ইরানে অপহৃত যুবকের বর্ণনা : বাংলাদেশী দালাল চক্রের নির্যাতন : ১১ বার বিক্রি ফিরে আসা পুনর্জন্ম
ইকবাল হোসেন স্বপন, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
ইরানে বাংলাদেশী অপহরণকারী চক্রের শিকার যুবক মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের দ্বিতীয়ারদেহী গ্রামের সামছুল হকের ছেলে এমরান হোসেন তুহিন। তুহিন ইরান-তুরস্কের মধ্যস্থলে গোপন আস্তানায় আটকের পর ১১ বার বিক্রি হয়েও অলৌকিকভাবে মুক্ত হন। অপহৃত তুহিন জানান, মনে হয় এখন আমি পুনরায় জন্ম নিয়েছি। এখনও নিজেকে বিশ্বাস করতে পারি না মুক্ত হিসেবে। এখনও ভয় হয়। অপহরণ হওয়া-পরবর্তী নির্যাতন কাহিনী এখনও চোখের সামনে ভাসে। ওরা আমাদের ১১ বার বিক্রি করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে বলতো, দেশ থেকে টাকা না দিলে, কিডনি বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন, চোখের সামনে অনেককে মরতে দেখেছি।
এদিকে গ্রেফতার হওয়ার পর জেলহাজত থেকে পুলিশের মাধ্যমে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সহযোগিতার বদলে গালাগাল করেছে। তুহিনের সঙ্গে মুক্ত হয়ে এসেছে ঢাকার মাছুম ও রিয়াদ, ভাটেরগাঁও মাইজগ্রামের সুমন, বড়লেখার কলারতলীপারের মনু মিয়া ও সুজাউল গ্রামের এনাম, রাজশাহীর এমদাদ, খুলনা বাগেরহাটের ফয়ছল, নাটোরের কাদিরসহ অনেকে।
সম্প্রতি ইরানে বড়লেখারসহ ৪ বাংলাদেশী যুবক অপহরণের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। অপহরণকারী চক্রের দেশীয় সহযোগী বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের আলম উদ্দিন গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার হওয়া আলমের কাছ থেকে অনেক তথ্য ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু আলমকে জেলহাজতে পাঠানোর ১৫ দিন পর তাকে রিমান্ডে আনা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাবি আলমের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ লোক দেখানো রিমান্ডের আবেদন করেছে। অপহরণকারীদের দেশীয় সহযোগী সদস্য আলমকে বাঁচাতে প্রভাবশালী মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলম গ্রেফতার হওয়ার পর বড়লেখার আলতাব হোসেন ও কাসেমের পরিবার থানায় এসে আলমকে শনাক্ত করে। কারণ আলম তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা চাইতে যায়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, আলম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আলতাব ও কাসেমের পরিবার মামলা করলে তা রেকর্ড করা হবে। ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরান থেকে ফিরে আসা যুবকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে (+৯৮২১৮৮৭৭২৯৭৯) নম্বরে যোগাযোগের করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশী যুবকের অপহরণকারীদের দাবি করা মুক্তিপণের টাকা লেনদেন এবং বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমেও টাকা লেনদেন চলছে বলে জানা যায়। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবী থেকে লক্ষ্মীপুরের মো. হিরণ ও মুন্সিগঞ্জের সুমন মণ্ডলের মতো বড়লেখার দুই যুবক আলতাব হোসেন ও কাসেমকে তুরস্ক-ইরাক সীমান্তে নিয়ে আটক করে অপহরণকারীরা। এই অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে বড়লেখায় গ্রেফতার হওয়া আলমের ভাই ইরানে অবস্থানরত ইমরান জড়িত। মুন্সিগঞ্জের সুমন মণ্ডল ও লক্ষ্মীপুরের হিরণের পরিবার দফায় দফায় মুক্তিপণের টাকা একটি বেসরকারি ব্যাংক ও বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংকের বড়লেখা শাখায় জমা দিয়েছে। কিন্তু তাদের সন্তানদের মুক্তি মিলছে না। লক্ষ্মীপুরের হিরণের পরিবারকে সোনালী ব্যাংকের বড়লেখা শাখায় আলম উদ্দিন নামের একজনের অ্যাকাউন্টে মুক্তিপণের টাকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় অপহরণকারীরা।
