১৫১ নেতা ৮ দিনের রিমান্ডে : আদালতে নেয়া হয় ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে
স্টাফ রিপোর্টার
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
বিস্ফোরক ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দুই মামলায় জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাজাহানসহ বিরোধী ১৫১ নেতাকর্মীকে আট দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে প্রয়োজনে তাদেরকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।
গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে পুলিশের রিমান্ড এবং আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হোসেন ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কেশব রায় চৌধুরী এ আদেশ দেন। বিস্ফোরকদ্রব্য মামলায় পাঁচ দিন ও পুলিশের কাজে বাধাদানে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রিমান্ড আদেশের পর বিএনপি নেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা দুটি মামলায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশের মতোই নিম্ন আদালত সরকারের নির্দেশে চলছে। সরকারের আদেশেই এভাবে ন্যক্কারজনকভাবে এত নেতাকর্মীর রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাঁচ মামলায় গতকাল আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালত পরবর্তী হাজিরার দিন ২১ এপ্রিল ধার্য করেন। পুলিশকে ওইদিন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের ভিন্ন ভিন্ন আদালতে দায়ের করা পাঁচ মামলায় পৃথকভাবে হাজিরা দেন বিএনপি মহাসচিব। গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিতে সহিংসতার অভিযোগে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে পল্টন, কলাবাগান, সূত্রাপুর ও শেরেবাংলা নগর থানায় এসব মামলা করে পুলিশ। সবক’টি মামলায় উচ্চ আদালতের জামিনে আছেন মির্জা ফখরুল।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে পুলিশি হামলা, কার্যালয়ে ঢুকে পুলিশি তাণ্ডব এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ১৫৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। পরের দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং ১৫৪ জন নেতার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় দিয়ে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত তাদের কারাগারে পাঠায় ও গতকাল শুনানির দিন ধার্য করে। সিনিয়র কয়েকজন নেতা ছাড়া অন্যদেরকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
পল্টন মডেল থানার এই দুই মামলার একটি অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় [নম্বর ২১(৩)১৩] ১০ দিনের রিমান্ড ও জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আমান, রিজভী ও ফারুকের রিমান্ড এবং জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বাকিদের জামিন আবেদন নাকচ করে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
দ্রুত বিচার আইন ২০০২-এর ৪ ও ৫ ধারায় দায়ের করা অপর একটি মামলায় [মামলা নম্বর-২০(৩)১৩] ৭ দিনের রিমান্ড ও জামিন আবেদনের শুনানি হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে। এ মামলায়ও আমান, রিজভী ও ফারুকের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বাকিদের জামিন আবেদন নাকচ করে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা যথাক্রমে পল্টন থানার এস আই মাহমুদুল ইসলাম ও এসআই আবু জাফর।
আদালতের আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এ ধরনের জঘন্য ও ন্যক্কারজনক রিমান্ড আদেশে প্রমাণিত হলো নিম্ন আদালত স্বাধীনভাবে চলছে না। আদালতের এ আদেশ সরকারি নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে নির্লজ্জ উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আদালতের এ আদেশকে অভিনব কূটচাল ও সরকারের অপরাজনীতির ঘৃণ্য নজির উল্লেখ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শত শত আইনজীবী। আইনজীবীরা বলেন, উভয় আদালতই পূর্ব বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে সরকারের নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে নির্লজ্জ ও নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছেন। স্বাধীন আদালতের নামে সরকারের তস্করের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বিচারকরা যে কত নোংরাভাবে ব্যবহৃত হতে পারেন, আজকের এই আদেশই তারই নজির।
আদালতে শুনানিতে আরও অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ মাহমদু হাসান, খোরশেদ মিয়া আলম, মহসিন মিয়া, খোরশেদ আলম, বোরহানউদ্দিন, ইকবাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা খান, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, ওমর ফারুক ফারুকী প্রমুখ।
