
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ওলামা-মাশায়েখ তৌহিদি জনতা সংহতি পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা
ফরীদ উদ্দিন মাসউদ বলেছেন, সবচেয়ে বড় নাস্তিক-মুরতাদ জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। আবু লাহাব ও আবু জাহেলও রাসূল (সা.)কে মিথ্যাবাদী বলার সাহস পায়নি। কিন্তুÍ জামায়াত-শিবির আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলাম সম্পর্কে চরম অবমাননা করছে। জামায়াত-শিবির আল্লাহ ও রাসূল (সা.) নিয়ে প্রতারণা করছে। এদের প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, জামায়াত-শিবির কোনো ইসলামী দল নয়। এরা একটি সন্ত্রাসী দল। জামায়াত মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য বিষের বোতল নিয়ে ঘুরছে। জামায়াত-শিবিরের ইসলামী ব্যাংকে টাকার রাখা হারাম। জামায়াত-শিবিরের অর্থের উৎসগুলো বাজেয়াপ্ত করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের একাউন্ট প্রত্যাহার করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। ধর্মদ্রোহী ও রাষ্ট্রদ্রোহীদের মুখোস উন্মোচন ও মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে গতকাল মতিঝিলস্থ শাপলা চত্বরে বাংলাদেশ ওলামা-মাশায়েখ তৌহিদি জনতা সংহতি পরিষদ আয়োজিত মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ একথা বলেন। মহাসমাবেশে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে কর্মীরা ২/৩শ’ লোকের সমাবেশ দেখে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন। কোনো কোনো টিভি চ্যানেলের কর্তব্যরত সাংবাদিকরা এতে কম লোকের সমাবেশের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করতে গিয়ে বড়ই বেকায়দায় পড়েন। সমাবেশে দেশবরেণ্য কোনো আলেম-ওলামাকে চোখে পড়েনি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল সকাল ৮টায় আগারগাঁওস্থ ইফা’র প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর জেলার ৪শ’ মসজিদের ইমামকে প্রেসিডেন্ট মরহুম জিল্লুর রহমানের কুলখানিতে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণের নাম করে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সম্মেলন কক্ষে জড়ো করেন। এসব ৪শ’ ইমামকে শাপলা চত্বরে মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদের সমাবেশে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। বিক্ষুব্ধ এসব ইমামগণ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে জানিয়ে দেন আমরা ফরীদ উদ্দিন মাসউদের মহাসমাবেশে যাব না। যদি জোর করে সমাবেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় তবে ফরীদ উদ্দিন মাসউদের বিরুদ্ধে পাল্টা মিছিল হবে। পরে ইফা’র ডিজি এসব ইমামদের উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবির বিরোধী দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও কাউকে সমাবেশে যেতে বলতে সাহস পাননি। গতকাল রাজধানী’র মতিঝিল ও তার আশপাশের কয়েক বর্গকিলোমিটার জুড়ে রাস্তা বন্ধ করে বিশাল নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ইত্তেফাক মোড়, দৈনিক বাংলার মোড়, মতিঝিল বলাকা ভবন, আরামবাগ, সেনা কল্যাণ ভবন, মধুমিতা হল, দিলকুশা এলাকার রাস্তায় সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে সাধারণ যাত্রীসহ স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা চরম ভোগান্তির কবলে পড়ে। গোটা এলাকার ফুটপাতের দোকান-পাটসহ অন্যান্য অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়। সমাবেশের নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার উপর আর্চওয়ে (মেটাল ডিটেকটর) বসানো হয়। সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবার কথা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি না হওয়ায় বেলা ২টার দিকে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা আড়াইটায় মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ পুলিশি প্রহরায় একটি মাইক্রোবাস যোগে (ঢাকা-মেট্রো-চ-৫৩-৪৪০৩) শাপলা চত্বর মঞ্চের সামনে পৌঁছলে শ্লোগান দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এসময়ে মঞ্চের সামনে কার্পেটে বসা লোকজনের সংখ্যা ছিল মাত্র দুশ’ থেকে আড়াইশ’।
মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈফী, বি-বাড়িয়ার মুফতী নূরুল্লাহ (রহ.)-এর ছাহেবজাদা মুফতী এনায়েত উল্লাহ, ময়মনসিংহের মাওলানা ওবায়দুর রহমান, জামালপুরের মাওলানা রফিকুল ইসলাম আকন্দ, ময়মনসিংহের মুফতী তাজুল ইসলাম, খুলনার মাওলানা আবুল হোসেন, মাদারীপুরের মাওলানা জহিরুল ইসলাম মিয়া, সিলেটের মাওলানা আবু হোসাইন চুুরী, গাজীপুরের মাওলানা আসাদুজ্জামান, ফরিদপুরের মাওলানা রেজা আব্দুল্লাহ, ও কিশোরগঞ্জের মাওলানা আইনুল ইসলাম। সমাবেশ পরিচালনা করেন মাওলানা রুহুল আমিন সিরাজী।
মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, কিছু কুলাঙ্গার নাস্তিক ব্লগার রাসূল (সা.) সম্পর্কে জঘন্য কটূক্তি করছে। এদের বিচার করতে হবে। নাস্তিক ব্লগারদের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটিতে কওমী মাদরাসা, আলিয়া মাদরাসা ও পীর মাশায়েখদের মধ্য থেকে ১ জন করে ৩ জন আলেম অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। নাস্তিক ব্লগারদের তওবা করে ফিরে আসতে হবে। তবেই তারা রাসূল (সা.) ক্ষমা পেতে পারেন।
মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর কোরআন সুন্নাহবিরোধী আইন প্রণয়ন না করার ওয়াদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে জনগণ ক্ষমতায় এনেছে। শিক্ষানীতি ও নারীনীতিতে যেসব ধারা কোরআন হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক, ওলামায়ে কেরামের পরামর্শক্রমে সেগুলো অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে। কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি অবিলম্বে দিতে হবে। তিনি ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মের মর্যাদা রক্ষায় স্থায়ী আইন প্রণয়নের দাবি জানান।
শিবিরের নেতার প্যারোডি পরিবেশন
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে ডাকা মহাসমাবেশে জামায়াত নেতার হামদ-নাথ পরিবেশন করছে জামায়াতবিরোধীরা। সমাবেশের মঞ্চে পরিবেশনকৃত অধিকাংশ হামদই জামায়াত-শিবিরের কবিদের লেখা। এতে উপস্থিত লোকজন বিব্রত হন।
সকাল সাড়ে ১১টায় সমাবেশে ‘রামপুরা ইকরা মাদরাসার ছাত্র আলী হুসাইন একটি প্যারোডি হামদ পরিবেশন করেন। হামদটির শিরোনাম ‘কোন একদিন এদেশের আকাশে পতাকা উড়বে, কালেমার পতাকা উড়বে, সেদিন সবাই খোদাই বিধান পেয়ে দুঃখ-বেদনা ভুলবে।’ তার এ হামদ-এর পর উপস্থিত সমাবেশে আসা সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে কানাকানি শুরু হয়। অনেককেই এ রকমও বলতে শোনা যায়- শিবিরের কিছু এজেন্ট এসব হামদ পরিবেশন করাচ্ছে। এরপর আরো কয়েকটি হামদ পরিবেশন করা হয় যেগুলোর অধিকাংশ শিবিরের সাবেক নেতা লোকমান হাকিমের লেখা। হামদটি কার লেখা জিজ্ঞেস করলে হুসাইন জানায়, গত (শুক্রবার) রাতে আমাকে বলা হয়, সমাবেশে একটি হামদ পরিবেশন করতে হবে। তাই এ আলোচিত হামদটি একটি বই থেকে পড়ে এখানে পরিবেশন করেছি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওলামা মাশায়েখ তৌহিদি জনতা সংহতি পরিষদের সমাবেশের অন্যতম উদ্যোক্তা মাওলানা রুহুল আমিন সিরাজী সাংবাদিকদের বলেন, “কী হামদ পরিবেশন হয়েছে তা আমার জানা নেই। শিবিরের নেতাদের লেখা এ রকম কোন হামদ পরিবেশন হলে নিশ্চয় অন্যায়। আমি বিষয়টি দেখছি।”
সমাবেশে মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, জেলায় জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি শীঘ্রই কনভেনশন করার ঘোষণা দেন। সমাবেশ শেষে মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ প্রেসিডেন্ট মরহুম জিল্লুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের গুদের হাতেই যাতে আমার মৃত্যু হয় তা’হলেই শহীদি দরজা পাবো।
Comments