এছাড়াও মুন্সিগঞ্জের মায়া রানী মণ্ডলের ছেলে সুমন মণ্ডলকে আটক করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। এরপরও তাদের মুক্তি দেয়া হয়নি। সম্প্রতি অপহরণকারী চক্রের হাত থেকে মুক্ত হয়ে দেশে আসার ২৫ দিন পর বড়লেখার ৩ যুবকের ১ জন এমরান হোসেন তুহিনের বাড়িতে সরেজমিনে এ লোমহর্ষক কাহিনী জানান তিনি।
তিনি জানান, তাদের অনেক চাপাচাপির পর মিথ্যা প্রলোভনের ফাঁদে পা দেই আমরা ৩৭ বাংলাদেশী যুবক। প্রত্যেককে ৭ লাখ টাকা দেয়ার কন্ট্রাক হয়। রমজানের ৩ দিন আগে গ্রিসগামী জাহাজে আমাদের ওঠানো হয়। জাহাজের নিচতলায় আমাদের নামিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রচণ্ড গরমে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, পিপাসায় ময়লা বরফের পানি পান করেছি। ইরানের কাছাকাছি আসার পর দালালরা আমাদের জাহাজ থেকে সাগরে রাখা স্পিডবোটের ওপর ফেলে দেয়। এ সময় অনেকের হাত-পা ভেঙে যায়। স্পিডবোট নিয়ে পালাতে গিয়ে ইরানি পুলিশের হাতে ধরা পড়ি। ধরা পড়ার পর দালালরা আমাদের পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেয়। পরবর্তী ঘটনায় বুঝতে পারি এটা দালালদের একটা কৌশল। আমাদের ৩৭ জনকে একটি ঘরে আটকে রাখে। প্রতিদিন এক বেলা খাবার দিত। ৫ জনের খাবার আমাদের ৩৭ জনকে দেয়া হতো। ১০-১৫ দিন পর পর গোসল করার ব্যবস্থা করতো। আটকের দু’দিন পর আমাদের সবার বাড়ির ফোন নাম্বার, ঠিকানা নিয়ে বাড়িতে ফোন করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। টাকা না দিলে আমাদের হত্যা করে কিডনি বিক্রি করে টাকা নেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। ৩য় দিন আমাদের দালাল এসে বলে যারা টাকা দিতে পারবে তারা এক পাশে যাও, যারা পারবে না তারা অন্য পাশে যাও। আমাদের মাঝ থেকে ঢাকার কাঞ্চন নামে একজন টাকা দিতে পারবে না বললে তাকে লোহার রড গরম করে ও ইস্ত্রি গরম করে নির্যাতন করে। পরে সে আমাদের চোখের সামনে মারা যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের ভয়ে আমাদের সবার বাড়ি থেকে দফায় দফায় টাকা দেয়া হয়। তারপরও আমাদের মুক্তি মেলেনি। এরপর আমরা বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। এভাবে আমাদের এক দালাল থেকে অন্য দালালের কাছে ১১ বার বিক্রি করে। সর্বশেষ আমরা ২২ জন হই। আমাদের সঙ্গে থাকা মৌলভীবাজারের রুবেল যাত্রীবেশী দালাল। সে আমাদের মৌলভীবাজারের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে ইরানে স্থায়ী বসবাসরত তার মামা খোরশেদ আলমের কাছে যেতে বলে। সেখানে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেয়। একদিন রাতে আমরা সবাই পাহারারত দালালকে বেঁধে পালিয়ে যাই। দালালদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে রুবেলের মামা খোরশেদের কাছে আমরা ফোন দেই। তিনি একটি গাড়ি পাঠিয়ে আমাদের তার বাসায় নেন। সেখানে তিনিও আমাদের আটক করে নবীগঞ্জের মনু হাজির (ইরানে স্থায়ী বসবাসরত) কাছে আমাদের বিক্রি করে দেন। সেখান থেকে পালিয়ে আমরা একটি ইরানি বাড়িতে আশ্রয় নেই। এই ইরানি বাড়ির লোকজন স্থানীয় পুলিশে খবর দেয়। তারা আমাদের কাপড় চোপড়সহ খাদ্যসামগ্রী কিনে দেয় এবং ইরানি লোকজন পুলিশ আসার পর পুলিশকে বলে এরা বিপদগ্রস্ত তোমরা তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিও না। তাদের যেভাবে হোক জেলহাজত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিও। পরে জেল থেকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার জিয়া নামের একজন দালাল (ইরানে স্থায়ী বসবাসরত) আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে যোগাযোগ করে ৪৫/৬৫ হাজার টাকা করে নিয়ে আমাদের বাংলাদেশে আসার ব্যবস্থা করে দেয়। এভাবেই ফিরে আসি প্রিয় মাতৃভূমিতে।
এদিকে গ্রেফতার হওয়ার পর জেলহাজত থেকে পুলিশের মাধ্যমে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সহযোগিতার বদলে গালাগাল করেছে। তুহিনের সঙ্গে মুক্ত হয়ে এসেছে ঢাকার মাছুম ও রিয়াদ, ভাটেরগাঁও মাইজগ্রামের সুমন, বড়লেখার কলারতলীপারের মনু মিয়া ও সুজাউল গ্রামের এনাম, রাজশাহীর এমদাদ, খুলনা বাগেরহাটের ফয়ছল, নাটোরের কাদিরসহ অনেকে।
সম্প্রতি ইরানে বড়লেখারসহ ৪ বাংলাদেশী যুবক অপহরণের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। অপহরণকারী চক্রের দেশীয় সহযোগী বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের আলম উদ্দিন গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার হওয়া আলমের কাছ থেকে অনেক তথ্য ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু আলমকে জেলহাজতে পাঠানোর ১৫ দিন পর তাকে রিমান্ডে আনা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাবি আলমের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ লোক দেখানো রিমান্ডের আবেদন করেছে। অপহরণকারীদের দেশীয় সহযোগী সদস্য আলমকে বাঁচাতে প্রভাবশালী মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলম গ্রেফতার হওয়ার পর বড়লেখার আলতাব হোসেন ও কাসেমের পরিবার থানায় এসে আলমকে শনাক্ত করে। কারণ আলম তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা চাইতে যায়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, আলম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আলতাব ও কাসেমের পরিবার মামলা করলে তা রেকর্ড করা হবে। ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরান থেকে ফিরে আসা যুবকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে (+৯৮২১৮৮৭৭২৯৭৯) নম্বরে যোগাযোগের করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশী যুবকের অপহরণকারীদের দাবি করা মুক্তিপণের টাকা লেনদেন এবং বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমেও টাকা লেনদেন চলছে বলে জানা যায়। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবী থেকে লক্ষ্মীপুরের মো. হিরণ ও মুন্সিগঞ্জের সুমন মণ্ডলের মতো বড়লেখার দুই যুবক আলতাব হোসেন ও কাসেমকে তুরস্ক-ইরাক সীমান্তে নিয়ে আটক করে অপহরণকারীরা। এই অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে বড়লেখায় গ্রেফতার হওয়া আলমের ভাই ইরানে অবস্থানরত ইমরান জড়িত। মুন্সিগঞ্জের সুমন মণ্ডল ও লক্ষ্মীপুরের হিরণের পরিবার দফায় দফায় মুক্তিপণের টাকা একটি বেসরকারি ব্যাংক ও বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংকের বড়লেখা শাখায় জমা দিয়েছে। কিন্তু তাদের সন্তানদের মুক্তি মিলছে না। লক্ষ্মীপুরের হিরণের পরিবারকে সোনালী ব্যাংকের বড়লেখা শাখায় আলম উদ্দিন নামের একজনের অ্যাকাউন্টে মুক্তিপণের টাকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় অপহরণকারীরা।
