পটুয়াখালীতে হিন্দু ব্যবসায়ীদের পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতা : সেনবাগ ও বদরগঞ্জ হিন্দুদের জমি দখল করেছে সরকারি দলের ক্যাডাররা


ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি। নির্বাচনের পর থেকে শুরু হওয়া আওয়ামী তাণ্ডবের অংশ হিসেবে গতকালও বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একাধিক স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীতে গতকাল ৩ হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়েছে এক আ.লীগ নেতা। এ সময় তাদের দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। নোয়াখালীতে দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে আ.লীগের বিরুদ্ধে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
পটুয়াখালীতে তিন হিন্দু ব্যবসায়ীকে পেটালেন আ.লীগ নেতা : ৩ দিন ধরে পটুয়াখালী শহরসহ জেলার সর্বত্র সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অব্যাহত থাকাকালীন শহরতলির লাউকাঠি বাজারে ৩ হিন্দু ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতির নেতৃত্বে একদল ক্যাডার। সিগারেট এবং ৫শ’ টাকা না দেয়ায় এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য
পরিষদ নেতারা। শনিবার রাতের এ ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফটিক লাল চন্দ্র জানান, লাউকাঠি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহাদুর শেখের দাবিকৃত এক প্যাকেট সিগারেট এবং ৫শ’ টাকা না দেয়ায় শনিবার রাত ১০টার দিকে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তার দোকান ভাংচুর এবং তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সঞ্জয় ও অজয় ব্যানার্জি নামের অপর দুই ব্যবসায়ীকেও মারধরের পর তাদের দোকানও ভাংচুর করে। ফটিক লালের স্ত্রী কাজল রানী জানান, এ ঘটনার পর ওই রাতেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনা কাউকে না জানাতে বলে।
এদিকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা এবং এক দল সংবাদকর্মী। এ সময় ঐক্য পরিষদ ও পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বপন ব্যানার্জি জানান, দোষীদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত বাহাদুর আত্মগোপন করেছে। তাকে হন্য হয়ে পুলিশ খুঁজছে। খুব দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সেনবাগে সংখ্যালঘুর জমি দখল করেছে আ.লীগ ক্যাডাররা : থানায় জিডি করেও রক্ষা করতে পারেনি বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল ১৪ শতাংশ জমি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা জমিটুকু জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ইরি ধানের চারা রোপণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মতি মিয়ারহাট সংখ্যালঘু দাইয়া বাড়ির এলাকায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার নিরীহ সংখ্যালঘুর লোকজন আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছে।
থানায় দেয়া অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামের সংখ্যালঘু মৃত রসরাজ চন্দ্র দাসের আহম্মদপুর মৌজার ২১৯৩ নং খতিয়ানভুক্ত ও ৫০৩১ দাগের ১৪ শতাংশ জমি তার পাঁচ ছেলে টকন চন্দ্র দাস, স্বপন চন্দ্র দাস, তফন চন্দ্র দাস, শুপন চন্দ্র ও নিমাই চন্দ্র দাসের নামে ওয়ারিশ সূত্রের মালিক খতিয়ানভুক্ত হয়। জমিটি তারা দীর্ঘ বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছে। এমতাবস্থায় বর্তমান রাজনৈতিক পেক্ষাপটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং জমির মালিকরা সংখ্যালঘু হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতের যে কোনো সময় উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত রুহুল আমিন মেম্বারের ছেলে জাকের হোসেন ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ দিয়ে এবং ওই দিন ভোরে ৪-৫ জন লোকজন নিয়ে ওই জমিতে ইরি ধানের চারা রোপণ করা হয়। খবর পেয়ে জমির মালিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিবাদীদের বাধা প্রধান করলে তারা ক্ষীপ্ত হয়ে জমির মালিকদের মারধর করবে বলে হুমকি-ধামকি শুরু করে। পরে মারধরের ভয়ে সংখ্যালঘুর লোকজন আতঙ্কে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে বিবাদী জাকের হোসেনের সঙ্গে গতকাল বিকালে ফোনে আলাপ করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, জমিটি তার বাবা জীবিত অবস্থায় ১৩২৬ বাংলা সনে দলিল মূলে মালিক হয়েছেন, এমকি গত ৮-৯ বছর ধরে জমিটি তার চাষাবাদে ছিল। সংখ্যালঘুর লোকজন গোপনে জমির খতিয়ান করিয়েছে। যার ফলে আমি জানার পর জমিটি সে দখল করছে।
