হল-মার্ক কেলেঙ্কারি আসামিদের ধরা যাচ্ছে না, ফাঁস হচ্ছে অভিযানের তথ্য
- Get link
- X
- Other Apps
অনিকা ফারজানা | তারিখ: ২৬-০২-২০১৩
হল-মার্ক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় পলাতকদের ধরতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য পাচ্ছে না। এমনকি অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে দুদক কর্তৃপক্ষ।
ডেসটিনি বা হল-মার্কের তদন্তের শুরুর দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা সাহায্য পাওয়া গেলেও এখন তা-ও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালেন দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে আসামি না ধরার জন্য তদবির। নতুন করে আসামিদের ধরতে না পারার ফলে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির তদন্তও এগোচ্ছে না। তদন্ত সঠিক না হলে শেষ পর্যন্ত সব আসামি লঘু শাস্তি পাবেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের একটি মহল মামলা দুর্বল করতে তর্যাপর বলেও দুদক সূত্রে জানা গেছে।
হল-মার্কের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ধরার বিষয়ে দুই মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানা যায়, কিছুক্ষণ আগেই আসামি পালিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নিয়ে গ্রেপ্তারি কার্যক্রম চালানো হয়। এ কারণে এখান থেকেই তথ্য পাচার হয়ে যায় বলে সন্দেহ করছে দুদক। আবার সম্প্রতি সাবেক পরিচালনা পর্যদের চিহ্নিত কয়েকজন ব্যক্তিকে বিরক্ত না করতে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও চাপ তৈরি করেছেন বলে দুদক সূত্র জানায়।
দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হল-মার্কের মতো এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা উদ্ঘাটনে দুদকের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও নিবিড় সহযোগিতা প্রয়োজন।
হল-মার্ক ছাড়াও সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মালিকেরাও পলাতক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স গ্রুপের মালিক তাসলিম হাসান, প্যারাগন গ্রুপের সাইফুল ইসলাম, ডিএন গ্রুপের ফাহমিদা আকতার চৌধুরী এবং নকশি নিট গ্রুপের মালিক আবদুল খালেককে ধরার বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ পদে নতুন যোগ দিয়েছি। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সমাবেশ প্রতিনিয়ত চলায়, দুদক বা হল-মার্কসম্পর্কিত বিষয়ে ঠিকমতো খোঁজ নিতে পারিনি। আশা করছি, দ্রুত এসব ঝামেলা কাটিয়ে দুদকের বিষয়ে নজর দিতে পারব।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, প্রকৃত আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনাটি দুদকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সঠিক তদন্তের পর দোষীরা শাস্তি না পেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কেলেঙ্কারি ঠেকানো যাবে না।
হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ১১ মামলার আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত হল-মার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ ও চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার ব্যবস্থাপক (সাময়িক বরখাস্ত) এ কে এম আজিজুর রহমান, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মীর মহিদুর রহমান, জিএম শেখ আলতাফ হোসেন ও মো. সফিজউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ সূত্র জানায়, টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের তসলিম হাসানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলকে তিন কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন তানভীর মাহমুদ। এ নিয়ে দুদক তাঁকে ১৩ ফেব্রুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে দ্বিতীয় একটি সমর্থিত বক্তব্যের প্রয়োজন। এ জন্য তসলিম ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে জোর দেওয়া হয়েছে। তানভীরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই তিন কোটি টাকার একটি অংশ দিয়েছিলেন ফাহমিদা চৌধুরী। তাই তাঁকেও জরুরি ভিত্তিতে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, রূপসী বাংলা শাখার সাবেক সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান, প্রধান কার্যালয়ের ডিএমডি মাইনুল হক, মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ননী গোপাল নাথ (ওএসডি) ও এজিএম আশরাফ আলী পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে তদন্ত দল। এঁদের খোঁজে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযানসহ সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বলা রয়েছে।
দুদক সূত্র আরও জানায়, তানভীর ও তুষার আহমেদ ব্যাংকের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য তাঁদের মুঠোফোনের কললিস্ট ও লেনদেন হওয়া খুদে বার্তা (এসএমএস) সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তদন্ত দলের হাতে ৩৪ আসামির মধ্যে ২৭ জনের কললিস্ট এসে পৌঁছেছে। ঘটনাকালে তাঁরা কার কার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছিলেন, সে বিষয়ে যাবতীয় তথ্য এখন দুদকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আসামিদের ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
এদিকে, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদের সাবেক সদস্যদের ঠিকানায় সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাঁদের আয়কর নথি থেকে তথ্য জোগাড় করেছে দুদক। গত ৪ অক্টোবর রমনা থানায় দায়ের করা ১১টি মামলায় তদন্তের শেষ ভাগে এসে এসব তথ্য খোঁজা হচ্ছে।
তদন্তের শেষ ভাগে এসে সোনালী ব্যাংকের পর্ষদের দায় ও দায়িত্বও খুঁজে দেখছে দুদকের তদন্ত দল।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে দুদক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, হল-মার্কের সঙ্গে সম্পর্ক, ঘটনাস্থল সোনালী ব্যাংকের শেরাটন হোটেল শাখায় বারবার তাঁর আসা-যাওয়া, দুদক ও সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এবং হল-মার্কের তুষারের বক্তব্য আমলে নিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, ননফান্ডেড এক হাজার কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান দল ইতিমধ্যে জনতা ব্যাংকের সাত শাখা, রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা, শাহজালাল ব্যাংকের সাত শাখা ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব ব্যাংক থেকে যথাক্রমে ৩১৪ কোটি ৬৬ লাখ, ৯৭ কোটি ২৮ লাখ, ১০৭ কোটি ৩৯ লাখ ও ৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হল-মার্ক গ্রুপ। এ ক্ষেত্রে দুদকের তদন্ত দল খতিয়ে দেখছে, ওই সব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার কার সঙ্গে তুষার, তানভীর ও সোনালী ব্যাংকের আজিজের সরাসরি সম্পর্ক ছিল।
ডেসটিনি বা হল-মার্কের তদন্তের শুরুর দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা সাহায্য পাওয়া গেলেও এখন তা-ও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালেন দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে আসামি না ধরার জন্য তদবির। নতুন করে আসামিদের ধরতে না পারার ফলে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির তদন্তও এগোচ্ছে না। তদন্ত সঠিক না হলে শেষ পর্যন্ত সব আসামি লঘু শাস্তি পাবেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের একটি মহল মামলা দুর্বল করতে তর্যাপর বলেও দুদক সূত্রে জানা গেছে।
হল-মার্কের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ধরার বিষয়ে দুই মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানা যায়, কিছুক্ষণ আগেই আসামি পালিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নিয়ে গ্রেপ্তারি কার্যক্রম চালানো হয়। এ কারণে এখান থেকেই তথ্য পাচার হয়ে যায় বলে সন্দেহ করছে দুদক। আবার সম্প্রতি সাবেক পরিচালনা পর্যদের চিহ্নিত কয়েকজন ব্যক্তিকে বিরক্ত না করতে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও চাপ তৈরি করেছেন বলে দুদক সূত্র জানায়।
দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হল-মার্কের মতো এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা উদ্ঘাটনে দুদকের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও নিবিড় সহযোগিতা প্রয়োজন।
হল-মার্ক ছাড়াও সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মালিকেরাও পলাতক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স গ্রুপের মালিক তাসলিম হাসান, প্যারাগন গ্রুপের সাইফুল ইসলাম, ডিএন গ্রুপের ফাহমিদা আকতার চৌধুরী এবং নকশি নিট গ্রুপের মালিক আবদুল খালেককে ধরার বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ পদে নতুন যোগ দিয়েছি। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সমাবেশ প্রতিনিয়ত চলায়, দুদক বা হল-মার্কসম্পর্কিত বিষয়ে ঠিকমতো খোঁজ নিতে পারিনি। আশা করছি, দ্রুত এসব ঝামেলা কাটিয়ে দুদকের বিষয়ে নজর দিতে পারব।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, প্রকৃত আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনাটি দুদকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সঠিক তদন্তের পর দোষীরা শাস্তি না পেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কেলেঙ্কারি ঠেকানো যাবে না।
হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ১১ মামলার আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত হল-মার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ ও চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার ব্যবস্থাপক (সাময়িক বরখাস্ত) এ কে এম আজিজুর রহমান, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মীর মহিদুর রহমান, জিএম শেখ আলতাফ হোসেন ও মো. সফিজউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ সূত্র জানায়, টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের তসলিম হাসানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলকে তিন কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন তানভীর মাহমুদ। এ নিয়ে দুদক তাঁকে ১৩ ফেব্রুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে দ্বিতীয় একটি সমর্থিত বক্তব্যের প্রয়োজন। এ জন্য তসলিম ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে জোর দেওয়া হয়েছে। তানভীরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই তিন কোটি টাকার একটি অংশ দিয়েছিলেন ফাহমিদা চৌধুরী। তাই তাঁকেও জরুরি ভিত্তিতে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, রূপসী বাংলা শাখার সাবেক সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান, প্রধান কার্যালয়ের ডিএমডি মাইনুল হক, মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ননী গোপাল নাথ (ওএসডি) ও এজিএম আশরাফ আলী পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে তদন্ত দল। এঁদের খোঁজে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযানসহ সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বলা রয়েছে।
দুদক সূত্র আরও জানায়, তানভীর ও তুষার আহমেদ ব্যাংকের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য তাঁদের মুঠোফোনের কললিস্ট ও লেনদেন হওয়া খুদে বার্তা (এসএমএস) সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তদন্ত দলের হাতে ৩৪ আসামির মধ্যে ২৭ জনের কললিস্ট এসে পৌঁছেছে। ঘটনাকালে তাঁরা কার কার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছিলেন, সে বিষয়ে যাবতীয় তথ্য এখন দুদকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আসামিদের ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
এদিকে, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদের সাবেক সদস্যদের ঠিকানায় সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাঁদের আয়কর নথি থেকে তথ্য জোগাড় করেছে দুদক। গত ৪ অক্টোবর রমনা থানায় দায়ের করা ১১টি মামলায় তদন্তের শেষ ভাগে এসে এসব তথ্য খোঁজা হচ্ছে।
তদন্তের শেষ ভাগে এসে সোনালী ব্যাংকের পর্ষদের দায় ও দায়িত্বও খুঁজে দেখছে দুদকের তদন্ত দল।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে দুদক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, হল-মার্কের সঙ্গে সম্পর্ক, ঘটনাস্থল সোনালী ব্যাংকের শেরাটন হোটেল শাখায় বারবার তাঁর আসা-যাওয়া, দুদক ও সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এবং হল-মার্কের তুষারের বক্তব্য আমলে নিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, ননফান্ডেড এক হাজার কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান দল ইতিমধ্যে জনতা ব্যাংকের সাত শাখা, রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা, শাহজালাল ব্যাংকের সাত শাখা ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব ব্যাংক থেকে যথাক্রমে ৩১৪ কোটি ৬৬ লাখ, ৯৭ কোটি ২৮ লাখ, ১০৭ কোটি ৩৯ লাখ ও ৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হল-মার্ক গ্রুপ। এ ক্ষেত্রে দুদকের তদন্ত দল খতিয়ে দেখছে, ওই সব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার কার সঙ্গে তুষার, তানভীর ও সোনালী ব্যাংকের আজিজের সরাসরি সম্পর্ক ছিল।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments