শাহবাগি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন আটক : সরকারের বিপক্ষে না লেখার শর্তে আগে একবার ছাড়া পেয়েছিলেন
স্টাফ রিপোর্টার
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
মহান আল্লাহ, পবিত্র ইসলাম ও মহানবী (স.)-কে নিয়ে ব্লগ ও ফেসবুকে আপত্তিকর লেখালেখির অভিযোগে ইসলামবিদ্বেষী ও স্বঘোষিত নাস্তিক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান আসিফকে গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গ্রেফতার করা আসিফকে বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ২০১১ সালের ১ অক্টোবর একই অভিযোগে ডিবি পুলিশ আসিফ মহিউদ্দিনকে আটক করে। তবে আটকের মাত্র ১৮ ঘণ্টা পর আসিফকে সরকারের বিপক্ষে না লেখা ও বিয়ে করার পরামর্শ দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। ভবিষ্যতে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক স্টেটাস ও মন্তব্য না লেখার জন্যও পুলিশ তাকে শাসিয়ে দেয়। ওই সময় এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গতকাল ডিবি কার্যালয়ের সামনে আসিফের বড় বোন ড. জাহিদা মেহেরুন্নেচ্ছা সাংবাদিকদের জানান, ‘সন্ত্রাসী হামলার শিকার’ হয়ে আহত হওয়ার পর থেকে আসিফ সেগুন বাগিচায় আরেক বোন জুয়েলা জেবুন্নেছার বাসায় থাকত। ডিবি পুলিশ গতকাল সকাল থেকে তিন দফায় আসিফের খোঁজে তার ওই বোনের বাসায় যায়। একপর্যায়ে পুলিশ আসিফকে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যেতে বলে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি পুলিশের কথামত জুয়েলা নিজ গাড়িতে করে আসিফকে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম আসিফকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, গতকাল সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার করা আসিফকে ডিবি অফিসের মোল্লা নজরুলের কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে গতকাল আসিফের সঙ্গে আরও দু’জন ব্লগারকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ইসলাম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে মশিউর রহমান বিপ্লব (ব্লগার নাম : আল্লামা শয়তান), রাসেল পারভেজ (ব্লগার নাম : অপবাঘ) ও সুব্রত অধিকারী ওরফে শুভ (ব্লগার নাম : লালু কসাই) নামে তিন ব্লগারকে গ্রেফতার করে। কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করা তিন ব্লগারকে সাত দিন করে রিমান্ডে আনা হয়েছে। রিমান্ডের প্রথম দিনই তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ইসলামবিদ্বেষী আরও অনেক ব্লগারের নাম এসেছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে তাদের দেয়া তথ্যের বিষয়ে পুলিশ কিছু বলতে রাজি হয়নি।
স্বঘোষিত নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তার বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকে আল্লাহ, রাসুল (সা.), মসজিদ, বোরকাসহ ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিষয় নিয়ে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ রাজনীতিবিদদের নিয়েও ব্লগে কটূক্তির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারচক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্লগে মহান আল্লাহ, মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ও ইসলামের বিধিবিধানকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে বিভিন্ন ব্লগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করে আসছে। আসিফ মহিউদ্দিন তাদের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত। এসব ব্লগারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রার্থনা জানিয়ে রিট দায়েরের পর গত বছর ২১ মার্চ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করে এবং ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের রুল জারির পর ওইদিনই আসিফ মহিউদ্দিন তার ব্লগে লিখেছে, ‘সম্পূর্ণ সজ্ঞানে, সচেতনভাবে ওই যুক্তিহীন অন্ধ ষাঁড়ের মতো উত্কট দুর্গন্ধময় ধর্মীয় অনুভূতি এবং ওই যুক্তিহীন ধর্মীয় অনুভূতির রক্ষক আদালত, দুই জিনিসেরই অবমাননা করলাম।’ হাইকোর্টকে কটূক্তি করে আসিফ আরও লিখেছে, ‘তোমাদের যুক্তিহীন হাস্যকর অনুভূতি এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের দায় আমার নয়, অযৌক্তিক সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তা যাচাই করা, প্রয়োজনে ছুড়ে ফেলা আমার বাক-স্বাধীনতা এবং আমার অধিকার। কোনো সভ্য আদালত আমার এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।’ তার এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যও আইনজীবীরা এফিডেভিট করে পরে আদালতে পেশ করেন।
কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও সরকার আসিফ মহিউদ্দিনসহ ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ব্লগারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা চেয়েও পায়নি। গত এক মাসেরও বেশি সময় প্রখ্যাত আলেমে দীন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আলেম-ওলামাদের ব্যাপক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
সম্প্র্রতি আলেমদের পক্ষ থেকে ইসলামবিদ্বেষী ৮৪ ব্লগারকে চিহ্নিত করে ছবিসহ তাদের নাম-ঠিকানা ও ব্লগের বিবরণ এবং আপত্তিকর মন্তব্যগুলোর প্রিন্ট কপিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির কাছে পেশ করা হয়। এ অবস্থায় বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে মঙ্গলবার আরও তিন ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে এনে প্রথম দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখির মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী চিহ্নিত আরও সাত ব্লগারকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এদের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
বৈঠকে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক উপস্থিত ছিলেন।
আগেও একবার আটক হয় আসিফ : গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, মহাজোট সরকারের প্রথমদিকে আসিফ মহিউদ্দিন ধর্ম, রাষ্ট্র ও সরকারের সমালোচনা করে সামহয়্যার ইন ব্লগসহ অন্যান্য ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্য করে। সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করায় গোয়েন্দা পুলিশ ২০১১ সালের ১ অক্টোবর আসিফ মহিউদ্দিনকে ডিবি পুলিশ আটক করে। ব্লগে লেখার বিষয়ে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ভবিষ্যতে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উসকানিমূলক স্টেটাস ও মন্তব্য না লেখার জন্য পুলিশ তাকে শাসিয়ে দেয়। ডিবি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এএসপি রফিকুল ইসলাম ব্লগার আসিফকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বলেন, ‘আপনি আর লিখতে পারবেন না। লেখালেখির দরকার কী, চাকরিবাকরি করেন। বিয়ে-শাদী করেন।’ তিনি তাকে (আসিফকে) ফেসবুক, ব্লগ বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ সাইটে কিছু লিখবেন না বলে মুচলেকা দিতে বলেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তার এ বক্তব্যের জবাবে আসিফ জানায়, এটি তার বাকস্বাধীনতা। এ পর্যায়ে এএসপি রফিকুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সমাবেশ ডাকবে না বলে মুচলেকা দিতে বলেন। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র কোনো এথিক্স মানে না। রাষ্ট্র দেখবে আপনি তার পক্ষে, না বিপক্ষে। বিপক্ষে গেলেই আপনার ওপর নির্যাতন নেমে আসবে। এ নিয়ে আপনাকে ডিজিএফআইও জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পরক্ষণে আসিফ এ মুচলেকা দিয়ে ওইদিনই ছাড়া পায়।
গোয়েন্দা কার্যালয়ে নাস্তিক ব্লগাররা জামাইআদরে! : ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তিন নাস্তিক ব্লগারকে সাত দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসার নামে জামাইআদরে রেখেছে ঢাকা মহানগরীর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রিমান্ডের প্রথম দিনে তিন ব্লগারকে দায়সারাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে সময় কাটাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।
আলেম ওলামাদের অভিযোগ, নাস্তিক ব্লগারদের রিমান্ডে নেয়ার বিষয়টি স্রেফ আইওয়াশ। হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলোকে শান্ত করতেই উপরের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হলেই তাদের আবার ছেড়ে দেয়া হবে। বিষয়টি নাস্তিক ব্লগাররাও জানে। আর এ কারণেই তারাও এই গ্রেফতারের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না।
ডিবি পুলিশ গত সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মশিউর রহমান বিপ্লব (ব্লগার নাম : আল্লামা শয়তান), রাসেল পারভেজ (ব্লগার নাম : অপবাঘ) ও সুব্রত অধিকারীকে (ব্লগার নাম : লালু কসাই) গ্রেফতার করে। এ মামলার তদন্তকারী অফিসার গত মঙ্গলবার ওই তিন ব্লগারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত থেকে প্রত্যেককে ৭ দিনের রিমান্ডে আনে। সূত্র জানায়, গতকাল রিমান্ডের প্রথম দিনে তিন ব্লগারকে দায়সারাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সূত্র জানায়, রিমান্ডে তাদের জামাইআদরে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রিমান্ডের আসামিকে থানা কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা খাবারের বাইরে কোনো খাবার দেয়ার নিয়ম না থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। সাধারণ হাজতিরা যেসব খাবার খায় তা থেকে ওই নাস্তিকদের গতকাল আলাদা খাবার দেয়া হয়েছে। একটি সূত্র বলেছে, তাদের নির্দিষ্ট হাজতখানায় না রেখে অন্য স্থানে আরাম-আয়েশের মধ্যে রাখা হয়েছে।
