শুনানিতে আপিল বিভাগের বিচারপতির মন্তব্য : সাঈদী ৭১ সালে কিছু করলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থে তার নাম থাকত
স্টাফ রিপোর্টার
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যদি ১৯৭১ সালে কিছু করতেন, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লেখা দুটি বইয়ে অবশ্যই তার নাম থাকত। এটা খুবই সিগনিফিকেন্স (তাত্পর্যপূর্ণ) একটা বিষয়। এছাড়া পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বইয়ে পিরোজপুরের কৃতী সন্তানদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এটিও খুবই সিগনিফিকেন্স। গতকাল মাওলানা সাঈদীর আপিলের যুক্তি উপস্থাপনকালে আপিল বিভাগের বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা আসামিপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল শুনানি গ্রহণ করে। গতকাল মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৬ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি পেশ শেষে ৭ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি পেশ শুরু হয়েছে। শুনানি আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে দুটি বই জমা দিয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। বই দুটি হলো কবি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত পিরোজপুর জেলার ইতিহাস। গতকাল আপিল বেঞ্চে মাওলানা সাঈদীর আপিল আবেদনের শুনানিতে এ বইয়ের বিষয়ে যুক্তি পেশ করেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। তিনি বলেন, এ বই দুটিতে পিরোজপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ রয়েছে এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের নামও রয়েছে। কিন্তু বই দুটির কোথাও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। মাওলানা সাঈদী যদি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতেন, তাহলে এ বই দুটিতে অন্তত কোথাও না কোথাও মাওলানা সাঈদীর নাম থাকত।
তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলা পরিষদ কর্তৃক পিরোজপুর জেলার ইতিহাস নামক বইতে পিরোজপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনার পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, শান্তি কমিটির লোকজনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোথাও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। এমনকি এ বইয়ে পিরোজপুর জেলার কৃতী সন্তানদের নামের যে তালিকা রয়েছে, সেখানে মাওলানা সাঈদীর ছবিসহ তার পরিচিতি রয়েছে—যেখানে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিনসহ আরও অনেক খ্যাতিমানের নাম রয়েছে। এ বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২০০৭ সালে, যখন কোনো রাজনৈতিক সরকার ছিল না দেশে। তাছাড়া বইটি যারা সম্পাদনা করেছেন, তাদের মধ্যে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামালুল হক মনুসহ অনেকে জড়িত ছিলেন। এখানেও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
এ সময় বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, মাওলানা সাঈদী যদি ১৯৭১ সালে কিছু করতেন, তাহলে এ দুটি বইয়ে অবশ্যই তার নাম থাকত। এটা খুবই সিগনিফিকেন্স একটা বিষয়। এছাড়া পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বইয়ে পিরোজপুরের কৃতী সন্তানদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এটিও খুবই সিগনিফিকেন্স। বইটি সম্পাদনার সঙ্গে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের নাম রয়েছে। তিনি জেলার সব মুক্তিযোদ্ধার প্রতিনিধিত্ব করেন। এটাও ইমপরটেম্লট বিষয়।
এ সময় অপর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক বলেন, পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বইয়ে জামায়াত সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। সেখানেও সাঈদী সাহেবের নাম নেই। অথচ দানেশ মোল্লা, সেকেন্দার শিকদার এদের নাম বার বার এসেছে। কিন্তু সাঈদী সাহেবের নাম একবারও আসেনি।
এ সময় বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বই থেকে কয়েকটি লাইন পড়ে শুনিয়ে বলেন, এখানে জামায়াত নেতা কাউখালীর মাওলানা আবদুর রহিমের নাম রয়েছে। কিন্তু মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
তখন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র বইটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি খুবই অথেনটিক একটি বই। মাওলানা সাঈদী সাহেব যদি ১৯৮১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতেন, তাহলে এ বইটি এবং পিরোজপুর জেলার ইতিহাস নামক বইটি যেখানে পিরোজপুরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিবরণ রয়েছে আর স্বাধীনতাবিরোধীদের নামের তালিকা রয়েছে, সেখানে কোথাও না কোথাও তার নাম থাকত।
গতকাল মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৬ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষে ৭ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। ৬ নং অভিযোগ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা উপস্থাপন করে অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান প্রমাণের চেষ্টা করেন পাড়েরহাট ৭ মে ঘটনার সঙ্গে মাওলানা সাঈদী জড়িত ছিলেন না।
