নেপথ্যে ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব্ব : রাজধানীতে বিটিভির অনুষ্ঠান নির্মাতা খুন
স্টাফ রিপোর্টার
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মো. শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) অনুষ্ঠান নির্মাতা নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। গতকাল সকালে পুলিশ তার ক্ষতবিক্ষত হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলে এক বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের জেরে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার পশ্চিম থানার সেক্টর ১০, রোড নম্বর ১২, বাসা নম্বর ৫৫ নিচতলায় মিডিয়া ভিশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন শহিদুল। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘পৌর দর্পণ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের নির্মাতা ও পরিচালক ছিলেন। গতকাল সকাল সোয়া ১১টায় পরিবারের কাছে খবর পেয়ে শহিদুলের অফিসের তালা ভেঙে পুলিশ তার হাত-পা বাঁধা ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। পরে পলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শেখ সানজিদা ইসলাম সুপ্তি জানান, প্রায় ৩ বছর ধরে তার বাবা বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভির ‘পৌর দর্পণ’ নামে একটি প্রতিবেদনমূলক অনুষ্ঠান তৈরি করতেন। এর আগে তিনি সিএসবি ও মাইটিভির অনুষ্ঠান তৈরি করতেন। বাবার প্রোগামে সুপ্তি প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করেছেন।
তার বাবা এই ভবনে মিডিয়া ভিশন নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতেন। গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে তার মোবাইলটি বন্ধ থাকে। এতে করে তার পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিতায় পড়েন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ভিশনে তার পরিবারের সদস্যরা সন্ধান করতে এলে অফিসটি তালা মারা দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে শহিদুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সানজিদা ইসলাম সুপ্তি আরও বলেন, তার বাবার অফিসে রোহান, লিটন, শহীদ ওরফে মোটা শহীদ ও লুনা পিয়নের কাজ করত। এই চারজন পিয়ন বাবার কাছে কিছুদিন আগে ভিডিও ব্যবসা করার জন্য ছবির ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরে বাবা সেই ছবির ফুটেজ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তাদের বললে তারা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। গত রোববার রাতে এই চার পিয়নের সঙ্গে তার বাবার মোবাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তার বাবার কোনো শত্রু ছিল না বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তার বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, সাভারের নবীনগরের কুরগাঁও পুরাতন পাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন তার স্বামী শহিদুল। তার স্বামী মিডিয়া ভিশন প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাসার নিচতলার কিন্টার গার্ডেনের তিনটি রুম নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত সোমবার রাত থেকে তার সন্ধান না পেয়ে ওই অফিসে গেলে হাত-পা বাঁধা লাশ দেখতে পাই। তিনি তার ছেলে ও মেয়ের ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খন্দকার রেজাউল করীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। নিহতের মাথায় ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, তাকে খনু করা হয়েছে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘাতকরা তাকে খুন করে দেহের বিভিন্ন অংশ পাশের টয়লেটে ফেলে গেছে। ওই অফিস থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও খুনিরা নিয়ে গেছে। সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। সেগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ওই বাসার দারোয়ান ও কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য আপাতত গণমাধ্যমকে জানানো হবে না, খুব শিগগিরই খুনিদের আটক করা হবে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। নিহত শহিদুলের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শহিদুলের বাবার নাম মো. কাশেম আলী হাওলাদার। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীর বিল্লাত এলাকায়।
নিহত পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলে এক বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের জেরে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার পশ্চিম থানার সেক্টর ১০, রোড নম্বর ১২, বাসা নম্বর ৫৫ নিচতলায় মিডিয়া ভিশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন শহিদুল। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘পৌর দর্পণ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের নির্মাতা ও পরিচালক ছিলেন। গতকাল সকাল সোয়া ১১টায় পরিবারের কাছে খবর পেয়ে শহিদুলের অফিসের তালা ভেঙে পুলিশ তার হাত-পা বাঁধা ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। পরে পলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শেখ সানজিদা ইসলাম সুপ্তি জানান, প্রায় ৩ বছর ধরে তার বাবা বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভির ‘পৌর দর্পণ’ নামে একটি প্রতিবেদনমূলক অনুষ্ঠান তৈরি করতেন। এর আগে তিনি সিএসবি ও মাইটিভির অনুষ্ঠান তৈরি করতেন। বাবার প্রোগামে সুপ্তি প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করেছেন।
তার বাবা এই ভবনে মিডিয়া ভিশন নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতেন। গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে তার মোবাইলটি বন্ধ থাকে। এতে করে তার পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিতায় পড়েন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ভিশনে তার পরিবারের সদস্যরা সন্ধান করতে এলে অফিসটি তালা মারা দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে শহিদুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সানজিদা ইসলাম সুপ্তি আরও বলেন, তার বাবার অফিসে রোহান, লিটন, শহীদ ওরফে মোটা শহীদ ও লুনা পিয়নের কাজ করত। এই চারজন পিয়ন বাবার কাছে কিছুদিন আগে ভিডিও ব্যবসা করার জন্য ছবির ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরে বাবা সেই ছবির ফুটেজ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তাদের বললে তারা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। গত রোববার রাতে এই চার পিয়নের সঙ্গে তার বাবার মোবাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তার বাবার কোনো শত্রু ছিল না বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তার বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, সাভারের নবীনগরের কুরগাঁও পুরাতন পাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন তার স্বামী শহিদুল। তার স্বামী মিডিয়া ভিশন প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাসার নিচতলার কিন্টার গার্ডেনের তিনটি রুম নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত সোমবার রাত থেকে তার সন্ধান না পেয়ে ওই অফিসে গেলে হাত-পা বাঁধা লাশ দেখতে পাই। তিনি তার ছেলে ও মেয়ের ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খন্দকার রেজাউল করীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। নিহতের মাথায় ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, তাকে খনু করা হয়েছে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘাতকরা তাকে খুন করে দেহের বিভিন্ন অংশ পাশের টয়লেটে ফেলে গেছে। ওই অফিস থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও খুনিরা নিয়ে গেছে। সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। সেগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ওই বাসার দারোয়ান ও কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য আপাতত গণমাধ্যমকে জানানো হবে না, খুব শিগগিরই খুনিদের আটক করা হবে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। নিহত শহিদুলের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শহিদুলের বাবার নাম মো. কাশেম আলী হাওলাদার। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীর বিল্লাত এলাকায়।
Comments