বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব : আইন মন্ত্রীর আশ্বাস

ইনকিলাব ২০/২/১৩
সংসদ রিপোর্টার: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিচারপতি পদে বহাল থেকে নিহত ব্লগার রাজীবের বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদ বিচারকদের কক্ষে পাঠানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
গতকাল সংসদের অনির্ধারিত বিতর্কে অংশ নিয়ে মহাজোটের সংসদ সদস্যরা এ দাবি জানান। আলোচনার সূত্রপাত করেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি মুজিবুল হক চুন্নু। এরপর একে একে কথা বলেন, অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, অব্দুল মান্নান, চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ও সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান শেখ ফজলুল করিম সেলিম। পরে দাবির প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রী ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘শাহবাগের যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রথম শহীদ হয়েছেন রাজীব। সে শহীদ ব্যক্তি সম্পর্কে কয়েকটি পত্রিকায় প্রিয় নবীকে জড়িয়ে কিছু মিথ্যাচার ও অসত্য লেখা ছাপা হয়েছে। প্রকাশিত সে নিউজগুলো সিটিং জাস্টিস মিজানুর রহমান ভূঁইয়া সুপ্রিম কোর্টের খাম ব্যবহার করে নিজের স্টাফকে দিয়ে সব জাস্টিসদের রুমে পৌঁছে দিয়েছেন। এটা কত বড় অন্যায়। তার অন্যায়ের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা উচিত।’
সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘বিচারপতি যদি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে না জানে, তিনি যদি রাজনৈতিক কোন দলের কর্মী হয়ে কাজ করেন তাহলে জনগণ কী বিচার পাবে? বিচারপতি হয়েও  তিনি  রাজীবকে ‘মুরতাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাজীব সম্পর্কে এমন কথা বলার তিনি কে?’
এ বিচারপতি কি জামাতের পক্ষ নিয়ে আদালতে বসে আছেন, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তিনি কি তাহলে জামাতের সঙ্গে জড়িত? রাজীব হত্যার নায়ক হিসেবে তিনি জড়িত আছেন বলে আমি মনে করি। তাকেও বিচারের আওতায় আনা হোক।’
এ বিচারপতির অপসারণ দাবি করে শেখ সেলিম বলেন, ‘এ বিচারপতি ২০০২ সালে ১৯ জুলাই  বিএনপি জামাতের সময়ে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তাই তিনি রাজাকারের পক্ষ নিয়ে এ কাজ করেছেন। আইন মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব- সব আইন নিয়ম ভঙ্গ করে রাজাকারদের পক্ষ নিয়ে যিনি এ কাজ করেছেন, তাকে অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হোক।’
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া একই দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বিচারপতি  আমাদের কোর্টের জন্য কলঙ্কজনক। অসত্য একটি বিষয় নিয়ে এ ধরনের  বিভিন্ন বিচারকদের খাস কামরায় পাঠানো গর্হিত কাজ। অনতিবিলম্বের তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ হোক।
সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এ বিচারপতি রাজনৈতিক কারণে নিয়োগপ্রাপ্ত। নিজের চেয়ার  ব্যবহার করে যে কাজ করেছেন, তা জঘন্য অপরাধ। তিনি খুনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাকে উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনা উচিত।’
সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রী ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘বিচারপতি বিচারকের দায়িত্ব নিয়ে যে কাজ করেছেন, তা একেবারেই জঘন্য কাজ। তার এমন আচরণ অসদাচরণমূলক বলা যায়। এর প্রেক্ষিতে সংবিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতির ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা আছে। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করবো।
বিচারপতিদের কোন অবস্থাতেই এ ধরনের আচরণ করা উচিত না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই সংবিধান বহির্ভূত। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
চতুর্থ বুড়িগঙ্গা ফ্লাইওভারটি নামকরণ হবে
শেখ হাসিনা সেতু