তিনি বলেন, ৬ নং অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৮ সাক্ষী হাজির করেছে কিন্তু তাদের কেউই পাড়েরহাট বাজারের নন। কোনো ভুক্তভোগীকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি। যারা আসছেন, তারা কেউ ভুক্তভোগী নন। তিনি বলেন, সাক্ষীদের কারও বাড়ি টেংরাটিলা, কারও বাড়ি চিথলিয়া, কারও বাড়ি হোগলাবুনিয়া এবং কারও বাড়ি বাজার থেকে দেড়-দুই মাইল দূরে অন্য গ্রামে।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৭ নং অভিযোগে বলা হয়েছে—মুক্তিযোদ্ধা সেলিম খানের বাড়িতে মাওলানা সাঈদীর দেখানোমতে লুটপাট শেষে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, সেলিম খানের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে কিন্তু তাকে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হিসেবে হাজির করেনি। হাজির করেছে দূরের লোক। ৮ নং সাক্ষী বলেছেন তিনি খালের ওপারে দাঁড়িয়ে সেলিম খানের বাড়িতে ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন। কাজেই তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তিনি যে বলেছেন সাঈদীর দেখানো মতে আগুন দেয়া হয়েছে, তাও সত্য নয়। যুক্তি উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক এমকে রহমান। আসামিপক্ষে গিয়াসউদ্দিন আহমেদ মিঠু, সাইফুর রহমান, তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, তারিকুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রথম ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দুটি আপিল (আপিল নম্বর : ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন। গত বছরের ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ জমা দেয় সরকারপক্ষ। ১৬ এপ্রিল সারসংক্ষেপ জমা দেয় আসামিপক্ষ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুটি অপরাধে সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ’ থেকে ১৫০ হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে দুটি অভিযোগে অর্থাত্ ৮ ও ১০ নং অপরাধে মাওলানা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এছাড়া ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নং অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এগুলোতে কোনো সাজার কথা ঘোষণা করেননি ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল জানায়, দুই অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় বাকিগুলোতে আর সাজা দেয়ার প্রয়োজন নেই। আর বাকি ১২টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলোতেও কোনো সাজা ঘোষণা করা হয়নি। সাজা ঘোষিত না হওয়া ওই ৬টি অভিযোগে শাস্তির আরজি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করে।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল শুনানি গ্রহণ করে। গতকাল মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৬ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি পেশ শেষে ৭ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি পেশ শুরু হয়েছে। শুনানি আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে দুটি বই জমা দিয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। বই দুটি হলো কবি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত পিরোজপুর জেলার ইতিহাস। গতকাল আপিল বেঞ্চে মাওলানা সাঈদীর আপিল আবেদনের শুনানিতে এ বইয়ের বিষয়ে যুক্তি পেশ করেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। তিনি বলেন, এ বই দুটিতে পিরোজপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ রয়েছে এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের নামও রয়েছে। কিন্তু বই দুটির কোথাও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। মাওলানা সাঈদী যদি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতেন, তাহলে এ বই দুটিতে অন্তত কোথাও না কোথাও মাওলানা সাঈদীর নাম থাকত।
তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলা পরিষদ কর্তৃক পিরোজপুর জেলার ইতিহাস নামক বইতে পিরোজপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনার পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, শান্তি কমিটির লোকজনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোথাও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। এমনকি এ বইয়ে পিরোজপুর জেলার কৃতী সন্তানদের নামের যে তালিকা রয়েছে, সেখানে মাওলানা সাঈদীর ছবিসহ তার পরিচিতি রয়েছে—যেখানে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিনসহ আরও অনেক খ্যাতিমানের নাম রয়েছে। এ বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২০০৭ সালে, যখন কোনো রাজনৈতিক সরকার ছিল না দেশে। তাছাড়া বইটি যারা সম্পাদনা করেছেন, তাদের মধ্যে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামালুল হক মনুসহ অনেকে জড়িত ছিলেন। এখানেও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
