নির্দোষ যুবকদের দুজন এখনো কারাবন্দী
- Get link
- X
- Other Apps
কাজী আনিছ | তারিখ: ২৪-০৩-২০১৩
বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো নির্দোষ সেই চার যুবকের দুজন মোসলেহ উদ্দিন ও কাজী নাহিদুজ্জামান (তুহিন) হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু অপর দুজন মামুনুর রশিদ ও ফারুক হোসেন এখনো কারাগারে। সাড়ে তিন মাস ধরে নিম্ন আদালতে চেষ্টা করেও জামিন মেলেনি তাঁদের।
অথচ পুলিশের তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে, এই কর্মজীবী চার যুবক কোনোভাবেই বিশ্বজিৎ দাস হত্যায় জড়িত নন। ৫ মার্চ আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে এই চারজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মামুন ও ফারুকের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুক্তি পেয়ে আসামি তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে কিংবা পালিয়ে যেতে পারেন বা আবার অপরাধে জড়িত হতে পারেন—সাধারণত এসব কারণে আদালত জামিন দেন না। কিন্তু মামুনুর ও ফারুকের ক্ষেত্রে এর কোনোটাই খাটে না। তাঁরা যে পুলিশের অবিচারের শিকার, তাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাই তাঁদের জামিনের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম।’
ফারুকের ভাই আলতাফ হোসেন বলেন, ‘দোষ না কইরাও আমার ভাই জেল খাটল। চার্জশিট থেইকা নামও বাদ গেল। তার পরও ছাড়ে না ক্যান?’
গত ৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচির দিন পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে পথচারী দরজি দোকানি বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। এতে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও ছবি টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরও পুলিশ শুরুতে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরই অংশ হিসেবে ঘটনার দুই দিন পর রাস্তা থেকে ওই চার যুবককে ধরে নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এই চার যুবকের মধ্যে ঢাকার মধ্য বাড্ডার মোসলেহ উদ্দিন এলাকায় বিদ্যুতিক সামগ্রীর দোকান চালান। নাহিদুজ্জামান পুরান ঢাকার ইসলামপুরে কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন। মামুনুর রশিদের উত্তরায় কাপড়ের দোকান আছে। ফারুক তাঁর বন্ধু এবং কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন। মামুন ও ফারুক এক আত্মীয়ের মামলার কাজে আদালতে গিয়ে পুলিশের কবলে পড়েন। নাহিদুজ্জামানও এক বন্ধুর মামলার কাজে আদালতপাড়ায় গিয়েছিলেন।
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত মোসলেহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট ৬ মার্চ তাঁর ও নাহিদুজ্জামানের জামিন মঞ্জুর করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি ১৫ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি বলেন, ১১ ডিসেম্বর তিনি দোকানের মাল কিনতে পুরান ঢাকায় যান। হঠাৎ কয়েকজন পুলিশ তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে। প্রথমে তাঁকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকেসহ ১৪ জনকে ওয়ারী থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পরদিন সকালে ছয়জনকে ও বিকেলে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি চারজনকে ওই দিন বিকেলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মোসলেহ উদ্দিন বলেন, এরপর তাঁদের চারজনেরই জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ১৪ ডিসেম্বর তাঁরা বের হওয়ার জন্য কারা ফটকেও আসেন। তখন কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁদের বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাই আর বেরোতে পারেননি।
মামুনুরের বাবা হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘অভিযোগপত্রে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আশাবাদী হই। তাই হাইকোর্টে না গিয়ে জামিনের আশায় আবার নিম্ন আদালতে ফিরে যাই। কিন্তু জামিন হলো না। ছেলেটার ভাগ্যে কী আছে, বুঝতে পারছি না।’
এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোতে ‘ফাঁসানো হচ্ছে চারজনকে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশের তদন্তেও এঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হন। পুলিশ বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ২১ জনকে আসামি করে ৫ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ২০ মার্চ ছিল অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির তারিখ। ওই দিন বিশ্বজিৎ হত্যায় নালিশি মামলার বাদী মাহবুবুল আলম নারাজি দরখাস্ত করার জন্য সময়ের আবেদন করেন। এরপর আদালত আগামী ২ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন।
