মাতৃগর্ভে শিশুর ত্রুটি নিয়ে চিন্তিত?

ডা. রেজাউল করিম | আপডেট: ০১:১১, জানুয়ারি ২০, ২০১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
মাতৃগর্ভে শিশুর ত্রুটি নিয়ে চিন্তিত?আমাদের শরীরের কোষকলার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশকে সাধারণ ভাষায় ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) বলে। ডিএনএ পরীক্ষা বলতে সাধারণত কোনো ব্যক্তির পরিচিতি নিশ্চিত করা বোঝালেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে জিনবাহিত বা বংশগত রোগ নির্ণয়ের জন্য এটির গুরুত্ব অনেক। জিনগত রোগ বা কখনো আইনগত জটিলতায় সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ের জন্য অনেক সময় গর্ভের শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।
কেন দরকার?
জন্মগত ত্রুটি, জিনবাহিত বা বংশগত রোগ প্রতিরোধে আগে থেকে সচেতনতা দরকার। আমাদের দেশে থ্যালাসেমিয়া একটি মারাত্মক জিনবাহিত রক্তরোগ। মা-বাবা এ রোগের বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জন্মাতে পারে।
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি মানুষ এই মুহূর্তে নিজের অজান্তেই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর প্রায় সাত হাজার অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০টি শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মায়। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সারা জীবন অন্যের রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে হয়। তাদের আয়ু পরিসীমাও কম। বিশ্বের অনেক দেশে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর বা গর্ভধারণের আগে স্বামী-স্ত্রীর থ্যালাসেমিয়া আছে কি না, তা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হচ্ছে।
মা-বাবার কোনো জিনগত ত্রুটি না থাকলেও বিভিন্ন কারণে শিশু এমন সমস্যা নিয়ে জন্মাতে পারে। যেমন ডাউন সিনড্রোম। এটি এমন একটি জিনগত ত্রুটি, যাতে শিশু শারীরিক বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হতে পারে। জন্মগতভাবে এদের বেশির ভাগের হূদেরাগও থাকে। এ কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশু জন্মের পরই মারা যায়। অধিক বয়সে সন্তান ধারণকে অনেক সময় এমন শিশুর জন্মের জন্য দায়ী করা হয়।
যেসব মা-বাবার থ্যালাসেমিয়া বা ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু আছে, তাঁরা সাধারণত ভীত হয়ে আর সন্তান নিতে চান না। মাতৃজঠরে শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা তাঁদের ভরসা জোগাতে পারে। ইতিপূর্বে এ ধরনের পরীক্ষার জন্য গর্ভবতী মাকে বিদেশে যেতে হতো। বর্তমানে মাতৃজঠরে শিশুর জন্মগত রোগ নির্ণয়ের ডিএনএ পরীক্ষা বাংলাদেশেই সম্ভব হচ্ছে।
কীভাবে করা হয়?
গর্ভাবস্থার ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক গর্ভফুল থেকে কোষকলা সংগ্রহ করা হয়। একে বলে কোরিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং। অথবা ১৫ সপ্তাহের পরে গর্ভাশয়ের পানি সংগ্রহ করা হয়, যাকে বলে অ্যামনিওসেন্টেসিস। এই দুই পদ্ধতিতে শিশুর ডিএনএ নমুনা পাওয়া যায়। এই ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে শিশুর থ্যালাসেমিয়া বা ডাউন সিনড্রোম আছে কি না তা জানা যায়। এ ছাড়া এর মাধ্যমে মায়ের গর্ভে থাকতেই শিশুর রক্তের গ্রুপ, সংক্রমণসহ প্রায় ৪০ ধরনের জিনগত রোগ নির্ণয় করা যায়।  প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

