সাম্রাজ্যবাদের মদতপুষ্ট ধর্মদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায়
তারা এখন আমার দেশ এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে সুগভীর চক্রান্তে লিপ্ত
হয়েছে। তারা ইতোপূর্বে আমার মোবাইল ফোন হ্যাকিং করে স্ত্রী ও বন্ধুদের
সঙ্গে কথোপকথন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইন্টারনেটে ছেড়েছে। এতেও আমার
চরিত্রহননের নোংরা উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় এখন অধিকতর ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করছে।
গত বুধবার থেকে ফেসবুক এবং বিভিন্ন ব্লগে আমার ছবি ব্যবহার করে উপরোক্ত
গোষ্ঠী সম্পূর্ণ জাল একটি লেখা আমার নামে প্রচার করছে। গত বছর নভেম্বর
পর্যন্ত প্রকাশিত আমার সব লেখা সংকলিত করে এ বছর বইমেলায় তিনটি নতুন বইসহ
আমার নিম্নোক্ত নয়টি বই এ যাবত্ প্রকাশিত হয়েছে :
* জাতির পিতা ও অন্যান্য
* ফুলবাড়ীর রাজনীতি
* ১/১১ থেকে ডিজিটাল
* নবরূপে বাকশাল
* কার মান কখন যায়
* জেল থেকে জেলে
* জয় আসলে ভারতের
* গুমরাজ্যে প্রত্যাবর্তন
* দুর্নীতিমুক্ত দেশ : সমাজচিন্তকদের ভাবনা (সম্পাদনা)
নভেম্বর-পরবর্তী বাকি সব লেখাই আমার দেশ পত্রিকার আর্কাইভে রক্ষিত আছে।
আমার নামে যে জাল লেখাটি ব্লগে ছাড়া হয়েছে সেগুলোর লিঙ্ক অন্য ব্লগ
ব্যবহারকারীরা জানতে চাইলে অপকর্মের হোতারা এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে। সেই জাল
লেখাটি পাঠকের জ্ঞাতার্থে এখানে উদ্ধৃত করছি—
“৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল ঠিক
তেমনি অনেক মুক্তিবাহিনীও রাজাকারদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। হত্যার দায়ে
মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের সমান অপরাধী। এই সরকার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে
রাজাকারদের বিচার করছে। জামায়াত সমর্থিত দল যদি কখনো ক্ষমতায় আসে তাহলে
রাজাকার হত্যার দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করবে।”
সম্পাদক মাহমুদুর রহমান (সম্পূর্ণ জাল লেখা)
জাল লেখা প্রচারের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর গতকাল সকালে আমার নাম ব্যবহার
করে নাশকতার মিথ্যা ষড়যন্ত্রসংবলিত ভুল ইংরেজিতে লিখিত একটি ই-মেইল বিভিন্ন
অ্যাড্রেসে পাঠানো হয়েছে। আমার লেখার পাঠকরা অবগত আছেন যে, আমি একটিমাত্র
ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করি যা হলো, admahmudrahman@gmail.com। সুতরাং,
হয়তো বাংলাদেশ ও ইসলাম ধর্মবিরোধী অপশক্তি আমার ই-মেইলও হ্যাক করেছে অথবা
ভুয়া ঠিকানা থেকে এসব পাঠাচ্ছে। এই অপতত্পরতার বিরুদ্ধে আমি ইতোমধ্যে
তেজগাঁও থানায় জিডি করেছি। এছাড়া, আমার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ্
মিঞা ও অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ
সম্মেলন করে এসব ষড়যন্ত্রমূলক তত্পরতার বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন এবং
যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত
জিডি ও ই-মেইলের অনুলিপি পাঠকের জ্ঞাতার্থে উদ্ধৃত করছি।
বরাবর, তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
তেজগাঁও থানা
ডিএমপি, ঢাকা।
বিষয় : সাধারণ ডাইরী
জনাব,
আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী মাহমুদুর রহমান, পিতা-মরহুম আবদুল লতিফ, সম্পাদক,
দৈনিক আমার দেশ, কাওরান বাজার, ঢাকা এই মর্মে আপনার থানায় সাধারণ ডাইরী
করছি যে, আমাদের বহুল প্রচারিত বিখ্যাত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি দীর্ঘদিন
যাবত্ অত্যন্ত সুনামের সাথে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করে আসছে। বর্তমান
কালেও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে চরম সত্য প্রকাশ
করছে, ফলে দেশের তথা সর্বস্তরের জনমানুষের মনে একটি বিশেষ স্থান দখল করেছে
এবং সাম্প্রতিককালে প্রচার সংখ্যাও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ঈর্ষান্বিত
হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল চরম আক্রোশে তাদের মিথ্যা ও হীনস্বার্থ
চরিতার্থ করার মানসে আমার নাম ব্যবহার করে ইন্টারনেটে ফেস বুক এবং বিভিন্ন
ব্লগের মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করছে যে গুলির
সাথে আমি বা আমার পত্রিকা কোন ভাবেই জড়িত নয়।
আমার নাম ব্যবহার করে আজ ৯.৫৪ ঘটিকার সময় ইন্টারনেটে নিম্নোক্ত বানোয়াট e-mail প্রচার করেছে।
“Good news
Mahmudur Rahman
to mahbub.ullah, info, me, news, prof_nurulanowar@yahoo.com
Dear friend,
we will be success to crush the Shahbagh movement soon by the Grace of
Almighty Allah. I request you to stay at home during tomorrow’s JUMA
PRAYER (22/02/2013). Our activists are ready to blast bombs during
aforesaid Prayer time at many mosque throughout the country including
Dhaka and Shahbagh.