এর আগে ২০১১ সালের ১ অক্টোবর একই অভিযোগে ডিবি পুলিশ আসিফ মহিউদ্দিনকে আটক করে। তবে আটকের মাত্র ১৮ ঘণ্টা পর আসিফকে সরকারের বিপক্ষে না লেখা ও বিয়ে করার পরামর্শ দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। ভবিষ্যতে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক স্টেটাস ও মন্তব্য না লেখার জন্যও পুলিশ তাকে শাসিয়ে দেয়। ওই সময় এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গতকাল ডিবি কার্যালয়ের সামনে আসিফের বড় বোন ড. জাহিদা মেহেরুন্নেচ্ছা সাংবাদিকদের জানান, ‘সন্ত্রাসী হামলার শিকার’ হয়ে আহত হওয়ার পর থেকে আসিফ সেগুন বাগিচায় আরেক বোন জুয়েলা জেবুন্নেছার বাসায় থাকত। ডিবি পুলিশ গতকাল সকাল থেকে তিন দফায় আসিফের খোঁজে তার ওই বোনের বাসায় যায়। একপর্যায়ে পুলিশ আসিফকে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যেতে বলে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি পুলিশের কথামত জুয়েলা নিজ গাড়িতে করে আসিফকে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম আসিফকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, গতকাল সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার করা আসিফকে ডিবি অফিসের মোল্লা নজরুলের কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে গতকাল আসিফের সঙ্গে আরও দু’জন ব্লগারকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ইসলাম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে মশিউর রহমান বিপ্লব (ব্লগার নাম : আল্লামা শয়তান), রাসেল পারভেজ (ব্লগার নাম : অপবাঘ) ও সুব্রত অধিকারী ওরফে শুভ (ব্লগার নাম : লালু কসাই) নামে তিন ব্লগারকে গ্রেফতার করে। কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করা তিন ব্লগারকে সাত দিন করে রিমান্ডে আনা হয়েছে। রিমান্ডের প্রথম দিনই তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ইসলামবিদ্বেষী আরও অনেক ব্লগারের নাম এসেছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে তাদের দেয়া তথ্যের বিষয়ে পুলিশ কিছু বলতে রাজি হয়নি।
স্বঘোষিত নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তার বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকে আল্লাহ, রাসুল (সা.), মসজিদ, বোরকাসহ ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিষয় নিয়ে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ রাজনীতিবিদদের নিয়েও ব্লগে কটূক্তির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারচক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্লগে মহান আল্লাহ, মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ও ইসলামের বিধিবিধানকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে বিভিন্ন ব্লগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করে আসছে। আসিফ মহিউদ্দিন তাদের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত। এসব ব্লগারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রার্থনা জানিয়ে রিট দায়েরের পর গত বছর ২১ মার্চ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করে এবং ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের রুল জারির পর ওইদিনই আসিফ মহিউদ্দিন তার ব্লগে লিখেছে, ‘সম্পূর্ণ সজ্ঞানে, সচেতনভাবে ওই যুক্তিহীন অন্ধ ষাঁড়ের মতো উত্কট দুর্গন্ধময় ধর্মীয় অনুভূতি এবং ওই যুক্তিহীন ধর্মীয় অনুভূতির রক্ষক আদালত, দুই জিনিসেরই অবমাননা করলাম।’ হাইকোর্টকে কটূক্তি করে আসিফ আরও লিখেছে, ‘তোমাদের যুক্তিহীন হাস্যকর অনুভূতি এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের দায় আমার নয়, অযৌক্তিক সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তা যাচাই করা, প্রয়োজনে ছুড়ে ফেলা আমার বাক-স্বাধীনতা এবং আমার অধিকার। কোনো সভ্য আদালত আমার এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।’ তার এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যও আইনজীবীরা এফিডেভিট করে পরে আদালতে পেশ করেন।
কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও সরকার আসিফ মহিউদ্দিনসহ ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ব্লগারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা চেয়েও পায়নি। গত এক মাসেরও বেশি সময় প্রখ্যাত আলেমে দীন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আলেম-ওলামাদের ব্যাপক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
সম্প্র্রতি আলেমদের পক্ষ থেকে ইসলামবিদ্বেষী ৮৪ ব্লগারকে চিহ্নিত করে ছবিসহ তাদের নাম-ঠিকানা ও ব্লগের বিবরণ এবং আপত্তিকর মন্তব্যগুলোর প্রিন্ট কপিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির কাছে পেশ করা হয়। এ অবস্থায় বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে মঙ্গলবার আরও তিন ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে এনে প্রথম দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখির মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী চিহ্নিত আরও সাত ব্লগারকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এদের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
বৈঠকে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক উপস্থিত ছিলেন।
আগেও একবার আটক হয় আসিফ : গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, মহাজোট সরকারের প্রথমদিকে আসিফ মহিউদ্দিন ধর্ম, রাষ্ট্র ও সরকারের সমালোচনা করে সামহয়্যার ইন ব্লগসহ অন্যান্য ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্য করে। সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করায় গোয়েন্দা পুলিশ ২০১১ সালের ১ অক্টোবর আসিফ মহিউদ্দিনকে ডিবি পুলিশ আটক করে। ব্লগে লেখার বিষয়ে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ভবিষ্যতে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উসকানিমূলক স্টেটাস ও মন্তব্য না লেখার জন্য পুলিশ তাকে শাসিয়ে দেয়। ডিবি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এএসপি রফিকুল ইসলাম ব্লগার আসিফকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বলেন, ‘আপনি আর লিখতে পারবেন না। লেখালেখির দরকার কী, চাকরিবাকরি করেন। বিয়ে-শাদী করেন।’ তিনি তাকে (আসিফকে) ফেসবুক, ব্লগ বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ সাইটে কিছু লিখবেন না বলে মুচলেকা দিতে বলেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তার এ বক্তব্যের জবাবে আসিফ জানায়, এটি তার বাকস্বাধীনতা। এ পর্যায়ে এএসপি রফিকুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সমাবেশ ডাকবে না বলে মুচলেকা দিতে বলেন। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র কোনো এথিক্স মানে না। রাষ্ট্র দেখবে আপনি তার পক্ষে, না বিপক্ষে। বিপক্ষে গেলেই আপনার ওপর নির্যাতন নেমে আসবে। এ নিয়ে আপনাকে ডিজিএফআইও জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পরক্ষণে আসিফ এ মুচলেকা দিয়ে ওইদিনই ছাড়া পায়।
গোয়েন্দা কার্যালয়ে নাস্তিক ব্লগাররা জামাইআদরে! : ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তিন নাস্তিক ব্লগারকে সাত দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসার নামে জামাইআদরে রেখেছে ঢাকা মহানগরীর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রিমান্ডের প্রথম দিনে তিন ব্লগারকে দায়সারাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে সময় কাটাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।
আলেম ওলামাদের অভিযোগ, নাস্তিক ব্লগারদের রিমান্ডে নেয়ার বিষয়টি স্রেফ আইওয়াশ। হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলোকে শান্ত করতেই উপরের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হলেই তাদের আবার ছেড়ে দেয়া হবে। বিষয়টি নাস্তিক ব্লগাররাও জানে। আর এ কারণেই তারাও এই গ্রেফতারের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না।
ডিবি পুলিশ গত সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মশিউর রহমান বিপ্লব (ব্লগার নাম : আল্লামা শয়তান), রাসেল পারভেজ (ব্লগার নাম : অপবাঘ) ও সুব্রত অধিকারীকে (ব্লগার নাম : লালু কসাই) গ্রেফতার করে। এ মামলার তদন্তকারী অফিসার গত মঙ্গলবার ওই তিন ব্লগারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত থেকে প্রত্যেককে ৭ দিনের রিমান্ডে আনে। সূত্র জানায়, গতকাল রিমান্ডের প্রথম দিনে তিন ব্লগারকে দায়সারাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সূত্র জানায়, রিমান্ডে তাদের জামাইআদরে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রিমান্ডের আসামিকে থানা কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা খাবারের বাইরে কোনো খাবার দেয়ার নিয়ম না থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। সাধারণ হাজতিরা যেসব খাবার খায় তা থেকে ওই নাস্তিকদের গতকাল আলাদা খাবার দেয়া হয়েছে। একটি সূত্র বলেছে, তাদের নির্দিষ্ট হাজতখানায় না রেখে অন্য স্থানে আরাম-আয়েশের মধ্যে রাখা হয়েছে।
Comments