সেই এডিসি মেহেদী সরকারি খরচে প্রমোদ ভ্রমণে সিঙ্গাপুর



মো. আল-আমিন
« আগের সংবাদ
বিএনপির অফিসে তাণ্ডব চালানোর পুরস্কারস্বরূপ মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মেহেদী হাসানকে সরকারের টাকায় সপরিবারের প্রমোদ ভ্রমণে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনেই ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও দাফতরিকভাবে বলা হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন।
মেহেদী হাসানকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার যাবতীয় বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
আসা-যাওয়ার খরচ ছাড়াও তাকে শপিংয়ের জন্য দুই লাখ টাকা অতিরিক্ত দেয়া হয়েছে। মেহেদী হাসান সপরিবারে প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে রাজি হননি। সরকারের প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা এই দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তার ভয়ে তটস্থ তার সিনিয়র অফিসাররাও। অনেকে তার বিরুদ্ধে ঘৃণা, ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
গত ১৮ মার্চ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ছুটি চেয়েছেন এডিসি মেহেদী হাসান। ছুটির দরখাস্তে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ নেই। ছুটির আবেদনে কত দিনের ছুটি, তাও উল্লেখ করেননি। কারও কারও কাছে মৌখিকভাবে চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মেহেদী হাসান গত ২২ মার্চ রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে সপরিবারে সিঙ্গাপুর গেছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এডিসি মেহেদী হাসান অসুস্থ, এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। এরপরও চিকিত্সার নামে ব্যক্তিগত কারণে কেন তার বিদেশ যাওয়া? অনেকে মনে করছেন, বিএনপির অফিসে তাণ্ডব চালানোর পুরস্কারস্বরূপ তাকে প্রমোদ ভ্রমণে পাঠানো হলো। সরকারের এই উদ্যোগ আত্মঘাতী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে অপর পুলিশ কর্মকর্তারা বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে উত্সাহ পাবেন।
অবকাশকালীন ছুটিতে পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতিঝিল জোনের ডিসি শেখ নাজমুল আলমসহ কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করা হয়, কিন্তু পরক্ষণেই আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের হস্তক্ষেপে চলে আসে এডিসি মেহেদী হাসানের নাম। শিগগিরই পল্টন থানার ওসি গোলাম সারোয়ার ও বিরোধী দলকে শায়েস্তাকারী আরও কয়েকজন পুলিশ কমকর্তাকে অবকাশকালীন ছুটি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, অতিউত্সাহী পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এরই মধ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। ১১ মার্চ বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাংচুর ও তাণ্ডব চলে তারই নেতৃত্বে। এছাড়াও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-নিপীড়নে তিনি বরাবরই অতিউত্সাহী। জোনের ডিসি, ডিএমপির কমিশনার কিংবা আইজির নির্দেশেরও তোয়াক্কা করেন না। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ডিএমপির কর্মকর্তাদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। তার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা মতিঝিল জোন ছেড়েছেন। তার নির্দেশমত গুলি না করায় দুই কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছিল।
এর আগে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছিলেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে লাঞ্ছিত ও আহত করার জন্য ডিসি হারুনকে রাষ্ট্রপতি পদক দেয়া হয়েছে। ডিএমপির একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ডিসি হারুনকে পুরস্কৃত করার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাণ্ডব চালানোর নেতৃত্ব প্রদানকারী এডিসি মেহেদীকে এবার সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে পুরস্কৃত করা হলো।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়