বাবার পরই চাপাতি ও বোমার আঘাতে জীবন দিল মিতু
মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা ঃ মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দীন ও তার মেয়ে মিতুকে কুপিয়ে ও বোমা মেরে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ডা. হেলাল ঘটনাস্থলে নিহত হলেও তার মেয়ে মিতু (১৮) মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে মারা যান। মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. হেলালকে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৭টার দিকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও বোমা মেরে হত্যা করে। এসময় তার মেয়ে মিতু ছুটে এসে বাবা ডা. হেলালকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে তাকেও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রসীরা। মুমূর্ষু অবস্থায় মিতুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে। এতে লেখা ছিল এলএম জনযুদ্ধের খুলনা বিভাগীয় সম্পাদক বিকাশ মজুমদার। নিহত বিএনপি নেতা হেলালের স্ত্রী সন্ধ্যা জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ে ও স্বামীকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার পর মুজিবনগরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিএনপির বিক্ষোভ
এদিকে, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দীন ও তার মেয়ে মিতু’র হত্যাকা-ের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় সাবেক এমপি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে মেহেরপুর জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন এমপি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান বাবলু, বিজেপি নেতা শেখ সাঈদ আহমেদ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আঃ রহিম প্রমুখ। সাবেক এমপি মাসুদ অরুন তার বক্তৃতায় বলেন, ব্যর্থ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মেহেরপুরের চলমান সংগ্রামকে দুর্বল করার লক্ষে সরকারি দলের পৃষ্ঠপোষকতায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাই এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে। তিনি এ হত্যাকা-ের প্রতিবাদে শনিবার ২৩ মার্চ মুজিবনগর উপজেলায় হরতাল ও রোববার ২৪ মার্চ জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
Comments