স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ সরিষাবাড়ীতে নিহত ১



স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
মহান স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। অন্তত একজন নিহত ও কয়েকশ আহত হয়েছে।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ-বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই বেলাল হোসেন নামের বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ আহত হয়েছে দেড় শতাধিক। আহতদের মধ্যে অর্ধশতাধিক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার জামালপুরে অর্ধবেলা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলা বিএনপি কয়েক হাজার লোকের একটি বিশাল মিছিল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেয়ার উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে আরামনগর বাজার এলাকায় ট্রাক পয়েন্টে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিলটি এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। এ সময় বিএনপির বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মীরা যোগ দিলে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় পুলিশ ব্যাপক লাঠিপেটা, ৭টি গ্যাস শেল নিক্ষেপ ও ২৪০টি রাবার বুলেট ছুড়লে আরামনগর বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে পৌর বিএনপির সদস্য বেলাল হোসেন (৪৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আহত হন পুলিশের এসআই বশির আহম্মেদ, কনস্টেবল তৌহিদসহ বিএনপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল, শামীম, মঞ্জু মিয়া, বুলবুল, তুষার, আসাদ কাজী, আবদুল মান্নান, আবদুল হালিম, শিপন প্রফেসরসহ অর্ধশতাধিক বিএনপিকর্মী রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়। তবে বিএনপি দাবি করেছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে তাদের একজন কর্মী নিহত ছাড়াও তিন শতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সরিষাবাড়ীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলাজুড়ে ব্যাপক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে।
গতকাল দুপুরে জেলা বিএনপি এবং উপজেলা বিএনপি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এই সংঘর্ষের জন্য সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসানকে দায়ী করে বলেন, ডা. মুরাদ হাসানের প্ররোচনায় পুলিশ, ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা যৌথভাবে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা ও গুলি চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী শনিবার জামালপুর জেলায় অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্বাধীনতা দিবসে ফুল দিতে গেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার গাড়িতে হামলা। ফুল দিয়ে ফেরার সময় হামলায় যুবদল নেতা আহত। এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি গত নির্বাচনে মিরসরাই থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী অধ্যাপক কামাল উদ্দিন চৌধুরীর গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে মিরসরাই উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মিরসরাই উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন চৌধুরী ফুল দিতে গেলে মিরসরাই ভূমি অফিসের সামনে রাখা তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। ফুল দিয়ে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে কামাল উদ্দিন গ্রুপের ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা নুর উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে প্রতিপক্ষ। তাকে মাতৃকা হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি করে হাতে ৬টি সেলাই করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী মঘাদিয়া ইউনিয়ন যুব দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজাদ হোসেন রাজিব জানান, আলমগীরের নেতৃত্বে মিরসরাই মাদরাসা মার্কেটের সামনে নুর উদ্দিনের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় ধারালো ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয় তাকে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট অলিউল কবির ইকবাল জানান, নুর উদ্দিনের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা মিরসরাই ভূমি অফিসের সামনে রাখা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিন চৌধুরীর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করছি। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি জানান, মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মিছিল করে ফেরার পথে যুব-ছাত্রদলের মিছিলে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনাগাজীতে গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৭টায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে উভয় দলের কমপক্ষে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২টি ফাঁকা গুলি করেছে। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সমর্থক যুব-ছাত্রদলের সহস্রাধিক নেতাকর্মী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মিছিল নিয়ে সোনাগাজী বাজারের দিকে ফেরার পথে জিরো পয়েন্টে মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। ককটেলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দেয়ালে বিস্ফোরিত হয়। যুব-ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হানিফ, যুবলীগের কর্মী সিরাজুল হক, জামাল উদ্দিন, সামছুল হক, আবুল হাশেম, জাকির হোসেন ভূঞা, যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন আজাদ, আবদুল কুদ্দুস, ইসমাইল হোসেন, লিটন, পিয়াস, সিরাজুল ইসলামসহ উভয় দলের ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়