এছাড়াও মুন্সিগঞ্জের মায়া রানী মণ্ডলের ছেলে সুমন মণ্ডলকে আটক করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। এরপরও তাদের মুক্তি দেয়া হয়নি। সম্প্রতি অপহরণকারী চক্রের হাত থেকে মুক্ত হয়ে দেশে আসার ২৫ দিন পর বড়লেখার ৩ যুবকের ১ জন এমরান হোসেন তুহিনের বাড়িতে সরেজমিনে এ লোমহর্ষক কাহিনী জানান তিনি।
তিনি জানান, তাদের অনেক চাপাচাপির পর মিথ্যা প্রলোভনের ফাঁদে পা দেই আমরা ৩৭ বাংলাদেশী যুবক। প্রত্যেককে ৭ লাখ টাকা দেয়ার কন্ট্রাক হয়। রমজানের ৩ দিন আগে গ্রিসগামী জাহাজে আমাদের ওঠানো হয়। জাহাজের নিচতলায় আমাদের নামিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রচণ্ড গরমে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, পিপাসায় ময়লা বরফের পানি পান করেছি। ইরানের কাছাকাছি আসার পর দালালরা আমাদের জাহাজ থেকে সাগরে রাখা স্পিডবোটের ওপর ফেলে দেয়। এ সময় অনেকের হাত-পা ভেঙে যায়। স্পিডবোট নিয়ে পালাতে গিয়ে ইরানি পুলিশের হাতে ধরা পড়ি। ধরা পড়ার পর দালালরা আমাদের পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেয়। পরবর্তী ঘটনায় বুঝতে পারি এটা দালালদের একটা কৌশল। আমাদের ৩৭ জনকে একটি ঘরে আটকে রাখে। প্রতিদিন এক বেলা খাবার দিত। ৫ জনের খাবার আমাদের ৩৭ জনকে দেয়া হতো। ১০-১৫ দিন পর পর গোসল করার ব্যবস্থা করতো। আটকের দু’দিন পর আমাদের সবার বাড়ির ফোন নাম্বার, ঠিকানা নিয়ে বাড়িতে ফোন করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। টাকা না দিলে আমাদের হত্যা করে কিডনি বিক্রি করে টাকা নেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। ৩য় দিন আমাদের দালাল এসে বলে যারা টাকা দিতে পারবে তারা এক পাশে যাও, যারা পারবে না তারা অন্য পাশে যাও। আমাদের মাঝ থেকে ঢাকার কাঞ্চন নামে একজন টাকা দিতে পারবে না বললে তাকে লোহার রড গরম করে ও ইস্ত্রি গরম করে নির্যাতন করে। পরে সে আমাদের চোখের সামনে মারা যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের ভয়ে আমাদের সবার বাড়ি থেকে দফায় দফায় টাকা দেয়া হয়। তারপরও আমাদের মুক্তি মেলেনি। এরপর আমরা বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। এভাবে আমাদের এক দালাল থেকে অন্য দালালের কাছে ১১ বার বিক্রি করে। সর্বশেষ আমরা ২২ জন হই। আমাদের সঙ্গে থাকা মৌলভীবাজারের রুবেল যাত্রীবেশী দালাল। সে আমাদের মৌলভীবাজারের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে ইরানে স্থায়ী বসবাসরত তার মামা খোরশেদ আলমের কাছে যেতে বলে। সেখানে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেয়। একদিন রাতে আমরা সবাই পাহারারত দালালকে বেঁধে পালিয়ে যাই। দালালদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে রুবেলের মামা খোরশেদের কাছে আমরা ফোন দেই। তিনি একটি গাড়ি পাঠিয়ে আমাদের তার বাসায় নেন। সেখানে তিনিও আমাদের আটক করে নবীগঞ্জের মনু হাজির (ইরানে স্থায়ী বসবাসরত) কাছে আমাদের বিক্রি করে দেন। সেখান থেকে পালিয়ে আমরা একটি ইরানি বাড়িতে আশ্রয় নেই। এই ইরানি বাড়ির লোকজন স্থানীয় পুলিশে খবর দেয়। তারা আমাদের কাপড় চোপড়সহ খাদ্যসামগ্রী কিনে দেয় এবং ইরানি লোকজন পুলিশ আসার পর পুলিশকে বলে এরা বিপদগ্রস্ত তোমরা তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিও না। তাদের যেভাবে হোক জেলহাজত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিও। পরে জেল থেকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার জিয়া নামের একজন দালাল (ইরানে স্থায়ী বসবাসরত) আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে যোগাযোগ করে ৪৫/৬৫ হাজার টাকা করে নিয়ে আমাদের বাংলাদেশে আসার ব্যবস্থা করে দেয়। এভাবেই ফিরে আসি প্রিয় মাতৃভূমিতে।
Comments