রাজধানীর শান্তিনগর হতে ঢাকা-মাওয়া সড়ক (ঝিলমিল) পর্যন্ত প্রস্তাবিত চতুর্থ বুড়িগঙ্গা ফ্লাইওভারটি ‘শেখ হাসিনা উড়াল সেতু’ নামকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থাপন ও আলোচনার সময় এ সুপারিশ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ৪২তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সদস্য হিসেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, নূর-ই-আলম চৌধুরী, আব্দুছ ছাত্তার, আসাদুজ্জামান খাঁন, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, কে এম খালিদ, আজিজুল হক চৌধুরী এবং সাফিয়া খাতুন বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে জানানো হয় গুলশান, বনানী এবং উত্তরায় পেট্রোল পাম্প, পার্ক, খেলার মাঠের শ্রেণী পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিটি দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিটিকে অবহিত করতে সুপারিশ করে।
সামরিক শাসনামলে জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশ
আইনে রূপ দিতে সংসদে পৃথক দু’টি বিল উত্থাপন
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে গতকাল জাতীয় সংসদে পৃথক দু’টি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিল দু’টি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১৯৭৭ সালের ৯ এপ্রিলের মধ্যে এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্ল¬ুর রহমান দুটি অধ্যাদেশ জারি করেন। সংবিধানে বিধান অনুযায়ী, গত ২৭ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে অধ্যাদেশ দুটি সংসদে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। আইনগুলো কার্যকর করতে ৩০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিল পাসের সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কারণে তিনি গতকাল পৃথক দু’টি বিল উত্থাপন করেন। এরমধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত অধ্যাদেশ সমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরণ (বিশেষ বিধান) আইন-২০১৩ বিলে ৮৫টি আইন এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত অধ্যাদেশ সমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরণ (বিশেষ বিধান) আইন-২০১৩ বিলে ৮১টি আইনের কথা বলা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১ এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায় ও আদেশের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আইনি শূন্যতা সমাধানে ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১৯৭৭ সালের ৯ এপ্রিলের মধ্যে এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতি দু’টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন। এসংক্রান্ত দু’টি বিল মন্ত্রীসভা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুমোদন করেছে। বিল দু’টি আইনে পরিণত হলে আইনের শাসন, জনগণের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ ও প্রজাতন্ত্রের কাজের ধারাবাহিকতা চলমান ও অক্ষুন্ন থাকবে।
বিলের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছু থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে’। বিল দু’টিতে জিয়াউর রহমানের আমলের ৮৫টি ও এরশাদের আমলের ৮১টি অধ্যাদেশ তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।
সংসদে বিল পাস
আদালত অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাসের বিনাশ্রম  কারাদ- ও ২ হাজার টাকা জরিমানা
আদালত অবমাননাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- বা ২ হাজার টাকার আর্থিক দ- অথবা উভয় দ-। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেও দায়মুক্ত হতে পারেন। এমন বিধান রেখে আদালত অবমাননা বিল ২০১৩ সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। পরে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটিতে আদালত অবমাননার সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল সংসদে প্রেসিডেন্ট’স (রিমুনারেশন এন্ড প্রিভিলেজেস) (অ্যামেনমেন্ট) বিল ২০১৩, স্পিকার এ- ডেপুটি স্পিকার (রিমুনারেশন এন্ড প্রিভিলেজেস) (অ্যামেনমেন্ট) বিল ২০১৩ সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে স্পিকার  বিল দুটি অধিতকর পরীক্ষা নিরীক্ষা পূর্বক চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করেন।
আদালত অবমাননা বিলে মৌখিক বা লিখিত কোন শব্দ বা চিহ্ন ধারা যদি কোন আদালতের কর্তৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করা, আদালত সম্পর্কে অপপ্রচার করার অভিপ্রায় প্রকাশ পায় তাহলে সেটি আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া কোন বিচারিক কার্যধারা ক্ষুণœ করা অথবা হস্তক্ষেপ করা এ ধরনের অভিপ্রায় প্রকাশ পেলে সেটিও আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে। ২ দফার ৮/গ উপধারায় আরো বলা হয়েছেÑ অন্য কোনভাবে চলমান বিচারিক কার্যধারার স্বাভাবিক গতিধারাকে বাধাগ্রস্ত করে বা হস্তক্ষেপ করে বা বাধাগ্রস্ত বা হস্তক্ষেপ করার অভিপ্রায় প্রকাশ পেলেও আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে। বিলের ১৫ নম্বর দফায় বলা হয়েছেÑ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় বা উহার নিকট অভিযোগ করা হয় যে, কোন ব্যক্তি আদালত কক্ষে কোন মামলার শুনানিকালে আদালত অবমাননা করেছেন তাহলে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় এই আইনে কোন বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটও আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন।
৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছেÑ নির্দোষ প্রকাশনা বা বিতরণ অবমাননা নয়।  ৪/১ উপধারায় বলা হয়েছেÑ কোন ব্যক্তি আদালত অবমাননার দায়ে দোষী হইবেন না এই কারণে যে, তিনি মৌখিক বা লিখিত বা লিখিত কোন শব্দ বা চিত্র দ্বারা বা প্রদর্শনযোগ্য কোন কিছুর মাধ্যমে, বা অন্য কোনভাবে এমন কোন কিছু প্রকাশ করিয়াছেন যাহা উক্তরূপ প্রকাশের সময় আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি বা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বা বাধা প্রদান করে বা উহা দ্বারা উক্তরূপ বিচার প্রক্রিয়া হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে, যদি না উক্ত সময় তাহা এই মর্মে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, বিষয়টি বিচারাধীন। এই বিলের ১১ দফায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এবং নিষ্পত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপিত হলে অভিযোগের বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে এবং আদালতের নিকট কারণ দর্শাইবার জবাব সন্তোষজনক হলে তাকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে। এবং জবাব সন্তোষজনক না হলে উক্ত ব্যক্তির আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার এবং বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দিতে হবে এবং কার্যধারার কোন পর্যায়ে যদি আদালত মনে করে ন্যায় বিচারের স্বার্থে অবমাননাকারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি আবশ্যক তাহলে আদালত উক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে। ১১’র ২ উপধারা অনুসারে- অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগ না করে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান ও মামলা পরিচালনা করতে পারবেন।
১১’র ৫ উপধারা অনুসারে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি আদালত অবমাননায় অভিযুক্ত হলে তিনি আইনজীবী নিয়োগসহ মামলা পরিচালনার জন্য সরকারি খাত থেকে অগ্রিত অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণ হলে অগ্রিম গৃহীত অর্থ ফেরত দিতে হবে না। তবে দোষী সাব্যস্ত ও দ-প্রাপ্ত হলে অগ্রিম গৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
বিলের ১২ নম্বর দফায় বলা হয়েছে- আদালত অবমাননার অভিযোগের বিচার এবং শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকবে। বিলের ১৭ নম্বর দফা অনুসারে আদালত অবমাননার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাইকোর্টের আদেশের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। ১৩ নম্বর দফায় বলা হয়েছে- আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি অনুর্ধ্ব ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- বা ২ হাজার টাকার অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত করতে পারবেন। তবে আদালত অবমাননা সম্পর্কিত চলমান কার্যধারার যে কোন পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ক্ষমা করতে পারেন।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে-বৃটিশ আমলে অবিভক্ত ভারতে ৩টি ধারা সমন্বয়ে কনটেম্ট অব কোর্ট অ্যাক্ট ১৯২৬ প্রণিত হয় যা অদ্যাবধি বাংলাদেশে বিদ্যমান রয়েছে। আদালত অবমাননা বিষয়ে এ আইনটি অপর্যাপ্ত এবং অনেকাংশে অস্পষ্ট। এছাড়া আইনের উদ্দেশ পুরণের লক্ষ্যে আদালত অবমাননাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। আদালত অবমাননাকে সংজ্ঞায়িত করে এ সম্পর্কিত মামলার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে আদালত অবমাননা অধ্যাদেশ ২০০৮ জারি করা হয়। পরবর্তীতে ওই অধ্যাদেশকে হাইকোর্ট বেআইনি ঘোষণা করে। দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাহী বিভাগ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের কর্ম পরিধিভুক্ত কাজগুলো যাতে সুচারুরূপে সম্পাদন করতে পারে এবং বিচার বিভাগও যাতে নিজ পরিম-লে স্বাধীন থেকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে সে লক্ষ্যে আদালত অবমাননা বিল ২০১১ প্রণয়ণ করা হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়