গণহত্যার’ জন্য প্রধানমন্ত্রী দায়ী, বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে
- Get link
- X
- Other Apps
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৪-০৩-২০১৩
পুলিশের অভিযানে সোমবার রাতে তছনছ হওয়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় গতকাল ঘুরে দেখেন খালেদা জিয়া। ভবনের তৃতীয় তলায় মহাসচিবের কক্ষসহ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন কক্ষ তিনি পরিদর্শন করেন। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন
ছবি: ফোকাস বাংলা
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ‘এ গণহত্যার জন্য বর্তমান সরকারের এক নম্বর থেকে যতগুলো আছে, সবাইকে’ বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
পুলিশের অভিযানের সময় তছনছ হওয়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘুরে দেখার পর গতকাল বুধবার বিকেলে নেতা-কর্মীদের এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে খালেদা জিয়া এ হুঁশিয়ারি জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে মানুষ হত্যা করেছে। এ পর্যন্ত ১৭০ জনকে তারা হত্যা করেছে। এ গণহত্যার জন্য তাঁদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এর জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়ী। তিনি কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘এই গণহত্যার জন্য আবারও বিচার হবে, ট্রাইব্যুনাল হবে।’
এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান খালেদা জিয়া। এ সময় দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী মুহুর্মুহু স্লোগান ও করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে বেলা তিনটা থেকে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হয়ে রাস্তা দখলে নেন।
খালেদা জিয়া গত সোমবার রাতে পুলিশের অভিযানের সময় বিএনপির মহাসচিবের কক্ষসহ দলীয় কার্যালয়ের আসবাব তছনছ করার দৃশ্য ঘুরে দেখেন। অভিযানের সময় পুলিশ বিএনপির নেতাদের গালাগাল, আসবাব তছনছ এবং জরুরি কাগজপত্র, কম্পিউটার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ সরকারকে এখন আর সময় দেওয়া যায় না। সরকার একদিকে আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে গুলি করছে, অন্যদিকে বিধর্মী নাস্তিকদের পাহারা দিয়ে, খাওয়া-দাওয়া দিয়ে লালন করছে। সরকারের অপকর্ম ঢাকা দেওয়া এবং দুর্নীতি চাপা দিয়ে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য এ কাজগুলো করছে।’
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের প্রতি ইঙ্গিত করে সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই যে মঞ্চ-ফঞ্চ বানাচ্ছেন আর পাহারা দিচ্ছেন, এসব বন্ধ করুন। না হলে জনগণের মঞ্চ যখন তৈরি হবে, তখন আর কেউ আপনাদের বাঁচাতে পারবে না।’ তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এভাবে কথায় কথায় গুলি চালানো বন্ধ করুন, সরকারের অন্যায় আদেশ মানা বন্ধ করুন। আর যদি এভাবে গুলি চালাতে থাকেন, একদিন আপনাদের অবশ্যই জবাব দিতে হবে। শুধু জবাবদিহি নয়, এই গণহত্যার জন্য আপনাদের বিচার হবে, ট্রাইব্যুনাল হবে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই একজন রাজাকার। আওয়ামী লীগেও বহু রাজাকার আছে, তাদের আগে ধরতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। সে বিচার হবে স্বচ্ছ, আন্তর্জাতিক মানের। আমরা ক্ষমতায় গেলে সেই বিচার করব।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ‘এখন মানুষের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য সরকারের লোকজন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করছে, তাদের বাড়িঘর ভাঙছে, নির্যাতন করছে। আমি সরকারকে বলব, সংখ্যালঘুদের হামলা বন্ধ করুন। নইলে এর জন্য আপনাদের শাস্তি পেতে হবে।’ তিনি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, থাকব, সব রকম সহায়তা দেব।’
বিরোধীদলীয় নেতা সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ সরকারকে অবশ্যই বিদায় হতে হবে। জনগণের আন্দোলন কখনো বৃথা যায়নি, বৃথা যাবে না। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখনো সময় আছে, যদি বোধোদয় হয় তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে পদত্যাগ করুন। নইলে জনগণ বাধ্য হবে জোর করে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে।’