রিমান্ডে নেয়া ১৫১ আসামি হলেন -বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, সোহেল রানা, মঞ্জুর হোসেন, এহসানুল হক, আজিজুল ইসলাম মুনির, আলাউদ্দিন মানিক, ইকবাল মোর্শেদ খান, কামাল আহমেদ, শাকিল, মনির হোসেন, তাইমুল ইসলাম, ইকবাল, নাঈম আহমেদ, মজিবর রহমান, মিঠু তালুকদার, মামুন, ওমর ফারুক, জুলফিকার আলী ভুট্টু, মামুন, দেলোয়ার হোসেন, রবিউল আউয়াল, জসিম উদ্দিন, মামুনুর রশিদ, ওয়াহিদুজ্জামান, আল আমিন, আবুল হোসেন, মাসুদ রানা রিয়াজ, আবুল কালাম, মিজান, বাচ্চু, কামরুজ্জামান ওরফে রিপন, লিটন, আবদুল মান্নান, শহিদু্জ্জামান, আমির হোসেন জুয়েল, মো. রেজাউল ইসলাম, এমএ সোবহান, রফিকুল ইসলাম, মো. জুয়েল, আল আমিন, ওমর ফারুক, মিজানুর রহমান, শাহিন মো. শাহান শাহ, জাকির হোসেন, আজগর আলী, শাহজাহান, মুকুল সরকার, মাসুদ আহমেদ, খোরশেদ আলম, শাহজাহান পাঠান, শিহাব উদ্দিন, রবিউল, কামাল উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, সবুজ, নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, নাসির আহমেদ খোকা, অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রেজা, সোহেল, হাফেজ সাইফুল্লাহ, আবু সালেহ, সিরাজুল ইসলাম মানিক, মাহবুবুর রহমান ছানা, শাহিন, শামসুদ্দিন, কামরুল, এশাকুল ইসলাম লিন্টু, রুবেল মাহমুদ, মিয়া হোসেন, মেহেদি হাসান লিটু, শাহাবুদ্দিন, লিটন, সালাউদ্দিন, সেন্টু শেখ, আবদুল কাদের, আশিক, শাহমান শাহাদাত্, জহিরুল ইসলাম, আনোয়ার, তোজাম্মেল হক সোহাগ, কাজী রওনাকুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, মইনুল ইসলাম, আরেফিন আহমেদ খান সাজু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফোরকান ই আলম, সাইফুদ্দিন আহমেদ, জামাল শরিফ হিরু, তাজুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন রাসেল, মনিরুজ্জামান, শাহজাহান, আবদুল হালিম খান, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল কাদির জিলানি ভূঁইয়া, রুহুল আমিন, খোকন এরশাদ, জিয়াউল হক জিয়া, ইকবাল হোসেন গনি, বশিরুল আলম টিটু, আল আমিন, অ্যানি, সুমন আহমেদ রাজ, জুয়েল, আসাদু্জ্জামান শিমুল, এমএ বারি, আবদুল্লাহ, মনির হোসেন, রাসেল, নাসির তালুকদার, বাবুল শিকদার, হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, কায়সার, মোশাররফ হোসাইন, ওয়াসিম আলম, জাহিদুল আলম মিলন, মাসুদ রানা, সোহেল, সাইফুল্লাহ, আবুল কালাম, মালেক, এমএ কাশেম মজুমদার, এমএ জহিরুল ইসলাম, রতন মিয়া, বিল্লাল হোসেন, রেজাউল করিম, ইলিয়াস, জোনায়েদ ওসমান, আলমগীর, তুষার, ফরহাদ, দাউদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, কেএম সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট জেড মোর্তজা চৌধুরী, এমআর আলী ফাহিম, নজরুল ইসলাম, প্রফেসর আবু তাহের, সম্রাট, আলমাস, আশরাফুল ইসলাম শুকুর, তানভির হায়দার, শাহিন, আবদুুল্লাহ আল হাসান, ফেরদৌস ও ইমরুল কায়েস।
বিএনপি’র নিন্দা : ১৫১ নেতাকর্মীর জামিন বাতিল করে রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিন্দা জানিয়ে সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, গ্রেফতার করা নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন এবং তাতে তাদের কোনো ধরনের ক্ষতি হলে তার সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ড বাতিল এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১১ মার্চ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং পরে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আজ তাদের রিমান্ডে নেয়ার ঘটনা বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী অপরাজনীতিরই অংশ। প্রচলিত আইন এবং গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার বর্তমান আওয়ামী সরকারের স্বেচ্ছাচারি শাসনে আজ ভূ-লুণ্ঠিত। প্রচলিত আইনে দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত না হওয়ার কারণে নাগরিক জীবন সর্বদা আতঙ্কগ্রস্ত। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নিজেদের অপকর্ম বিরোধী পক্ষের ঘাড়ে চাপানোর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। আর এ কারণেই বানোয়াট মামলা, গ্রেফতার, হত্যা, গুম, অপহরণ এখন বর্তমান সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বানোয়াট মামলা দায়ের, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বর্বর নির্যাতন এবং গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখে নিজেদের অপশাসন প্রলম্বিত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকার এখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।
