স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীতে শিবিরের শোভাযাত্রা : পুলিশের হামলায় ২১ গুলিবিদ্ধ আহত অর্ধশতাধিক, আটক ৭



স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
রাজধানীতে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত শোভাযাত্রায় পুলিশ বেপরোয়া হামলা চালায়। পুলিশের অতর্কিত টিয়ারশেল ও গুলিতে ২১ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পথচারীসহ শিবিরের ৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রায় হামলার এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তা মোড়ের কাছ থেকে কয়েক হাজার শিবির নেতাকর্মী জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করে। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি সাতরাস্তা মোড়ের কাছে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে নেতাদের বক্তব্যের একপর্যায়ে পুলিশ শিবিরকর্মীদের ওপর অতর্কিত টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণ করে। এতে ২১ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। পুলিশের তাণ্ডবে পদদলিত হয় জাতীয় পতাকা। ধাওয়া খেয়ে শিবিরকর্মীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে। এ সময় ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। এ অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত জানান, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালায়। এতে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পথচারীসহ ৭ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ ২১ জনের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর বলে তিনি জানান।
তবে এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, সকালে শিবির একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোড়া হয়। তবে এতে কেউ আহত হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।
এদিকে হামলার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিবির নেতারা বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে। অত্যাচার-নির্যাতন করে শিবিরকর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। এ সময় শিবির সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার ছাড়া কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, স্কুল সম্পাদক জাকির হোসেন সেলিম, পাঠাগার সম্পাদক মু. ইসমাঈল, তথ্য সম্পাদক নাসির উদ্দিন, মহানগর নেতা শাহীন আহমেদসহ মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হামলার প্রতিবাদ : এদিকে ছাত্রশিবিরের স্বাধীনতা দিবসের শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রায় হামলা ও গুলির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের শোভাযাত্রায় হামলা চালিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। সরকার নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করলেও এ হামলা চালিয়ে প্রমাণ করল, তারাই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। সরকার যতই ষড়যন্ত্র করুক, ছাত্রশিবির এ দেশের ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী সব চক্রান্ত রুখে দেবে, ইনশাআল্লাহ। এদিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা করে শিবির।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়