বিএনপির কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে ১৮ ও ১৯ মার্চ সারা দেশে সর্বাত্মক হরতাল পালন করার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এরপর হরতাল, অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকাসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া ১২ মিনিট বক্তব্য দেন। এরপর তিনি কার্যালয়ে নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি নয়াপল্টন থেকে গুলশানের কার্যালয়ে যান।
পুলিশের অভিযানের সময় তছনছ হওয়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘুরে দেখার পর গতকাল বুধবার বিকেলে নেতা-কর্মীদের এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে খালেদা জিয়া এ হুঁশিয়ারি জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে মানুষ হত্যা করেছে। এ পর্যন্ত ১৭০ জনকে তারা হত্যা করেছে। এ গণহত্যার জন্য তাঁদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এর জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়ী। তিনি কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘এই গণহত্যার জন্য আবারও বিচার হবে, ট্রাইব্যুনাল হবে।’
এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান খালেদা জিয়া। এ সময় দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী মুহুর্মুহু স্লোগান ও করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে বেলা তিনটা থেকে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হয়ে রাস্তা দখলে নেন।
খালেদা জিয়া গত সোমবার রাতে পুলিশের অভিযানের সময় বিএনপির মহাসচিবের কক্ষসহ দলীয় কার্যালয়ের আসবাব তছনছ করার দৃশ্য ঘুরে দেখেন। অভিযানের সময় পুলিশ বিএনপির নেতাদের গালাগাল, আসবাব তছনছ এবং জরুরি কাগজপত্র, কম্পিউটার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ সরকারকে এখন আর সময় দেওয়া যায় না। সরকার একদিকে আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে গুলি করছে, অন্যদিকে বিধর্মী নাস্তিকদের পাহারা দিয়ে, খাওয়া-দাওয়া দিয়ে লালন করছে। সরকারের অপকর্ম ঢাকা দেওয়া এবং দুর্নীতি চাপা দিয়ে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য এ কাজগুলো করছে।’
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের প্রতি ইঙ্গিত করে সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই যে মঞ্চ-ফঞ্চ বানাচ্ছেন আর পাহারা দিচ্ছেন, এসব বন্ধ করুন। না হলে জনগণের মঞ্চ যখন তৈরি হবে, তখন আর কেউ আপনাদের বাঁচাতে পারবে না।’ তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এভাবে কথায় কথায় গুলি চালানো বন্ধ করুন, সরকারের অন্যায় আদেশ মানা বন্ধ করুন। আর যদি এভাবে গুলি চালাতে থাকেন, একদিন আপনাদের অবশ্যই জবাব দিতে হবে। শুধু জবাবদিহি নয়, এই গণহত্যার জন্য আপনাদের বিচার হবে, ট্রাইব্যুনাল হবে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই একজন রাজাকার। আওয়ামী লীগেও বহু রাজাকার আছে, তাদের আগে ধরতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। সে বিচার হবে স্বচ্ছ, আন্তর্জাতিক মানের। আমরা ক্ষমতায় গেলে সেই বিচার করব।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ‘এখন মানুষের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য সরকারের লোকজন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করছে, তাদের বাড়িঘর ভাঙছে, নির্যাতন করছে। আমি সরকারকে বলব, সংখ্যালঘুদের হামলা বন্ধ করুন। নইলে এর জন্য আপনাদের শাস্তি পেতে হবে।’ তিনি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, থাকব, সব রকম সহায়তা দেব।’
বিরোধীদলীয় নেতা সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ সরকারকে অবশ্যই বিদায় হতে হবে। জনগণের আন্দোলন কখনো বৃথা যায়নি, বৃথা যাবে না। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখনো সময় আছে, যদি বোধোদয় হয় তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে পদত্যাগ করুন। নইলে জনগণ বাধ্য হবে জোর করে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে।’
বিএনপির কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে ১৮ ও ১৯ মার্চ সারা দেশে সর্বাত্মক হরতাল পালন করার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এরপর হরতাল, অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকাসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া ১২ মিনিট বক্তব্য দেন। এরপর তিনি কার্যালয়ে নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি নয়াপল্টন থেকে গুলশানের কার্যালয়ে যান।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments