ছাত্রদলের ৪ নেতাকর্মীকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করল ছাত্রলীগ
রাজশাহী অফিস ও রাবি প্রতিনিধি
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসির প্রথম কার্যদিবসেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। গতকাল ছাত্রদলের চার নেতাকর্মীকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের পশ্চিম গেটে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে ও শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় উভয়পক্ষে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রলীগের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতরা হলেন রাবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মার্কেটিং এমবিএ’র শিক্ষার্থী কামরুল হাসান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও আরবি সাহিত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পাভেজ আহমেদ, সমাজকল্যাণ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান ও অপর ছাত্রদল কর্মী আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাদ হোসেন। এর মধ্যে রাবি ছাত্রদলের নেতা পারভেজের পিঠে, বাম কাঁধে ও মাথায় গুরুতর জখম করা হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৭নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বাকিদের ৬ ও ৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল থেকেই রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান, মাসুদুর রহমান ও পারভেজ আহমেদ মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের পশ্চিম গেটে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম, ইউসুফ আলী জুয়েল, বেলাল হোসেন বিল ও উত্পলসহ ছাত্রলীগের ১০-১২ সশস্ত্র ক্যাডার ছাত্রদল নেতাদের ক্যাম্পাস থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় ছাত্রদল নেতারা ক্যাম্পাস ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা হাঁসুয়া, রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ওই স্থান ত্যাগ করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম জানান, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিএনপির হরতালের দিন মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের সামনের চায়ের দোকানের বেঞ্চ পুড়িয়েছিল। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে তারা আমাদের গালাগাল করে। এতে উত্তেজিত হয়ে ছাত্রলীগের কয়েক নেতকর্মী তাদের মারধর করেছে।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোসাইন বিপু সাংবাদিকদের বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ঘটেনি। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’
তবে রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক অভিযোগ করে বলেন, বিনা উসকানিতে ছাত্রলীগ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ভিসি নিয়োগ হওয়ার একদিন পর ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কুপিয়ে ভিসিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্রের মুখে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে। ছাত্রদল বলেছে ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ডের সমুচিত জবাব দেয়া হবে। আরাফাত রেজা আশিক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ ক্যাডারদের শাস্তি দাবি করেন।
মহানগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য প্রফেসর এম. মিজান উদ্দিন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রামেক হাসপাতালে আহতদের পাশে মিনু : ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে আহত ছাত্রদল নেতাদের দেখতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনসহ মহানগরের অন্য নেতারা। তারা আহতদের পাশে কিছু সময় কাটান ও চিকিত্সার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকারের মদতেই আজ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে রাবিতে ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকালে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশে নগর সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
ছাত্রলীগের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতরা হলেন রাবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মার্কেটিং এমবিএ’র শিক্ষার্থী কামরুল হাসান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও আরবি সাহিত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পাভেজ আহমেদ, সমাজকল্যাণ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান ও অপর ছাত্রদল কর্মী আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাদ হোসেন। এর মধ্যে রাবি ছাত্রদলের নেতা পারভেজের পিঠে, বাম কাঁধে ও মাথায় গুরুতর জখম করা হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৭নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বাকিদের ৬ ও ৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল থেকেই রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান, মাসুদুর রহমান ও পারভেজ আহমেদ মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের পশ্চিম গেটে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম, ইউসুফ আলী জুয়েল, বেলাল হোসেন বিল ও উত্পলসহ ছাত্রলীগের ১০-১২ সশস্ত্র ক্যাডার ছাত্রদল নেতাদের ক্যাম্পাস থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় ছাত্রদল নেতারা ক্যাম্পাস ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা হাঁসুয়া, রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ওই স্থান ত্যাগ করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম জানান, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিএনপির হরতালের দিন মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের সামনের চায়ের দোকানের বেঞ্চ পুড়িয়েছিল। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে তারা আমাদের গালাগাল করে। এতে উত্তেজিত হয়ে ছাত্রলীগের কয়েক নেতকর্মী তাদের মারধর করেছে।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোসাইন বিপু সাংবাদিকদের বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ঘটেনি। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’
তবে রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক অভিযোগ করে বলেন, বিনা উসকানিতে ছাত্রলীগ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ভিসি নিয়োগ হওয়ার একদিন পর ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কুপিয়ে ভিসিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্রের মুখে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে। ছাত্রদল বলেছে ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ডের সমুচিত জবাব দেয়া হবে। আরাফাত রেজা আশিক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ ক্যাডারদের শাস্তি দাবি করেন।
মহানগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য প্রফেসর এম. মিজান উদ্দিন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রামেক হাসপাতালে আহতদের পাশে মিনু : ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে আহত ছাত্রদল নেতাদের দেখতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনসহ মহানগরের অন্য নেতারা। তারা আহতদের পাশে কিছু সময় কাটান ও চিকিত্সার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকারের মদতেই আজ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে রাবিতে ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকালে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশে নগর সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
Comments