ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অসন্তোষ
- Get link
- X
- Other Apps
শাহাদৎ হোসেন ও দুলাল ঘোষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | তারিখ: ২৭-০৩-২০১৩
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় গত শুক্রবারের ভয়াবহ টর্নেডোতে ঘরবাড়ি হারানো বেশির ভাগ পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। যেসব পরিবার ত্রাণ হিসেবে ত্রিপল ও তাঁবু পেয়েছে, তারা কোনো রকমে দিন পার করলেও রাতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ছবিটি গতকাল দুপুরে দুবলা গ্রাম থেকে তোলা
প্রথম আলো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোর আঘাত হানার পাঁচ দিন হলো। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার সরকারি ঘোষণা ছিল। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত অনেকেই সেই চাল পায়নি। যে তাঁবু বিতরণ করা হয়েছে, তাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় গত শুক্রবারের ভয়াবহ টর্নেডোতে ঘরবাড়ি হারানো এক হাজার ৫০০ পরিবারের বেশির ভাগই এখনো রাত কাটাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। কয়েক শ পরিবার সরকারি ত্রিপল ও তাঁবু পেলেও অনেকেই এখনো তা টানাতে পারেনি। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
উপজেলার চান্দি গ্রামের তাজুল ইসলাম নবীনগরের বিটঘর ডাকঘরের কর্মী ছিলেন। শুক্রবার তিনি বাড়ি আসেন। ওই দিনই ঝড়ে লন্ডভন্ড তাঁর ঘর। নিহত হন তিনি। তাজুলের ছেলে মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় নিহত নয় ব্যক্তির পরিবারের মধ্যে ২৬ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। বাকি পরিবারগুলোকেও একই হারে টাকা দিতে তিনি নির্দেশ দিলেও তাঁদের দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সরকারি ঘোষণার ৩০ কেজি চাল, শাড়ি-লুঙ্গি ও টিন—কিছুই তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি।
দুবলা গ্রামের হামিদা বেগম (৬৫) জানান, তিনি ও তাঁর দুই ছেলের আলাদা সংসার। সবার ঘরই ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। বড় ছেলে ফারুক মিয়াকে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। তাঁকে কেবল একটি ত্রিপল দেওয়া হয়। আর ছোট ছেলে মোশারফ হোসেনকে কিছুই দেওয়া হয়নি। একই গ্রামের বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরারে দেহনেরও কেউ নাই।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক নূর মোহামঞ্চদ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ত্রাণ বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
তবে গতকাল বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ত্রাণ বিতরণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া ও কসবা এলাকার বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির উদ্যোগে চাল, ডাল, হারিকেন, রান্না করার বিভিন্ন সরঞ্জাম, মশার কয়েল, মোমবাতি, দেশলাই ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়।
দুর্গতদের পাশে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল। উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর বাজারসংলগ্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিগ্রি কলেজ মাঠে গতকাল দিনব্যাপী জরুরি চিকিৎসা শিবির কার্যক্রম চালায় প্রতিষ্ঠানটি।
হাসপাতালটির তিনজন চিকিৎসকসহ ১০ সদস্যের একটি দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রতিটি রোগীকে ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন ও বিস্কুট দেওয়া হয়ে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারের মধ্যে পাঁচ কেজি করে চাল এবং এক কেজি করে ডাল বিতরণ করা হয়।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান জোনাঈদ শফিক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরদার এ নাঈম চিকিৎসক দলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হাসপাতাল: এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের চান্দি গ্রামে গত রোববার টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। সেখানে দুই শতাধিক রোগীকে দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এই চিকিৎসাসেবায় অংশ নেন হাসপাতালের পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা গুলজার হোসেন ও ইশরাত জাহান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওষুধ, বিস্কুট এবং শিশুদের জন্য দুধ ও বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি বিতরণ করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় গত শুক্রবারের ভয়াবহ টর্নেডোতে ঘরবাড়ি হারানো এক হাজার ৫০০ পরিবারের বেশির ভাগই এখনো রাত কাটাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। কয়েক শ পরিবার সরকারি ত্রিপল ও তাঁবু পেলেও অনেকেই এখনো তা টানাতে পারেনি। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
উপজেলার চান্দি গ্রামের তাজুল ইসলাম নবীনগরের বিটঘর ডাকঘরের কর্মী ছিলেন। শুক্রবার তিনি বাড়ি আসেন। ওই দিনই ঝড়ে লন্ডভন্ড তাঁর ঘর। নিহত হন তিনি। তাজুলের ছেলে মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় নিহত নয় ব্যক্তির পরিবারের মধ্যে ২৬ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। বাকি পরিবারগুলোকেও একই হারে টাকা দিতে তিনি নির্দেশ দিলেও তাঁদের দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সরকারি ঘোষণার ৩০ কেজি চাল, শাড়ি-লুঙ্গি ও টিন—কিছুই তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি।
দুবলা গ্রামের হামিদা বেগম (৬৫) জানান, তিনি ও তাঁর দুই ছেলের আলাদা সংসার। সবার ঘরই ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। বড় ছেলে ফারুক মিয়াকে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। তাঁকে কেবল একটি ত্রিপল দেওয়া হয়। আর ছোট ছেলে মোশারফ হোসেনকে কিছুই দেওয়া হয়নি। একই গ্রামের বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরারে দেহনেরও কেউ নাই।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক নূর মোহামঞ্চদ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ত্রাণ বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
তবে গতকাল বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ত্রাণ বিতরণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া ও কসবা এলাকার বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির উদ্যোগে চাল, ডাল, হারিকেন, রান্না করার বিভিন্ন সরঞ্জাম, মশার কয়েল, মোমবাতি, দেশলাই ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়।
দুর্গতদের পাশে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল। উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর বাজারসংলগ্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিগ্রি কলেজ মাঠে গতকাল দিনব্যাপী জরুরি চিকিৎসা শিবির কার্যক্রম চালায় প্রতিষ্ঠানটি।
হাসপাতালটির তিনজন চিকিৎসকসহ ১০ সদস্যের একটি দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রতিটি রোগীকে ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন ও বিস্কুট দেওয়া হয়ে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারের মধ্যে পাঁচ কেজি করে চাল এবং এক কেজি করে ডাল বিতরণ করা হয়।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান জোনাঈদ শফিক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরদার এ নাঈম চিকিৎসক দলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হাসপাতাল: এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের চান্দি গ্রামে গত রোববার টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। সেখানে দুই শতাধিক রোগীকে দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এই চিকিৎসাসেবায় অংশ নেন হাসপাতালের পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা গুলজার হোসেন ও ইশরাত জাহান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওষুধ, বিস্কুট এবং শিশুদের জন্য দুধ ও বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি বিতরণ করা হয়।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments