নরসিংদীতে একসাথে ৪ সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ আমিনা
জানা গেছে, ১২ বছর পূর্বে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর খিলগাঁও গ্রামের আনোয়ার হোসেনের কন্যা আমিনার বিয়ে হয় শিবপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সামসুউদ্দিনের পুত্র শাহ আলমের সাথে। বিয়ের ৩ বছর পর আমিনার গর্ভে অনামিকা নামে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম লাভ করে। এরপর দীর্ঘ ৯ বছর তাদের কোনো সন্তানাদি জন্ম হয়নি। দীর্ঘ ৯ বছরের বন্ধ্যাত্বের পর আমিনা পুনরায় গর্ভধারণ করেন। গত মঙ্গলবার রাতে আমিনার প্রসব ব্যথা অনুভূত হলে তাকে নরসিংদীর বাশাইলস্থ ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের গাইনি কন্সালটেন্ট ডা. কাজী নাজমা তাকে জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করলে আমিনার গর্ভ থেকে পর পর ৪টি সন্তান বেরিয়ে আসে। এর মধ্যে ২টি ছেলে ও ২টি মেয়ে। একটি ছেলের ওজন ২ কেজি, অপর একটি ছেলের ওজন ১ কেজি ৫০০ গ্রাম এবং দুটি মেয়ের প্রতিটির ওজন ১ কেজি ৪০০ গ্রাম করে। ডা. কাজী নাজমা জানান, মঙ্গলবার রাতে আমিনাকে ভর্তি করার পরে বুঝতে পারা যায় যে, তার গর্ভে অতিরিক্ত সংখ্যক সন্তান রয়েছে। যার ফলে জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীকে সকালে জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। চারটি সন্তানের জন্ম দেয়ায় মা আমিনা বেগম কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। আমিনার সন্তানরা সবাই মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। এব্যাপারে নরসিংদী মা ও শিশু কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার ভৌমিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ্যাত্বের কারণে সন্তান কনসিভ করার জন্য রোগীনি ড্রাগ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত সন্তান জন্মের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। আমিনার ক্ষেত্রেও তাই ঘটে থাকতে পারে। এছাড়া ডা. অসীম জানান, বর্তমানে টুইন বা জমজ ট্রাই এবং টেট্রা শিশু জন্মের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এক্ষেত্রে প্রতি ১শ’ জন্মের মধ্যে কমবেশি ২ থেকে ৩ শতাংশ অতিরিক্ত শিশু জন্ম গ্রহণ করছে। আর তা হতে পারে ড্রাগ ব্যবহারের জন্য।
Comments