Pray for me.”
এবং আমার ছবি দিয়ে আমার নামকে বিকৃত করে ব্লগে নিম্নোক্ত জাল লেখা প্রচার করছে—
“৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল ঠিক
তেমনি অনেক মুক্তিবাহিনীও রাজাকারদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। হত্যার দায়ে
মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারের সমান অপরাধী। এই সরকার বিশেষ ট্রাইবুনালে
রাজাকারদের বিচার করছে। জামায়ত সমর্থিত দল যদি কখনো ক্ষমতায় আসে তাহলে
রাজাকার হত্যার দায়ে বিশেষ ট্রাইবুনালে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করবে।
সম্পাদক মহমুদুর রহমান”
(সম্পূর্ণ জাল লেখা)
উপরোক্ত লেখার সঙ্গে আমি কোনভাবেই সম্পৃক্ত নই। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কে
বা কারা বা কোন স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এবং দেশের
আপামর জনসাধারণের দৃষ্টি অন্যদিকে নেয়ার জন্য অপচেষ্টা করছে। ফলে আমি আমার
তথা আমার সম্পাদিত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছি।
অতএব আপনার সমীপে আমার নামে উপরোল্লেখিত মিথ্যা তথ্য ও মন্তব্য প্রচার ও
প্রকাশ করার বিষয়ে অবহিত করে আপনার থানায় সাধারণ ডাইরী রুজু করলাম।
ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়ের করব।
নিবেদক
(মাহমুদুর রহমান)
সম্পাদক
* বানোয়াট ই-মেইল ও ব্লগের কপি সংযুক্ত
পাঠকদের অবগতির জন্য আরও জানাচ্ছি যে আমার কোনো ফেসবুক একাউন্ট নেই এবং
কোনো ব্লগে আমি লেখালেখিও করি না। উপরে বর্ণিত কর্মকা থেকে দেশবাসী নিশ্চয়ই
উপলব্ধি করতে পারছেন যে শাহবাগ আন্দোলনের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় এর
কুশীলবরা কতখানি উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনির যে
আশঙ্কা আমার দেশ অনেক আগেই ব্যক্ত করেছিল তার সত্যতা দেশবাসী প্রতিনিয়ত
দেখতে পাচ্ছেন। ওই চত্বর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন চিহ্নিত খুনি
আমাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। এখন সরকারের বিভিন্ন
গোয়েন্দা সংস্থা ও বিটিআরসি’র প্রত্যক্ষ মদতে উপরোল্লিখিত ঘৃণ্য কর্মকা
চালানো হচ্ছে।
সহৃদয় পাঠক, আপনাদের কাছে বিনীত প্রশ্ন, আমার অপরাধ কী? সারা জীবন
সর্বক্ষেত্রে সততার সঙ্গে দায়িত্ব প্রতিপালনের চেষ্টা করেছি। সম্পদের প্রতি
কোনোরকম মোহ না থাকায় কোনোদিন লুটেরা পুঁজিপতি হওয়ার চেষ্টা করিনি।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ পাঁচ বছর কাজ করেছি সর্বদা জনগণ ও
রাষ্ট্রের স্বার্থ চিন্তা করে। জীবনের পড়ন্ত বেলায় মিডিয়াতে এসে মহাজোট
সরকারের গণবিরোধী নীতি, অপশাসন, দুর্নীতি, মানবাধিকার হরণ ও বিচার বিভাগ
দলীয়করণের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। একজন গভীরভাবে বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে
আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এবং সাম্য ও শান্তির ধর্ম ইসলামের কুিসত অবমাননা
সহ্য করিনি। ইসলামবিদ্বেষী, নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের প্রকৃত চেহারা জাতির
কাছে তুলে ধরেছি। এক এগারোতে অগণতান্ত্রিক, ভারতের পদলেহী সরকার ক্ষমতা দখল
করলে সাধ্যমত তারও প্রতিবাদ করেছি। আমার সব কর্মকা রাষ্ট্র ও জাতির পক্ষে
পরিচালিত হয়েছে। অথচ ক্ষমতাসীন সরকার বিগত চার বছর ধরে আমার ওপর অসহনীয়
নির্যাতন করে চলেছে। আমি বিদেশি আধিপত্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণীর সঙ্গে আপস
করতে সম্মত হইনি, আমার ধর্মবিশ্বাসকে আঁকড়ে থেকেছি। দেশপ্রেমিক জনগণ বিশেষত
আমার দেশ পত্রিকার পাঠকশ্রেণী তাদের অপরিসীম ভালোবাসা এই অতি নগণ্য
ব্যক্তির ওপর উজাড় করে দিয়েছেন। সে ভালোবাসার প্রতিদান দেয়ার সামর্থ্য আমি
রাখি না। আল্লাহ্র ওপর অবিচল আস্থা এবং দেশবাসীর অমূল্য ভালোবাসাকে পাথেয়
করেই শেষ রক্তবিন্দু শরীরে থাকা পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ্ সত্যের পথে আমার
সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী শক্তির বিরুদ্ধে এই অসম
লড়াইয়ে আমি নিহত হলে আপনারা আল্লাহ্র দরবারে আমার জন্য মাগফিরাত চাইবেন।
আপনাদের কাছে এটুকুই প্রত্যাশা। আল্লাহু আকবর।
মাহমুদুর রহমান
সম্পাদক, দৈনিক আমার দেশ
Comments