অপরদিকে সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন জমিটি উদ্ধার ও নিরাপত্তা চেয়ে টকন চন্দ্র দাস গত বৃহস্পতিবার সেনবাগ থানায় একটি জিডি করেন। যার নম্বর-২৮৪।
এ ব্যাপারে গতকাল বিকালে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সাইকুল আহম্মেদ ভুঁইয়ার সঙ্গে আলাপ করলে তিনি বলেন, জায়গাটি নিয়ে বাদী বিবাদীকে নোটিশ করা হয়েছে। চলতি মাসের ১৮ তারিখে কি হয়েছে কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেব।
বদরগঞ্জে সংখ্যালঘুর জমি দখল করে
আ.লীগ ক্যাডারের বাড়ি নির্মাণ
এক হিন্দু পরিবারের জমি জবরদখল করে নিয়ে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসী ছাত্তার ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উত্তম কুমার সাহা বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার ও জমি উদ্ধারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও মামলার বাদী জানান, কুতুবপুর নাগেরহাট দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন ৩১ শতাংশ জমি ১৯৮২ সালে ক্রয় করেন মরহুম আব্দুল হাইয়ের কাছ থেকে। পরে এলাকার সন্ত্রাসী মো. ছাত্তার গত শুক্রবার সকালে ওই জমি জবরদখল করে নিয়ে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে। সংবাদ পেয়ে বাড়ি নির্মাণে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসী ছাত্তার ও তার সহযোগীরা ওই হিন্দু পরিবারকে হত্যা করাসহ এলাকা ছাড়ার প্রকাশ্য হুমকি দেয়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সন্ত্রাসী ছাত্তার আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় এলাকাতে তার প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড স্বদর্পে চালিয়ে আসছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের বিনু ভূষণ মজুমদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আগুনে সেমিপাকা ঘরের ভেতরে থাকা খড় ও ঘরের চালের টিন পুড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, দুর্বৃত্ত দল আশপাশ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে মজুমদার বাড়ির পাশে তা পান করে যাওয়ার সময় মজুমদার বাড়ির সামনের মন্দির ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের ভেতরে থাকা খড় ও ঘরের উপরের চালের কিছু টিন এবং কাঠ পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নাশকতা নয়, এটা এলাকার বখাটে কর্তৃক দুর্বৃত্তায়ন বলে মনে করছেন তিনি।
নলছিটিতে হিন্দু বাড়িতে আগুন
ঝালকাঠির নলছিটিতে গত শনিবার গভীর রাতে একটি বাড়ির মন্দির সংলগ্ন খড়কুটায় এবং অপর একটি বাড়ির জ্বালানি কাঠ রাখা ঘরের জ্বালানি কাঠে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। জানা গেছে, উপজেলার অভয়নীল গ্রামের দীলিপ শীলের বাড়ির রাধা শ্যামসুন্দর মন্দিরের পাশে থাকা খড়কুটায় এবং পার্শ্ববর্তী ফুলহরি গ্রামের মানিক দাসের বসতঘর সংলগ্ন জ্বালানি কাঠ রাখা ঘরের জ্বালানি কাঠে রাত দেড়টা থেকে দু’টার মধ্যে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। উভয় বাড়ির লোকজন টের পেয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
কলারোয়ায় মন্দিরে ককটেল নিক্ষেপ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এক দুর্গামুন্দিরে ২টি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে উপজেলার মামনখালী ঘোষপাড়ার দুর্গামন্দিরে। গতকাল সকালে সরেজমিন গেলে মন্দির সংলগ্ন বাড়ির মালিক অসিত্ কুমার ঘোষ জানান, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে ৩-৪ দুর্বৃত্ত মন্দিরের সিঁড়ি এবং পিলারে পর পর ২টি ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তারা কোনো শব্দ না করে চুপচাপ চলে যায়। এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানান।
এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার ওসি শাহ দারা জানান, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে গেছেন। তদন্ত চলছে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়