এ এক জনমহাসমুদ্র লংমার্চ কাফেলার কত লোক?



কাজী জেবেল
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
শাপলা চত্বরের লংমার্চ কাফেলায় অংশ নিয়েছে কত লোক? এ প্রশ্নের জবাব কারও পক্ষে সহজে দেয়া সম্ভব নয়। তবে একটি কথা সবার মুখে মুখে—এত লোক রাজধানী ঢাকায় এর আগে কেউ দেখেনি। যেদিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। ঢাকা যেন মানুষের এক নগরী। যেন জনসমুদ্রে নেমেছে জোয়ার।
শাপলা চত্বর থেকে বিভিন্ন দিকে চলে গেছে বিভিন্ন সড়ক। একটি সড়ক মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, তোপখানা হয়ে গেছে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত। পুরো সড়কে মানুষের বন্যা। একটি সড়ক গেছে শাপলা চত্বর থেকে নটর ডেম কলেজ হয়ে আরামবাগ, ফকিরের পুল, নয়াপল্টন-কাকরাইলে। এ সড়কটিতেও মানুষ আর মানুষ। দৈনিক বাংলা-ফকিরের পুল-বঙ্গভবন সড়কটিতেও মানুষের সমুদ্র। শাপলা চত্বর থেকে সড়ক গেছে ইত্তেফাকের দিকে। সেটিও কানায় কানায় পূর্ণ। এছাড়াও অলিগলি চত্বরে কোথাও মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
ঢাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ হয়েছে, মহাসমাবেশ হয়েছে। বিশাল বিশাল সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু গতকালের লংমার্চের মহাসমাবেশের সঙ্গে আগের কোনো সমাবেশ, মহাসমাবেশ কিংবা জনসমুদ্রের তুলনা চলে না। ঢাকার ইতিহাসে কোনো মহাসমাবেশকে ঐতিহাসিক বলতে হলে হেফাজতে ইসলামের গতকালের লংমার্চ কাফেলাকেই বলতে হবে। গতকাল ভোর থেকে সব সড়কে ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর’, ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ধ্বনিতে রাজধানী প্রকম্পিত করে লংমার্চ কাফেলা সমবেত হয় শপলা চত্বরে।
গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া ও পথে পথে বাধা উপেক্ষা করে এসব মানুষ হেঁটেই সমাবেশস্থলে এসেছেন। অনেকেই আসতে না পেরে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ করেছেন।
হেফাজতে ইসলামের এ সমাবেশে কত মানুষ হাজির হয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কেউ বলেছেন, সমাবেশস্থলসহ অন্য এলাকাগুলোতে ৫০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, ২৫ থেকে ৩০ লাখের কম হবে না। পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, হিসাব করে মানুষের সংখ্যা নির্ণয় করা যাবে না। তবে লংমার্চ কাফেলায় অগণিত মানুষের উপস্থিতিতে মহাসমুদ্রে রূপ নিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তারা আরও বলেন, স্মরণকালে কোনো সমাবেশে এত লোকের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ধর্মীয় আবেগে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিতান্তই সাদাসিধে ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা এ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। এতে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মূল মঞ্চ করা হলেও আশপাশের এলাকাগুলোতে মানুষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এসব স্থানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ঘনত্ব বেশি থাকায় দেরিতে আসা মানুষ সমাবেশের মঞ্চের দিকে যেতে পারেনি। মতিঝিল, নটর ডেম কলেজ, টিকাটুলি, দৈনিক বাংলা, জাতীয় প্রেস ক্লাব, আরামবাগসহ অন্য স্থানগুলোতে বসে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তা দিতে হাতে হাত ধরে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন হেফাজতের স্বেচ্ছাসেবীরা। এসব স্থানে পুলিশ সদস্যরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
আর এই মহাসমুদ্রে আসা মানুষের সেবায় ঢাকাবাসী অকাতরে তাদের শ্রম ঢেলে দিয়েছেন। যার যা সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে তারা কাফেলার মুসাফিরদের সেবা দিয়েছেন। এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য, এমন অভাবনীয় ঘটনা আগে এমনভাবে কেউ প্রত্যক্ষ করেনি।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়