ভারতীয় দুধে বাজার সয়লাব : পাবনার ৪০ হাজার খামারি বেকার হয়ে যাচ্ছে


ভারতীয় দুধে বাজার সয়লাব : পাবনার ৪০ হাজার খামারি বেকার হয়ে যাচ্ছে

জহুরুল ইসলাম, পাবনা
« আগের সংবাদপরের সংবাদ»
দেশীয় বাজারে ভারতীয় কমদামি নিম্নমানের গুঁড়ো ও তরল দুধে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় পাবনার খামারিদের এখন চরম দুর্দিন চলছে। ৩০ টাকা লিটার দুধের দাম এখন ১৮ টাকায় নেমে এসেছে। দুধ বিক্রি করে কৃষকরা পোষাতে পারছেন না। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৫০ থেকে ৬০টি দুধেল গরুর বাথান (খামার)। অনেক ক্ষুদ্র খামারি তাদের গরু বিক্রি করে অন্য পেশার সন্ধান করছে। এদিকে প্রায় দুই মাস আগে প্রাণ, আকিজ, আফতাব, এহসান এবং আড়ংসহ বড় বড় কোম্পানি পাবনার সংগ্রহ শালা থেকে দুধ কেনা বন্ধ করে দেয়। এছাড়া মিল্কভিটা তাদের দুধ সংগ্রহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। দুধ কেনা বন্ধ করায় বৃহত্তর পাবনা অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার কৃষক খামারি পরিবার চরম দুর্দিন কাটাচ্ছে এবং বেকার হয়ে পড়েছে। অনেকে ঋণ দিয়ে গরু কিনেছেন। তারা এখন কম দামে দুধ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে এ সময়ের সম্ভাবনাময় ডেইরি শিল্প এখন কৃষক ও খামারিদের গলার ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশির দশকে পাবনার বেড়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, সাঁথিয়া, চাটমোহর সুজানগর উপজেলা এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও বেলকুচি উপজেলা নিয়ে গড়ে ওঠে দুগ্ধ অঞ্চল। এ এলাকার ৪০ হাজার পরিবারের দুই লক্ষাধিক মানুষ এই দুগ্ধ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এসব উপজেলার দুই লাখ ৭১ হাজার গবাদিপশুর মধ্যে প্রায় এক লাখ গাভী প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। দুধের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ লিটার মিল্কভিটা, দেড় লাখ লিটার ৮টি বেসরকারি বড় বড় কোম্পানি এবং ৫০ হাজার লিটার ব্যক্তি পর্যায়ে হাটবাজারে বিক্রি হতো।
সূত্র জানায়, সরকারি পর্যায়ে মিল্কভিটা ৪০১ সমবায় সমিতির মাধ্যমে, বেসরকারি পর্যায়ে প্রাণ ডেইরি, আড়ং ডেইরি, আকিজ ডেইরি, আফতাব ডেইরি ও এহসান ডেইরি তাদের স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করতেন। এ জন্য ওইসব কোম্পানি এখানে তাদের অফিস স্থাপন করে এবং শীতলীকরণ কেন্দ্র তৈরি করেন। দিন দিন কৃষকরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দুধের দাম অর্ধেক কমে যাওয়ায় ওইসব কোম্পানি গুঁড়ো দুধ প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করছে। ফলে মার খাচ্ছে দেশীয় দুগ্ধ শিল্প।
বাঘাবাড়ী ও বেড়া দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমিতির সভাপতি এবিএম নুরুন্নবী সাইমুম আমার দেশকে বলেন, ভারতীয় নিম্নমানের দুধে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। এসব দুধ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও কম দাম হওয়ায় মানুষ দেশী দুধ না কিনে এসব দুধ কিনছে। তিনি অবিলম্বে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় দুধের অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং গো-খাদ্যে ভর্তুকির দাবি করেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়