মসূচির সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। অহিংস ও শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সরকারের সহযোগিতা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে। লংমার্চে যারা অংশ নেবেন তাদের উদ্দেশে সুনির্দিষ্টভাবে বলা রয়েছে, কোনো সংঘাত-সহিংসতায় জড়াবেন না, বিশৃংখলা সৃষ্টি করবেন না, সম্পদ-সম্পত্তির হানি করবেন না। সরকার বা প্রশাসনের তরফে যেখানে বাধা দেয়া হবে, সেখানেই বসে পড়বেন এবং জিকির করতে থাকবেন। এরকম একটি অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের উচিত ছিল সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদান করা যাতে এটি একটি নজির সৃষ্টিকারী কর্মসূচিতে পরিণত হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে তা অনুসরণীয় হয়। এতে সরকারের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধির বিরল সুযোগও ছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলো, সরকার এ দু’টি সুযোগ হেলায় হারানোর ঝুঁকি নিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের এই কর্মসূচী বাধাগ্রস্ত, ব্যাহত ও ব্যর্থ করে দেয়ার কৌশলের অংশ হিসাবে সরকার সমর্থক ২৩টি সংগঠন ২৪ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে যা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। ১০টি ক্ষুদ্র বামদল তাতে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে তথাকথিত শাহবাগ আন্দোলনকারীরা ২২ ঘণ্টার অবরোধ ডেকেছে। পায়ে পা লাগিয়ে বিবাদ ও সংঘাত সৃষ্টির এই অপচেষ্টা নিন্দা ও ধিক্কারযোগ্য। সরকারের মদদপুষ্টদের এই হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচী যে মূলত সরকার ও সরকারী দলেরই কর্মসূচী তা অনুধাবন করতে কষ্ট হয় না। উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলাম লংমার্চের বিরুদ্ধে ডাকা হরতাল প্রত্যাহার করা না হলে রোববার থেকে লাগাতার হরতালের ঘোষণা দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, একদিকে হেফাজতে ইসলাম, দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, অন্যদিকে সরকার, সরকারী দল ও তার অনুগত ও সমর্থনধন্য বিভিন্ন সংগঠন ও গোষ্ঠী এমুহূর্তে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থায় এসে দাঁড়িয়ে গেছে। দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে গোটা জাতি। কার্যত দেশ একটি গৃহবিবাদ বা গৃহযুদ্ধের মুখে এসে পড়েছে। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সরকারের দায় প্রধান, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
বিস্ময়কর বাস্তবতা এই যে, সরকারের তরফে লংমার্চ বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে নানাভাবে। এতে কাজ না হওয়ায় ভয় দেখানো হয়েছে, হুমকি-ধমকির ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতেও কিছু না হওয়ায় হরতাল-অবরোধের কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে। অবশেষে হরতাল-অবরোধ বাস্তবায়ন ও লংমার্চ প্রতিহত করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই প্রতিহত করার তৎপরতা প্রত্যক্ষ করা গেছে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা যাতে ঢাকায় আসতে না পারে সেজন্য সড়ক, নৌ ও রেলপথ কার্যত অচল করে দেয়া হয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মালিকদের বাস-মাইক্রোবাস ভাড়া দিতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। রেলের টিকিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লঞ্চ-স্টিমার চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি নৌকা চলাচলও বন্ধ। পথে পথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ঢাকামুখী জনাগমন রোধের দায়িত্ব পালন করছে। খবর পাওয়া গেছে, যানবাহন না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে ঢাকার পথে রওয়ানা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ কর্মসূচীতে সরকারের দেখার বিষয়, কোথাও কোনো অঘটন বা আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় কি না। সরকার তা না করে নিজেই আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সৃষ্টিতে নেমে পড়েছে। বলা বাহুল্য যারা লংমার্চে অংশ নিচ্ছে, তারা বিভিন্ন দলের। এদের মধ্যে সরকারী দলের লোকেরাও থাকতে পারে। সরকার বাধাপ্রদান ও প্রতিহত করার পদক্ষেপ তাদেরও বিরাগভাজন হচ্ছে, দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। অথচ এটা উপলব্ধিতে আনছে না। তারপরও আমরা আশাকরি, আজকের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সফল হবে, ঐতিহাসিক গুরুত্বের অধিকারী হবে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ কোথাও বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে। এও আশা করি, সরকার, সরকারী দল ও মহল এমন কিছু করবে না, যাতে আখেরে তাদের পস্তাতে হয়, ইতিহাসের কাছে দায়ী হতে হয়। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী বানচাল করতে হরতালসহ নানা কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে, জবাবদিহি করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিক। শেষ অবধি সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে এটা আমরা কামনা করি। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সমাবেশের জন্য শাপলা চত্বর নির্বাচন করেছে কর্তৃপক্ষ। এটা ভালো দিক। তবে যে শর্তে দিয়েছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। সঙ্গতকারণেই সমাবেশে লোক সমাগম বেশি হবে বলে ধারণা করা যায় এবং সমাবেশের কার্যক্রমও প্রলম্বিত হতে পারে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিশেষে আমরা বলতে চাই, সরকার অপ্রয়োজনীয় শত্রুতা সৃষ্টি করেছে, যা দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণতার পরিচায়ক নয়।
Comments