এ সময় বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, মাওলানা সাঈদী যদি ১৯৭১ সালে কিছু করতেন, তাহলে এ দুটি বইয়ে অবশ্যই তার নাম থাকত। এটা খুবই সিগনিফিকেন্স একটা বিষয়। এছাড়া পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বইয়ে পিরোজপুরের কৃতী সন্তানদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এটিও খুবই সিগনিফিকেন্স। বইটি সম্পাদনার সঙ্গে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের নাম রয়েছে। তিনি জেলার সব মুক্তিযোদ্ধার প্রতিনিধিত্ব করেন। এটাও ইমপরটেম্লট বিষয়।
এ সময় অপর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক বলেন, পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বইয়ে জামায়াত সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। সেখানেও সাঈদী সাহেবের নাম নেই। অথচ দানেশ মোল্লা, সেকেন্দার শিকদার এদের নাম বার বার এসেছে। কিন্তু সাঈদী সাহেবের নাম একবারও আসেনি।
এ সময় বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বই থেকে কয়েকটি লাইন পড়ে শুনিয়ে বলেন, এখানে জামায়াত নেতা কাউখালীর মাওলানা আবদুর রহিমের নাম রয়েছে। কিন্তু মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
তখন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র বইটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি খুবই অথেনটিক একটি বই। মাওলানা সাঈদী সাহেব যদি ১৯৮১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতেন, তাহলে এ বইটি এবং পিরোজপুর জেলার ইতিহাস নামক বইটি যেখানে পিরোজপুরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিবরণ রয়েছে আর স্বাধীনতাবিরোধীদের নামের তালিকা রয়েছে, সেখানে কোথাও না কোথাও তার নাম থাকত।
গতকাল মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৬ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষে ৭ নং অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। ৬ নং অভিযোগ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা উপস্থাপন করে অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান প্রমাণের চেষ্টা করেন পাড়েরহাট ৭ মে ঘটনার সঙ্গে মাওলানা সাঈদী জড়িত ছিলেন না।
তিনি বলেন, ৬ নং অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৮ সাক্ষী হাজির করেছে কিন্তু তাদের কেউই পাড়েরহাট বাজারের নন। কোনো ভুক্তভোগীকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি। যারা আসছেন, তারা কেউ ভুক্তভোগী নন। তিনি বলেন, সাক্ষীদের কারও বাড়ি টেংরাটিলা, কারও বাড়ি চিথলিয়া, কারও বাড়ি হোগলাবুনিয়া এবং কারও বাড়ি বাজার থেকে দেড়-দুই মাইল দূরে অন্য গ্রামে।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৭ নং অভিযোগে বলা হয়েছে—মুক্তিযোদ্ধা সেলিম খানের বাড়িতে মাওলানা সাঈদীর দেখানোমতে লুটপাট শেষে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, সেলিম খানের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে কিন্তু তাকে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হিসেবে হাজির করেনি। হাজির করেছে দূরের লোক। ৮ নং সাক্ষী বলেছেন তিনি খালের ওপারে দাঁড়িয়ে সেলিম খানের বাড়িতে ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন। কাজেই তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তিনি যে বলেছেন সাঈদীর দেখানো মতে আগুন দেয়া হয়েছে, তাও সত্য নয়। যুক্তি উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক এমকে রহমান। আসামিপক্ষে গিয়াসউদ্দিন আহমেদ মিঠু, সাইফুর রহমান, তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, তারিকুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রথম ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দুটি আপিল (আপিল নম্বর : ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন। গত বছরের ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ জমা দেয় সরকারপক্ষ। ১৬ এপ্রিল সারসংক্ষেপ জমা দেয় আসামিপক্ষ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুটি অপরাধে সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ’ থেকে ১৫০ হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে দুটি অভিযোগে অর্থাত্ ৮ ও ১০ নং অপরাধে মাওলানা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এছাড়া ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নং অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এগুলোতে কোনো সাজার কথা ঘোষণা করেননি ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল জানায়, দুই অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় বাকিগুলোতে আর সাজা দেয়ার প্রয়োজন নেই। আর বাকি ১২টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলোতেও কোনো সাজা ঘোষণা করা হয়নি। সাজা ঘোষিত না হওয়া ওই ৬টি অভিযোগে শাস্তির আরজি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করে।
Comments