কমেন্টঃ
আমি চিকত্সক নই, তবে কিছু কথা বলতে চাই । উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মাতৃগর্ভে ১১ থেকে ১৩ সপ্তাহ বয়সী ভ্রুণের Nuchal Translucency Test নামে একটি আল্ট্রাসাউন্ড এর মাধ্যমে ডাউনসিন্ড্রম প্রবাবিলিটি দেখা হয় । রেসাল্ট হাই রিস্ক হলে পরে অ্যামনিওসেন্টেসিস করতে বলা হয় আরো নিশ্চিত হবার জন্য । অ্যামনিওসেন্টেসিস একটি অপশনাল টেস্ট এবং আমার জানা মতে অ্যামনিওসেন্টেসিস এর আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অনাগত সন্তানের মা বাবার সাথে দীর্ঘসময় কথা বলেন এবং অ্যামনিওসেন্টেসিস এর সুফলের বিপরীতে কুফল সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করেন, যার একটি হতে পারে সন্তানটি নষ্ট হয়ে যাওয়া অর্থাত এবরশন । হাই রিস্ক পেশেন্টদের মধ্যে অনেক মা অ্যামনিওসেন্টেসিস করেন আবার অনেকে করেননা এবং সন্তান যাই হোক না কেন তা মেনে নেবেন বলে মনস্থির করেন । আমার মতে Nuchal Translucency Test এ রিস্ক কম তাই আগে এইটা করা উচিত একটা ধারণা পাবার জন্য । অ্যামনিওসেন্টেসিস অবশ্যই পরের ধাপ । এবং এটা করার পূর্বে রোগীকে এই টেস্ট এর রিস্ক ফ্যাক্টর জানানো অত্যন্ত জরুরি । আমি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চাচ্ছি বাংলাদেশে Nuchal Translucency Test হয় কি না । যদি হয়, তবে Nuchal Translucency Test এর কথা না বলে সরাসরি অ্যামনিওসেন্টেসিস এর কথা কেন বলা হলো ? আর যদি Nuchal Translucency Test এর ব্যবস্থা বাংলাদেশে না থাকে তো কেন নেই ? এটা তো একটা সিম্পল আল্ট্রাসাউন্ড । ঠিক বুঝতে পারলাম না গোটা চিকিত্সা ব্যবস্থা কি একটা টাকার খেলায় পরিনত হয়ে গেছে কি না ? সবার অনাগত সন্তানের জন্য শুভকামনা ।

  • এখানে লেখাটি থ্যালাসেমিয়া কভার করতে গিয়ে হয়ত ডিটেইলস বর্ণনায় যায় নাই। আর চিকিৎসা রিলেটেড ছোট কলামে সব বর্ণনা থাকবে এটা আশা করাও বোকামি। এটা স্রেফ একটা আইডিয়া দেয়া। এই লেখাই সব না। তবে আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, Nuchal Test করার পরেই এমনিওসেন্টেসিস করা হয়। ভাত খাই বলা হলে যেমন আগে হাত ধুয়ে নিয়েছে বোঝা যায়, তেমন ঐ টেস্ট। শুধু Nuchal Test না, আরো অনেক টেস্ট করে এমনিওসেন্টেসিসের দিকে এগুনো হয়, কারণ ওটা একটা ইনভ্যাসিভ প্রসেডিওর। শুধু Nuchal Test এর একুরেসি ৭০-৮০% এর মত। হ্যা ওটা সিম্পল আল্ট্রাসাউন্ড, কিন্তু কনফার্মেটরি না। তাছাড়া ওর সীমাবদ্ধতা ফিজিকাল এনোমেলির মধ্যে। পজেটিভ আসলে এমনিওসেন্টেসিস করা হয়। কিন্তু নেগেটিভ আসলেও করা হয়, যদি পূর্বের সন্তানের সমস্যা থাকে, অথবা থ্যালাসেমিয়ার রিস্ক থাকে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীর Nuchal Test নেগেটিভ আশা সত্ত্বেও এমনিওসেন্টেসিস করা হয়, কারণ পূর্বের শিশুর সমস্যা ছিল।
  • ধন্যবাদ রাকিব ভাই । আমি ডাউন সিন্ড্রমের বিষয়ে বলছিলাম । থ্যালাসামিয়া নয় । তবে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, "তবে আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, Nuchal Test করার পরেই এমনিওসেন্টেসিস করা হয় " বিষয়টিকে আর যাই হোক, "ভাত খাই বলা হলে যেমন আগে হাত ধুয়ে নিয়েছে বোঝা যায়, তেমন ঐ টেস্ট" ...... এতটা তাচ্ছিল্যের সাথে আপনি কিভাবে দেখতে পারলেন, আমি জানি না ! !

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়