ভেষজ ওষুধ নিরাপদ নয়



ইনকিলাব ডেস্ক : ভেষজ ওষুধে বাড়ছে কিডনির গুরুতর অসুখ এবং গলব¬াডারে ক্যান্সারের সমস্যা। এমনটাই দাবি করেছেন একদল ব্রিটিশ গবেষক। মূলত ভারত এবং চীনের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রোগা হওয়া, হাঁপানি এবং আর্থ্রাইটিস কমাতে যে  ধরনের ভেষজ ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে তাতে রয়েছে মারাত্মক এক ধরনের বিষ। এই তিনটি রোগ কমাতে বহু বিজ্ঞাপিত যে ওষুধগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, তার কুপ্রভাব পড়ছে শরীরে। বাড়ছে ওই মারণ রোগগুলোর সম্ভাবনা। কী সেই বিষ, তাও চিহ্নিত করেছেন লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষকরা। এই রোগগুলো নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ ওষুধের মধ্যে অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিড নামে এক রাসায়নিক থাকে, যা প্রকৃতিতে ক্ষার জাতীয়। এই অ্যাসিডটি মূলত উদ্ভিজ। ভারতে পাওয়া যায় এমন কয়েকটি গাছ থেকে পাওয়া যায় এই অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড থেকে তৈরি হওয়া ভেষজ ওষুধ আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ। তবে ভারতে তৈরি বেশকিছু ভেষজ ওষুধে প্রচুর পরিমাণে এই অ্যাসিড ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অ্যাসিড বেশি পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি ফেলিওরের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এ ধরনের কিডনি ফেলিউরের নাম অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিড নেফ্রোপ্যাথি। গবেষকদের দাবি, এশিয়ায় এই রোগের শিকার কয়েক লাখ রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে না। আর চিকিৎসা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ভুল হচ্ছে। মারাত্মক এই অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিডের ব্যবহার রুখতে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন গবেষকরা। গবেষকদলের প্রধান, গ্রাহাম লর্ড জানিয়েছেন, ‘ভারতীয় অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিডযুক্ত ওষুধ প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে। এই অ্যাসিড শরীরের বেশি পরিমাণে প্রবেশ করলে কিডনির অসুখ এবং কিডনি ক্যান্সারের সম্ভাবনা  তৈরি করতে পারে।’ এই অ্যাসিডযুক্ত ভেষজ ওষুধ ব্যবহারের রাশ টানতে অচিরেই নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন তিনি। অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিড নেফ্রোপ্যাথিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ভারত এবং চীনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু সমস্যা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন লর্ড। ‘অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিন’ পত্রিকায় সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়েছে। লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করেছেন বেলজিয়াম, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানির গবেষকরা। তাঁরা মনে করছেন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিড নেফ্রোপ্যাথিতে আক্রান্ত রোগীদের নিরাময়ের জন্য যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তাতে বেশকিছু ঘাটতি রয়েছে। এই গবেষকরা বেশকিছু উপায় বৎলেছেন, যাতে এই রোগে আক্রান্তদের সহজেই চিকিৎসা করা যায়। অ্যারিস্টলোসিক অ্যাসিড নেফ্রোপ্যাথিকে বিশেষ ধরনের রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার কথাও বলেছেন এই গবেষকরা। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে এই রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগবে এমন নির্দেশিকাও তৈরি করেছেন তারা। সূত্র : মেডিক্যাল এক্সপ্রেস 

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়