পাম চাষে সাফল্য
মেহেরপুরে
মেহেরপুর থেকে ফারুক মল্লিক : এই প্রথম মেহেরপুর জেলা শিবপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষী ভোয্য তেলের চাহিদা মিটাতে রুহুল আমিন তার ব্যক্তিগত ভাবনার বহিপ্রকাশ রূপ দিতে গিয়ে ১৯৯৯ সালে চারা ক্রয় করেন, গ্রিন বাংলাদেশ কোম্পানির মাধ্যমে। যার প্রতিটি চারা ৬শ টাকা করে কিনতে হয় বলে চাষী রুহুল আমিন আমাদের প্রতিবেদকে জানান। তিনি একসাথে ১৫ বিঘা জমিতে ৬শ পাম চারা বপন করেন। এ পর্যন্ত রুহুল আমিন পাম চাষে তিন বছরে মোট পরিচর্চা ও রাসায়নিক সার মাটি খরচ করেছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। রুহুল আমিন বলেন এর ফল ঘরে তুলতে এখনও ১০ লাখ টাকা খরচ হবে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ পাম গাছে পাম ফল এসে গেছে। পুরাপুরি পাম ফল পেতে এখনও ২ বছর সময় লাগবে বলে তিনার ধারণা। মেহেরপুর সর্বত্র জেলায় বিভিন্ন অঞ্চল মিলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বিঘা জমিতে পাম চাষ হয়েছে। অধিকাংশ চাষিরা এই পাম চাষ করতে গিয়ে বড় বিপাকে পড়ে গেছে বলে জানান। এই পাম চাষের ভিতরে অনেকে কলা আবাদ করে বাড়তি খরচ পুষিয়ে নেয়ার জন্য কলা চাষ করে। কিন্তু অভিজ্ঞ মহল মনে করে পাম চাষের ভিতরে কলার আবাদটি সঠিক নয়। যে কারণে পাম গাছে ফল আসতে বেশ কিছুটা ব্যাহত। এই পাম চারা ক্রয় করার সময় গ্রিন বাংলাদেশ কোম্পানি মালিক পক্ষ থেকে পাম চাষী রুহুল আমিনের মত অনেক চাষীকেই বিভিন্ন ধরনের সফলতার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে গ্রীন বাংলাদেশ কোম্পানি কিছুদিন যাওয়ার পরে তার প্রতিষ্ঠানে ঘটিবাটি গুটিয়ে নিয়ে গাঢাকা দিয়েছে। তারপর থেকে এ পর্যন্ত কোম্পানির মালিকের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে পদে পদে হুচুট খেতে হচ্ছে পাম চাষীদের। এ বিপদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য মেহেরপুর জেলা-উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিডি থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ধরনা দেয়ার পরও তাদের কাছ থেকে কোন রকম সাহায্য, সহযোগীতা পাননি কোন পাম চাষী। এতে করে পাম চাষী রুহুল আমিনসহ অনেক চাষী দুঃখ, কষ্টে, ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বর্তমান সরকার কৃষি খাতটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিলেও জেলা-উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে কর্তৃপক্ষ ডিডিদের কারণে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে চরম ব্যাহত হচ্ছে, তা অন্যতম কারণ। বর্তমান চাষীদের অভিযোগের অন্ত নেই কৃষি কর্মকর্তাদের। সচেতন মহলে অভিযোগ যে তিনাদের কাছে যে কোন ফসলের সমস্যা সমাধান ভুক্ত ভোগীরা চাইতে গেলে তিনারা ভিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ চাষীদের বিমুখ করে ফিরিয়ে দেয়। তবে অনেক সচেতন মহল অভিযোগ সুরে বলেন যে, বর্তমান কৃষী বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভাব দেখে মনে হয় তারা সরকারের অধিনে চাকরি করেন না। তাদের খেয়াল খুশিমত চাষীদের সাঙ্গে বৈরী আচরণ করেন। তবে মাঠ পরিদর্শনে তাদের ভূমিকা তেমন একটা নজরে পড়ে না। যতদিন পর্যন্ত জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ও কৃষি কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে যতদিন দাযিত্বশীল না হবেন ততদিন পর্যন্ত এদশে খাদ্য, শস্য স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে না। কৃষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একই অফিযোগে অভিযুক্ত করলে পাম চাষী রুহুল আমিন। পাশাপাশি রুহুল আমিন এটাও আবেদন করলেন যে কৃষি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেন পাম চাষীদের সাহায্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে এদেশে পাম চাষের মধ্যদিয়ে ভোয্য তেলের চাহিদা মেটান সম্ভব হবে।
Comments