ড্যাবের নিন্দা : এদিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। গতকাল ড্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে তার সব মিথ্যা মামলা বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায়।
গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে পুলিশের রিমান্ড এবং আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হোসেন ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কেশব রায় চৌধুরী এ আদেশ দেন। বিস্ফোরকদ্রব্য মামলায় পাঁচ দিন ও পুলিশের কাজে বাধাদানে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রিমান্ড আদেশের পর বিএনপি নেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা দুটি মামলায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশের মতোই নিম্ন আদালত সরকারের নির্দেশে চলছে। সরকারের আদেশেই এভাবে ন্যক্কারজনকভাবে এত নেতাকর্মীর রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাঁচ মামলায় গতকাল আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালত পরবর্তী হাজিরার দিন ২১ এপ্রিল ধার্য করেন। পুলিশকে ওইদিন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের ভিন্ন ভিন্ন আদালতে দায়ের করা পাঁচ মামলায় পৃথকভাবে হাজিরা দেন বিএনপি মহাসচিব। গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিতে সহিংসতার অভিযোগে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে পল্টন, কলাবাগান, সূত্রাপুর ও শেরেবাংলা নগর থানায় এসব মামলা করে পুলিশ। সবক’টি মামলায় উচ্চ আদালতের জামিনে আছেন মির্জা ফখরুল।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে পুলিশি হামলা, কার্যালয়ে ঢুকে পুলিশি তাণ্ডব এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ১৫৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। পরের দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং ১৫৪ জন নেতার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় দিয়ে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত তাদের কারাগারে পাঠায় ও গতকাল শুনানির দিন ধার্য করে। সিনিয়র কয়েকজন নেতা ছাড়া অন্যদেরকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
পল্টন মডেল থানার এই দুই মামলার একটি অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় [নম্বর ২১(৩)১৩] ১০ দিনের রিমান্ড ও জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আমান, রিজভী ও ফারুকের রিমান্ড এবং জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বাকিদের জামিন আবেদন নাকচ করে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
দ্রুত বিচার আইন ২০০২-এর ৪ ও ৫ ধারায় দায়ের করা অপর একটি মামলায় [মামলা নম্বর-২০(৩)১৩] ৭ দিনের রিমান্ড ও জামিন আবেদনের শুনানি হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে। এ মামলায়ও আমান, রিজভী ও ফারুকের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বাকিদের জামিন আবেদন নাকচ করে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা যথাক্রমে পল্টন থানার এস আই মাহমুদুল ইসলাম ও এসআই আবু জাফর।
আদালতের আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এ ধরনের জঘন্য ও ন্যক্কারজনক রিমান্ড আদেশে প্রমাণিত হলো নিম্ন আদালত স্বাধীনভাবে চলছে না। আদালতের এ আদেশ সরকারি নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে নির্লজ্জ উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আদালতের এ আদেশকে অভিনব কূটচাল ও সরকারের অপরাজনীতির ঘৃণ্য নজির উল্লেখ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শত শত আইনজীবী। আইনজীবীরা বলেন, উভয় আদালতই পূর্ব বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে সরকারের নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে নির্লজ্জ ও নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছেন। স্বাধীন আদালতের নামে সরকারের তস্করের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বিচারকরা যে কত নোংরাভাবে ব্যবহৃত হতে পারেন, আজকের এই আদেশই তারই নজির।
আদালতে শুনানিতে আরও অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ মাহমদু হাসান, খোরশেদ মিয়া আলম, মহসিন মিয়া, খোরশেদ আলম, বোরহানউদ্দিন, ইকবাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা খান, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, ওমর ফারুক ফারুকী প্রমুখ।
