সুবন্ধু সমীপেষু


আপডেট: ০০:০২, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
এমন অনেক সমস্যা আছে, যা কাউকে বলা যায় না। এ রকম প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন সারা যাকের। সুবন্ধু সমীপেষু কলামে তারই সমাধান পাওয়া যাবে। এ বিভাগে চিঠি লিখুন সাদা কাগজের এক পিঠে সংক্ষেপে, ঠিকানাসহ। চিঠি পাঠানোর ঠিকানা:
সুবন্ধু সমীপেষু, নকশা, প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
এ ছাড়া naksha@prothom-alo.info এই ঠিকানায় ই-মেইল করেও সমস্যার কথা জানাতে পারেন।

সারা যাকের বছর দেড়েক আগে আমার বোন একটি ছেলেকে পছন্দ করে বিয়ে করে। কিন্তু ছেলেটি আমার বোনকে কখনোই পছন্দ করত না। বিয়ের পরপরই আমরা ছেলেটির পরিবারের মুখোমুখি হই। ছেলেটির পরিবার আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে ব্যাপারটি অস্বীকার করে। পরে নানা ঘটনায় জানতে পারি, ছেলেটির পরিবারও এ বিয়ের সঙ্গে জড়িত। এটা তাদের পরিবারের পরিকল্পনা। কারণ, আমার বোন চাকরি করে এবং টাকাপয়সা সব ছেলের কাছেই দেয়। ছেলেটি কিছুই করে না। এ ব্যাপারে আমরা বোনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায় না। সে ওই ছেলের ব্যাপারে আমাদের কোনো কথাই বিশ্বাস করে না। আমরা তাকে কিছু বোঝাতে গেলেই ছেলে ও তার পরিবার আমাদের হুমকি দেয় এবং আমার বোনকে আমাদের বিরুদ্ধে ভুল বোঝায়। অর্থাৎ আমার বোনকে সামনে রেখেই কাজগুলো করা হয়। এখন আমরা কী করব? কীভাবে ওকে বোঝালে ও বুঝবে? আমরা বোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
 তোমরা বোনের জন্য ভালো বুঝে তাকে এ সংসার থেকে বের করে আনতে চাইছ। তোমার কাছে যতই যুক্তিসংগত মনে হোক, তোমার বোন যখন এ ব্যবস্থা নিয়ে বিচলিত নয়, তখন তোমার বা তোমাদের এ বিষয়ে কিছু না করাই ভালো।
 আমার এক বন্ধুর সঙ্গে খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল আমার। হঠাৎ তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ভেঙে যায়। কারণ, সেই বন্ধুটি আমার কাছ থেকে দু-তিন দিন পরপর টাকা ধার নিত। এক দিন আমি তাকে মজা করে বলেছিলাম, ‘টাকা নেওয়ার জন্যই বোধ হয় তুই আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেছিস।’ তার পর থেকে সে আমার সঙ্গে কথা বলে না এক বছর হয়ে গেল। আমি চাই আমাদের বন্ধুত্ব আবার আগের মতো হয়ে যাক। আমি বারবার তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। আমি ক্ষমাও চেয়েছি। তবু সে আমার সঙ্গে কথা বলে না। আমি এখন কী করতে পারি?
অয়ন
ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক
 তোমার বন্ধুটি অপমানিত বোধ করেছে। তবে সেই রকম বন্ধু হলে তুমি ‘সরি’ বলার পর তার মেনে নেওয়া উচিত। এই বয়সে, যে টাকা দেয় বা যে নেয়, কেউই বিষয়টা নিয়ে উদাসীন হতে পারে না। তোমার দোষ নেই। তুমি দেখো, তোমার কথাটা তোমার বন্ধু ক্ষমাসুন্দর চোখে মেনে নিতে পারে কি না।
 বিয়ের পর আমাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। যদিও আমাদের বিয়েটা হয় পরিবারের মতেই। তার পরও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পরিবারে প্রায়ই সমস্যা দেখা দিত। কিন্তু আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসতাম। এক দিন সে আমাকে বাপের বাড়ি বেড়াতে পাঠায় এক সপ্তাহের জন্য। এরপর তার মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়। সে আমাকে অহেতুক ভুল বোঝে ও আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। একসময় সে আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। আমাকে নিতেও আসে না। কয়েক মাস অপেক্ষায় থাকার পর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করি। আমার বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ইচ্ছা হয়েছে, তার সংসারে ফিরে যেতে ইচ্ছা হয়েছে কিন্তু পারিনি শুধু তার কোনো সাড়া পাইনি বলে। এর মধ্যেই সে আমাকে না জানিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ করে। এর পরে আমি আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখিনি। তবে এখন যদি সে আমাকে আবারও তার সংসারে ফিরিয়ে নিতে চায়, তাহলে আাার যাওয়া উচিত হবে কি না? আমি তাকে খুব ভালোবাসি।
নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক
 ছেলেটির আচরণ খুবই অদ্ভুত। সে যা করেছে তোমার সঙ্গে, সেটা কোনোক্রমেই মার্জনা করা যায় না। তুমি যে এত কিছুর মধ্যে লেখাপড়ার পথ বেছে নিয়েছ সেটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও তুমি বলেছ সিদ্ধান্তটা নিয়েছ নিরুপায় হয়ে।
ছেলেটি ‘যদি’ তোমাকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে চায় তবে তুমি কী করবে? আসলে বিষয়টি নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। তুমি তোমার স্বামীকে ভালোবাসো, গভীর ভালোবাসার মধ্যেও তুমি সংযম দেখিয়েছ প্রচুর। তোমার গুণের প্রশংসা করা উচিত। তবে বিয়ের ব্যাপারটা একটা পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমঝোতার বিষয়। ছেলেটা যদি তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, পরস্থিতি কেমন হয় সেটা দেখে সিদ্ধান্ত নাও।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়