সরকার দলীয়দের ভয়ে সরিষাবাড়ীতে একটি গ্রামের ৫০ পরিবার পাঁচ বছর ধরে বাড়িছাড়া


সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
আল্লাহ জালিম সরকারের হাত থেকে আমাদের বাঁচাও। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের পথের ভিখারি বানিয়েছে। আমি মারা গেলে পৈতৃক ভিটায় মাটি দেয়ার চেষ্টা করিও। তোমাদের জন্য আমি কিছুই রেখে যেতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। কথাগুলো বলে জীবনের শেষ মুহূর্তে অঝোরে চোখের পানি ফেলে বিনা চিকিত্সায় চলে গেলেন বিএনপি নেতা বাহার আলী। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত এবং বাড়িঘর, জমিজমা এবং সাজানো সংসার হারিয়ে পালিয়ে থাকা বাহারের শেষ আশা পূরণ হয়নি। বাহারের মতো জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৮নং মাহাদান ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত ৫০টি পরিবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলা মামলা এবং জীবননাশের ভয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের কাফি, বাকী, আলতাফ, শফিকের নেতৃতে সন্ত্রাসীরা গত ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর প্রকাশ্যে দিবালোকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপি সমর্থিত বাড়িঘরে পরিকল্পিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা মহাদান ইউনিযনের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মানছুর রহমান (৮০), আ. মান্নান (৬৫), সানোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান, মো. আলী, বাহার আলী, সুফিয়া, সুরুজ আলী, আবুল হোসেন, আ. করিমসহ ১৬ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আহতরা সরিষাবাড়ী, জামালপুর ও ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
ঘটনার দিন আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মানসুর রহমান, সদস্য করিম খলিফা, আ. মান্নান, আজিজ খলিফা, আনিসুর রহমান, আলমগীর হোসেন, সামসুল হক, আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, আবুল কাশেম, আ. সামাদ বিষু, দেলোয়ার হোসেন, হাফিজুর রহমান, মোশারফ হোসেন, জাকির হোসেন, আোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহীম, ইদ্রিস, সেতু মিয়া, শাজাহান আলী, ইসমাইল হোসেন, আবদুল্লাহ, মো. আলী, ওমেদ আলী, জানু মিয়া, নাসির হোসেনসহ ৫০টি পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে। সন্ত্রাসীরা প্রত্যেক পরিবারের নগদ টাকা, সোনার গহনা, টিভি, ধান, পাট, ঘরের সব আসবাবপত্র লুটে নিয়ে যায়। এছাড়াও ঘর, গাছপালা, গরু-ছাগল-হাস-মুরগি, পুকুরের মাছ, টিউবঅয়েলসহ সব কিছু লুটে নেয়। ৫০ পরিবারের তিন শতাধিক মানুষ জীবন বাঁচাতে এক কাপড়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সহায় সম্বল হারিয়ে কর্মক্ষম পুরুষেরা জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর ৬০-৭০ একর জমি ও পুকুর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা দখল করে নেয়। ক্ষতিগ্রস্তরা দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকায় নিজেদের সবকিছু বিপন্ন হতে বসেছে। জীবননাশের ভয়ে নিজেদের পৈতৃক ভিটায় নিজেদের অধিকার হারাতে বসেছে। খালি বাড়ির ভিটেতে আসতে সাহস পাচ্ছে না বলে অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। এক সময়ের স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে পড়ে নিঃস্ব এবং গৃহহীন হয়ে অসহায়ের মতো পরিবারের বাহার উদ্দিন, জমিলা, বিলকিস আক্তার বিনা চিকিত্সায় এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। কলেজপড়ুয়া রুবেল, সানোয়ার, সাইফুল, বারেক, মঞ্জু, শাহীনসহ কয়েকজনকে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনমজুরের কাজ করতে হচ্ছে। সামিরা, শারমীন, ছাবিনা, আলেয়া, মমিন, সম্পা, কলি, কল্পনা, রাজুসহ বেশ কয়েকজন শিশু যাদের স্কুলে যাওয়ার কথা তারা অর্থের অভাবে লেখাপড়া করতে পারেনি।
গৃহহীন পরিবারের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেও ক্ষান্ত হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে ৭-৮টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে বলে মানসুর রহমান জানান। উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন নিবেদন এবং অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির নিরীহ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর বর্বোরচিত, ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষিত হামলার ঘটনা সরিষাবাড়ীর ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। অস্ত্র ও সন্ত্রাস করে কখনোই জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পাওয়া যায় না। আগামী নির্বাচনে এলাকার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। করগ্রামবাসীর এ আর্তনাদ দেশের স্বাধীনতা ও গণন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের মনোবলকে আরও মজবুত করবে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়