রিমান্ডে নেয়া ১৫১ আসামি হলেন -বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, সোহেল রানা, মঞ্জুর হোসেন, এহসানুল হক, আজিজুল ইসলাম মুনির, আলাউদ্দিন মানিক, ইকবাল মোর্শেদ খান, কামাল আহমেদ, শাকিল, মনির হোসেন, তাইমুল ইসলাম, ইকবাল, নাঈম আহমেদ, মজিবর রহমান, মিঠু তালুকদার, মামুন, ওমর ফারুক, জুলফিকার আলী ভুট্টু, মামুন, দেলোয়ার হোসেন, রবিউল আউয়াল, জসিম উদ্দিন, মামুনুর রশিদ, ওয়াহিদুজ্জামান, আল আমিন, আবুল হোসেন, মাসুদ রানা রিয়াজ, আবুল কালাম, মিজান, বাচ্চু, কামরুজ্জামান ওরফে রিপন, লিটন, আবদুল মান্নান, শহিদু্জ্জামান, আমির হোসেন জুয়েল, মো. রেজাউল ইসলাম, এমএ সোবহান, রফিকুল ইসলাম, মো. জুয়েল, আল আমিন, ওমর ফারুক, মিজানুর রহমান, শাহিন মো. শাহান শাহ, জাকির হোসেন, আজগর আলী, শাহজাহান, মুকুল সরকার, মাসুদ আহমেদ, খোরশেদ আলম, শাহজাহান পাঠান, শিহাব উদ্দিন, রবিউল, কামাল উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, সবুজ, নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, নাসির আহমেদ খোকা, অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রেজা, সোহেল, হাফেজ সাইফুল্লাহ, আবু সালেহ, সিরাজুল ইসলাম মানিক, মাহবুবুর রহমান ছানা, শাহিন, শামসুদ্দিন, কামরুল, এশাকুল ইসলাম লিন্টু, রুবেল মাহমুদ, মিয়া হোসেন, মেহেদি হাসান লিটু, শাহাবুদ্দিন, লিটন, সালাউদ্দিন, সেন্টু শেখ, আবদুল কাদের, আশিক, শাহমান শাহাদাত্, জহিরুল ইসলাম, আনোয়ার, তোজাম্মেল হক সোহাগ, কাজী রওনাকুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, মইনুল ইসলাম, আরেফিন আহমেদ খান সাজু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফোরকান ই আলম, সাইফুদ্দিন আহমেদ, জামাল শরিফ হিরু, তাজুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন রাসেল, মনিরুজ্জামান, শাহজাহান, আবদুল হালিম খান, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল কাদির জিলানি ভূঁইয়া, রুহুল আমিন, খোকন এরশাদ, জিয়াউল হক জিয়া, ইকবাল হোসেন গনি, বশিরুল আলম টিটু, আল আমিন, অ্যানি, সুমন আহমেদ রাজ, জুয়েল, আসাদু্জ্জামান শিমুল, এমএ বারি, আবদুল্লাহ, মনির হোসেন, রাসেল, নাসির তালুকদার, বাবুল শিকদার, হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, কায়সার, মোশাররফ হোসাইন, ওয়াসিম আলম, জাহিদুল আলম মিলন, মাসুদ রানা, সোহেল, সাইফুল্লাহ, আবুল কালাম, মালেক, এমএ কাশেম মজুমদার, এমএ জহিরুল ইসলাম, রতন মিয়া, বিল্লাল হোসেন, রেজাউল করিম, ইলিয়াস, জোনায়েদ ওসমান, আলমগীর, তুষার, ফরহাদ, দাউদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, কেএম সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট জেড মোর্তজা চৌধুরী, এমআর আলী ফাহিম, নজরুল ইসলাম, প্রফেসর আবু তাহের, সম্রাট, আলমাস, আশরাফুল ইসলাম শুকুর, তানভির হায়দার, শাহিন, আবদুুল্লাহ আল হাসান, ফেরদৌস ও ইমরুল কায়েস।
বিএনপি’র নিন্দা : ১৫১ নেতাকর্মীর জামিন বাতিল করে রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিন্দা জানিয়ে সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, গ্রেফতার করা নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন এবং তাতে তাদের কোনো ধরনের ক্ষতি হলে তার সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ড বাতিল এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১১ মার্চ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং পরে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আজ তাদের রিমান্ডে নেয়ার ঘটনা বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী অপরাজনীতিরই অংশ। প্রচলিত আইন এবং গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার বর্তমান আওয়ামী সরকারের স্বেচ্ছাচারি শাসনে আজ ভূ-লুণ্ঠিত। প্রচলিত আইনে দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত না হওয়ার কারণে নাগরিক জীবন সর্বদা আতঙ্কগ্রস্ত। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নিজেদের অপকর্ম বিরোধী পক্ষের ঘাড়ে চাপানোর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। আর এ কারণেই বানোয়াট মামলা, গ্রেফতার, হত্যা, গুম, অপহরণ এখন বর্তমান সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বানোয়াট মামলা দায়ের, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বর্বর নির্যাতন এবং গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখে নিজেদের অপশাসন প্রলম্বিত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকার এখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।
ড্যাবের নিন্দা : এদিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। গতকাল ড্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে তার সব মিথ্যা মামলা বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায়।
Comments