পোড়া স্থানে বরফগলা পানি নয়


প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ১৮-০৩-২০১৩

রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে বা হঠাৎ দুর্ঘটনাবশত হাত, পা বা শরীরের অন্য কোনো জায়গা পুড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ছোটখাটো পোড়ার ঘটনা বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা করে অনেকটা সারিয়ে তোলা যায়। তবে পোড়ার মাত্রা বেশি হলে প্রাণনাশের আশঙ্কাও থাকে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত কোনো বার্ন ইউনিট বা জরুরি বিভাগে চলে যাওয়াই ভালো। এবার জেনে নিন সামান্য পোড়ায় বাড়িতে দ্রুত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এক. পোড়া স্থানটিকে দ্রুত ঠান্ডা করে নিন। এ জন্য কলের ঠান্ডা পানির ধারায় স্থানটি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ধরে রাখুন। পোড়া জায়গা ঠান্ডা করতে অবশ্য বরফ বা বরফগলা পানি ব্যবহার না করাই উচিত। এতে কোষের আঘাত আরও বাড়তে পারে।
দুই. হালকা ক্ষারযুক্ত সাবান পানি দিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করে নিন আলতো করে। ঘষাঘষি করবেন না। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি পরিষ্কার রাখলে জীবাণু সংক্রমণের ভয় কম।
তিন. কোনো ময়লা বা মরা কোষ থাকলে তা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। কিন্তু ফোসকা গলাবেন না। জোর করে পোড়া ত্বক ওঠাতে চেষ্টা করবেন না।
চার. একটা ব্যথানাশক মলম (অ্যানেস্থেটিক ক্রিম) এবং পোড়ায় ব্যবহার করা হয় এমন জীবাণুরোধী মলম (যেমন বার্না, বার্নল ইত্যাদি) হালকা একটি স্তর করে লাগিয়ে নিন। অ্যালোভেরা জেলও লাগানো যায়। এতে অনেকটা আরাম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আঘাতের মাত্রা ও জীবাণুর সংক্রমণ কমবে।
পাঁচ. জায়গাটা পরিষ্কার করা এবং মলম লাগানো হয়ে গেলে জীবাণুমুক্ত গজ বা পাতলা কাপড় দিয়ে আলতো একটা ব্যান্ডেজ করে নিতে পারেন। এমনভাবে করবেন, যেন তা খুব শক্ত বা আঁটো না হয়।
ছয়. প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে অথবা হাসপাতালে ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ করা লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা করুন।
সাত. আপনার বাড়ির প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাগ বা বাক্সে অবশ্যই পুড়লে ব্যবহার করতে হয় এমন মলম ও জীবাণুমুক্ত গজ-ব্যান্ডেজের প্যাকেট রাখবেন।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়