প্রতিদিন খুন হয়েছে গড়ে ১১টি: মহাজোট সরকারের ৫ বছরে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মহোত্সব : খুন ২১ হাজার

প্রতিদিন খুন হয়েছে গড়ে ১১টি: মহাজোট সরকারের ৫ বছরে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মহোত্সব : খুন ২১ হাজার

মাহমুদা ডলি
পরের সংবাদ»
মহাজোট সরকারের ৫ বছরে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মহোত্সব হয়ে গেল। গত বছর এবং চলতি বছরের শুরুতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। ওই ৫ বছরে সারাদেশে প্রায় ২১ হাজার মানুষ খুন হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১১ জনের বেশি খুন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের শেষ বছর ২০১৩ সালে খুনের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। এবছর খুন হয় ৪ হাজার ৪২৮ জন। গত ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় দেড়শ’। এত খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। পুলিশ সদর দফতর এবং বিভিন্ন মানবাধিকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সরকারের শেষ বছর ২০১৩ সালে দেশে খুনের ঘটনা ঘটে ৪ হাজার ৪২৮টি। ২০১২ সালে ৪ হাজার ৪১২ জন খুন হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালে সারাদেশে খুন হয়েছে ৪ হাজার ২১৯ জন। ২০১০ সালে ৩ হাজার ৯৮৮ জন এবং ২০১১ সালে খুন হয়েছে ৩ হাজার ৯৭০ জন। সব মিলিয়ে গত ৫ বছরে প্রায় ২১ হাজার মানুষ খুন হয়েছে। এ সময় অন্তত ২০ জন সাংবাদিককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যসহ বেশকিছু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এই সময়ে। সূত্র জানায়, বেশকিছু চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে গত ৫ বছরে। বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দফতর পিলখানায় বিদ্রোহের নামে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, যুবলীগ নেতা ইব্রাহীম হত্যাকাণ্ড, পল্টনে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি হত্যাকাণ্ড, গুলশানে স্বামী-স্ত্রী হত্যাকাণ্ড, নরসিংদীর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ড, পুরান ঢাকায় পুলিশ কর্মকর্তা গৌতম হত্যাকাণ্ড, যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যাকাণ্ড, রামপুরায় ফটোসাংবাদিক আফতাব আহমেদ, পুলিশের সাবেক এডিশনাল এসপি ফজলুর রহমান, চামেলীবাগে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের হত্যাকাণ্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু বকর হত্যাকাণ্ড, পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগের হাতে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জে ত্বকী হত্যাকাণ্ড, ব্লগার রাজিব হত্যাকাণ্ডসহ বেশকিছু চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। সন্তানের হাতে বাবা-মা খুন, বাবা বা মায়ের হাতে সন্তান খুন, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, বন্ধুর হাতে বন্ধুসহ নানাভাবে এসব খুনের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় ৬ খুনের ঘটনা বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সংশিল্গষ্ট সূত্র জানায়, এসব প্রতিটি ঘটনায়ই মামলা দায়ের হয়। কিন্তু চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো অধিকাংশ মামলার কোনো কুলকিনারা হচ্ছে না।
এর মধ্যে বেশকিছু খুন হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতায়। গত ৫ বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রায় ১৩শ’ মানুষ নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ২৫১ জন, ২০১০ সালে ২২০ জন, ২০১১ সালে ১৩৫ জন, ২০১২ সালে ১৮৪ জন এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে চার শতাধিক মানুষ। গত ৫ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে প্রায় ৭০০ মানুষ। গত বছরেই ঘটেছে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড। চলতি বছরের শুরুতেও বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয়েছে ১৫৪ জনের, ২০১০ সালে ১২৭ জন, ২০১১ সালে ৮৪ জন, ২০১২ সালে ৯৪ জন এবং ২০১৩ সালে তিন শতাধিক মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে নিহত হয়। এর মধ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষসহ অনেক শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছে। গত ৫ বছরে ৭ শতাধিক মানুষ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে অনেক নিরপরাধ মানুষও। সাভারের আমিনবাজারে ৬ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা স্মরণ করে এখনও আঁতকে উঠেন অনেকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ১২৭ জন, ২০১০ সালে ১৭৪ জন, ২০১১ সালে ১৬১ জন, ২০১২ সালে ১২৬ জন এবং ২০১৩ সালে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ১২৮ জন।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়