আফগানিস্তানের ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রত্যাহার শুরু
গত রোববার পাকিস্তানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কাস্টম অফিসারের উদ্বৃতি দিয়ে জিও টেলিভিশন জানিয়েছে, পাকিস্তানের তোরখাম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা লরিগুলো ইতোমধ্যে সীমান্তের তল্লাশি চৌকি থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এবং সেগুলো করাচির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামাদি প্রত্যাহারের দায়িত্ব পাওয়া পাকিস্তানের কার্গো পরিবহন প্রতিষ্ঠান বিলাল এসোসিয়েটস এর মুখপাত্র ফাওয়াদ খান সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সরঞ্জামাদি তোরখাম সীমান্ত দিয়ে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে করাচিতে আনা হচ্ছে। তল্লাশি চৌকি থেকে ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে সেগুলো করাচির নৌ বন্দরের দিকে রওয়ানা দিয়েছে।
ফাওয়াদ খান আরও জানান, দ্বিতীয় দফায় বাগরাম সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামাদি প্রত্যাহারের কাজ খুব শিগগির শুরু হবে। সূত্র মতে, এ বছরের মধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে বেশ কয়েক হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। আগামী বছর ন্যাটোসহ সব বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে ন্যাটো সৈন্য সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার হলেও শুধু মার্কিন সৈন্যই রয়েছে ৬০ হাজার। সব সৈন্যই ২০১৪ সালের মধ্যে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে কিছু সময় লেগেছে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার রাশ টেনে ধরা কঠিন একথা স্বীকার করে নিলেও অ্যালেন বিবিসি কে বলেন, আজ আমরাই জিতেছি। শাসন পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে পরিবেশ বিরাজ করলে বিদ্রোহী তৎপরতার বিরুদ্ধে জয় হয়েছে বলা যায় সে পরিবেশ সৃষ্টির পথে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। আর তাই আমরা যুদ্ধ জয়ের পথে রয়েছি বলেই আমি মনে করি। তাছাড়া, আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা (আফগান বাহিনী) জনগণকে সুরক্ষা দিচ্ছে এবং সরকারকে তাদের নাগরিকদের রক্ষায় সক্ষম করে তুলছে।
এটাও একটা জয়। ওদিকে, অ্যালেনের কাছ থেকে কাবুলে আইএসএএফ এর নতুন কমান্ডারের দায়িত্ব নিয়ে ডানফোর্ড বলেন, আজ কেবল দিন বদলের দিন নয়। অবিরাম এগিয়ে চলার দিন। জোটের সংকল্প বদলায়নি। আগামী বছর নাগাদ ন্যাটো আফগানিস্তান থেকে তাদের বেশির ভাগ কমব্যাট সৈন্য প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। ফলে মেরিন জেনারেল ডানফোর্ডই হতে পারেন আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধের সর্বশেষ কমান্ডার। প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইর সরকার ও ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে তালেবানের রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ অব্যাহত থাকলেও জন অ্যালান বলেন, ন্যাটো জোট বিজয়ের পথে রয়েছে। জন অ্যালেন ইউরোপের ন্যাটো বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার হতে যাচ্ছেন। ডানফোর্ড কাবুলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনী (ইসাফ)-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জন অ্যালান ছিল প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চতুর্থ ইসাফ কমান্ডার।
Comments