আজ থেকে সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু
সূত্রমতে, ১০০০ টাকা মধু ও ৭৫০ টাকা মোমের প্রতি কুইন্টালে রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাত থেকে গত বছর সাড়ে ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। এ বছর ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ে হবে বলে আশা করছে বন বিভাগ। এবার ৬ হাজার মণ মধু ও ১৫শ’ মণ মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ হাজার মৌয়াল মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনে যায়। মৌয়ালরা জানায়, মধু সংগ্রহের জন্য তারা খড়কুটা একত্রিত করে “উকো বা বড়পা” প্রস্তুত করে তাতে আগুন ধরিয়ে জঙ্গলে ধোয়া ছেড়ে দিলে মৌমাছি বের হয়ে মৌচাকের দিকে ধাবিত হয়। তখন তারা তাদের পিছু নিয়ে মৌচাকের সন্ধান পায়। মধু সংগ্রহের পূর্বে মৌয়ালরা আগুনের ধোয়া দিলে ঝাকে ঝাকে মৌমাছি চাক ছেড়ে উড়ে যায়। সুন্দরবনে লোকেরা তাকে “বৈলেন দেয়া” বলে। মৌমাছি সরে গেলে চাক থেকে তারা মধু ও মোম সংগ্রহ করে। বন বিভাগের নিয়মানুযায়ী ধোয়ার কু-ুলী দিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে মধু সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও মৌয়ালরা এ নিয়মের কোন তোয়াক্কা করে না। কম পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় বন বিভাগের আইন উপেক্ষা করে মৌয়ালরা মৌচাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে হাজারো মৌমাছি পুড়ে যায়। যার কারণে মৌমাছির বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত ও মধু উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি মৌয়ালদের ধরণা আগুনে যে কোন সময় বৃহৎ বনের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। আর এ কারণেই মাঝেমধ্যে সুন্দরবনে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে মৌয়ালরা পদে পদে বিপদ তথা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবছর ৪ থেকে ৫ হাজার মণ মধু সংগ্রহ করে। নিয়মনীতি উপেক্ষা তথা পরিকল্পিতভাবে মধু সংগৃহীত না হওয়ায় মধু সংগ্রহের পরিমাণ হ্রাস পেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত এক দশকে মধু আহরণ গড়ে আড়াই হাজার মণ। কিন্তু নব্বই দশকে মধু আহরণ হয়েছিল গড়ে ৪ হাজার ৪৪৫ মণ। ঐ সময় মোম আহরণ হয়েছিল ১ হাজার ১৩৫ মন। তবে এ বছর বিভিন্ন গাছে ফুল ফোটার পরিমাণ অনেক বেশি। সে কারণে মৌচাক বৃদ্ধিসহ এ বছর মধু সংগ্রহের পরিমাণও বাড়তে পারে।
অপরদিকে পূর্ব বনবিভাগের ডিএফও ইনকিলাবকে বলেন, আমার ডিভিশনে অপেক্ষাকৃত মধু কম। আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হলেও আরও কয়েক দিন লাগবে বাস্তবে শুরু হতে । তবে পারমিট সংগ্রহের সময় আমরা মৌয়ালদের প্রয়োজনীয় মোটিভেশন দিয়ে দিবো। তাছাড়া এবার মধু আহরণকালে বিশেষ তদারকি করা হবে।
Comments