অথচ পুলিশের তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে, এই কর্মজীবী চার যুবক কোনোভাবেই বিশ্বজিৎ দাস হত্যায় জড়িত নন। ৫ মার্চ আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে এই চারজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মামুন ও ফারুকের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুক্তি পেয়ে আসামি তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে কিংবা পালিয়ে যেতে পারেন বা আবার অপরাধে জড়িত হতে পারেন—সাধারণত এসব কারণে আদালত জামিন দেন না। কিন্তু মামুনুর ও ফারুকের ক্ষেত্রে এর কোনোটাই খাটে না। তাঁরা যে পুলিশের অবিচারের শিকার, তাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাই তাঁদের জামিনের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম।’
ফারুকের ভাই আলতাফ হোসেন বলেন, ‘দোষ না কইরাও আমার ভাই জেল খাটল। চার্জশিট থেইকা নামও বাদ গেল। তার পরও ছাড়ে না ক্যান?’
গত ৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচির দিন পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে পথচারী দরজি দোকানি বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। এতে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও ছবি টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরও পুলিশ শুরুতে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরই অংশ হিসেবে ঘটনার দুই দিন পর রাস্তা থেকে ওই চার যুবককে ধরে নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এই চার যুবকের মধ্যে ঢাকার মধ্য বাড্ডার মোসলেহ উদ্দিন এলাকায় বিদ্যুতিক সামগ্রীর দোকান চালান। নাহিদুজ্জামান পুরান ঢাকার ইসলামপুরে কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন। মামুনুর রশিদের উত্তরায় কাপড়ের দোকান আছে। ফারুক তাঁর বন্ধু এবং কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন। মামুন ও ফারুক এক আত্মীয়ের মামলার কাজে আদালতে গিয়ে পুলিশের কবলে পড়েন। নাহিদুজ্জামানও এক বন্ধুর মামলার কাজে আদালতপাড়ায় গিয়েছিলেন।
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত মোসলেহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট ৬ মার্চ তাঁর ও নাহিদুজ্জামানের জামিন মঞ্জুর করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি ১৫ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি বলেন, ১১ ডিসেম্বর তিনি দোকানের মাল কিনতে পুরান ঢাকায় যান। হঠাৎ কয়েকজন পুলিশ তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে। প্রথমে তাঁকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকেসহ ১৪ জনকে ওয়ারী থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পরদিন সকালে ছয়জনকে ও বিকেলে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি চারজনকে ওই দিন বিকেলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মোসলেহ উদ্দিন বলেন, এরপর তাঁদের চারজনেরই জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ১৪ ডিসেম্বর তাঁরা বের হওয়ার জন্য কারা ফটকেও আসেন। তখন কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁদের বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাই আর বেরোতে পারেননি।
মামুনুরের বাবা হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘অভিযোগপত্রে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আশাবাদী হই। তাই হাইকোর্টে না গিয়ে জামিনের আশায় আবার নিম্ন আদালতে ফিরে যাই। কিন্তু জামিন হলো না। ছেলেটার ভাগ্যে কী আছে, বুঝতে পারছি না।’
এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোতে ‘ফাঁসানো হচ্ছে চারজনকে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশের তদন্তেও এঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হন। পুলিশ বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ২১ জনকে আসামি করে ৫ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ২০ মার্চ ছিল অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির তারিখ। ওই দিন বিশ্বজিৎ হত্যায় নালিশি মামলার বাদী মাহবুবুল আলম নারাজি দরখাস্ত করার জন্য সময়ের আবেদন করেন। এরপর আদালত আগামী ২ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments