বৃহদন্ত ও মলদ্বার ক্যান্সার



প্রতিবছর কোলন ৩০ হাজার ক্যান্সার দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্টে। তার মধ্যে বিশ হাজারের বেশি মারা যাচ্ছে। এই দেশে ফুসফুস ক্যান্সারে মৃত্যুর হারের পরেই এই ক্যান্সারে মৃত্যু হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সার প্রায়ই সমান সমানভাবে আক্রমণ করে। পশ্চিম ইউরোপ, স্কানেডিভাভিয়া, উত্তর আমেরিকায় এর হার অনেক বেশি। সাহারা, আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকাতে এই রোগের হার খুবই কম। দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসকারী লোকদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি হয়। কোলন ক্যান্সারে মহিলাদের মৃত্যুর হার পুরুষের তুলনায়  বেশি যথা : ১১:৭
এই রোগ যে কোন বয়সে হয় তবে ৫০ বছরের পরে এই রোগের হার অনেক বেশি এবং ৭০-৭৯ বছর বয়সের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি হয়। প্যাথলজিকাল শ্রেণী বিভাগের ক্ষেত্রে এই রোগকে ৪টা ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা : ১. পলিপয়ডাল
২. আলসারেটিড
৩. এনুলার ও 
৪. মিউসিনাস
এদের মধ্যে পলিপয়ডাল চিকিৎসাজনিত ফলাফল ভাল, মিউসিনাসের ফলাফল খারাপ। কোলনকে ৫ অংশে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথাক্রমে ডান কোলন, মাঝকোলন, বাম কোলন, সিগময়েড কোলন ও রেকটাম। এর মধ্যে সিগময়েড কোলন ও রেকটাম ক্যান্সারের হার অনেক বেশি শতকরা ৭৫ ভাগ। বাকি ২৫ ভাগ কোলনের অন্য ৩ অংশে হয়।
ক্যান্সারের বিস্তৃতি : 
সাধারণত যে কোন ক্যান্সার যে স্থানে হয় সেখান থেকে একাধিক জায়গায় দ্রুত বিস্তার লাভ করতে থাকে। একাধিক অঙ্গকে আক্রান্ত করতে চায়। এটাই হল ক্যান্সার রোগের ট্রাজেডি। তাই ক্যান্সার হওয়া মাত্রই তা নির্ণয় করা ও চিকিৎসা দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ :
১. বংশগত ও পরিবেশগত প্রভাব ক্যান্সারের মূলকারণ। বেনাইন এডোনোমা দীর্ঘদিন ধরে কোলনে আছে তা থেকে ক্যান্সার হতে পারে।
২. পিত্তথলির পাথর হয়েছে তাদের কোলন ক্যান্সার হওয়ার হার অনেক বেশি।
৩. পাকস্থলীতে ঘা হয়েছে হেলিকো ব্যাকটর পাইলোরী দ্বারা। সেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা কোলন ক্যান্সার হয়।
৪. ই, কোলাই দ্বারা ইনফেকশন হলে ক্যান্সার হবে।
৫. দীর্ঘদিন ধরে আই বি এস রোগে ভোগা রোগীর ক্যান্সারের হার অধিক।
৬. পাকস্থলীর ক্যান্সার অপারেশন হয়েছে তার কোলন ক্যান্সারের হার অনেক।
৭. আঁশযুক্ত খাবার ক্যান্সার রোগের প্রতিরোধক। চর্বি জাতীয় খাবার খেলে ক্যান্সার হয়। শাকসবজি কম খেলে ক্যান্সার হবে।
রোগের লক্ষণসমূহ :
১. সাধারণত দুইভাবে প্রকাশ পায় যথা : ইমার্জেনসি ও ক্রনিকভাবে।
২. মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া।
৩. মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন হওয়া। কখনো শক্ত পায়খানা, কখনো পাতলা ডায়রিয়া হবে। বারবার পায়খানা হবে।
৪. রক্ত শূন্যতা সৃষ্টি হয় রক্ত পড়া থেকে। সেখানে থেকে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। বুক ধরপড় করে, শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়।
৫.  ৫০ বছরের বেশি বয়সী লোকের শূন্যতা হচ্ছে সেক্ষেত্রে কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 
৬.হঠাৎ করে নারী বন্ধ হয়ে বমি শুরু হয়েছে, পেটে ব্যথা, পায়খানা বন্ধ। কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা বেশি। 
৭. অনেক সময় ক্যান্সারের জায়গাতে ফুটা হয়ে প্রচ- বেগে পেটে ব্যথা হবে যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। 
৮. মলদ্বারে প্রচ- ব্যথা হবে যা ওষুধে ভাল হবে না। তখন রোগ এডভানস হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। 
৯. অপারেশন অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে, লিভার, বড় হয়ে যায়, জন্ডিস দেখা দেয়। 
১০. ঘাড়ের বাম দিকে গ্রন্থি ফুলে যায়।
পরীক্ষা : রক্তের ক্যান্সার মার্কার নির্ণয়। আলট্রাসাউন্ড, সিটিস্ক্যান, কোলোনসকপি ও বায়োপসি করা জরুরি। রোগের স্টেজ নির্ণয় চিকিৎসার পূর্ব শর্ত। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়ে তাহলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
চিকিৎসা : সাজারই একমাত্র চিকিৎসা। প্রয়োজন বোধে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দিতে হয়। তাহলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। রেকটাম ও কোলন থেকে রক্তের দ্বারা ক্যান্সার কোষ লিভারে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ক্ষেত্রে চিকিৎসার আগে লিভারে রোগের কোষ আছে কি না তা নির্ণয় করা জরুরি। কোলন ও রেকটাম ক্যান্সার একত্রে চিকিৎসা আমি জাপানে প্রশিক্ষণকালে অর্জন করেছি। এখন প্রায় সবাই কোলন ক্যান্সার চিকিৎসা করে রোগীকে ছেড়ে দেন যা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা। পরিপূর্ণ চিকিৎসা করতে হলে কোলন ও লিভার একত্রে চিকিৎসা করতে হবে। 
একটি কেস হিস্ট্রি। নাম রকিব। বয়স ৩৫ বছর, মাঝারী গড়ন। ট্যাক্সি চালক। দীর্ঘ এক বছর ধরে পায়খানার সাথে রক্ত যায়। পাইলস মনে করে ওষুধ খেয়ে যাচ্ছে। শেষের একমাস হল সব সময় রক্ত পড়ছে। ব্যথা তীব্র হয়েছে। পায়খানার রাস্তা সরু হয়ে গেছে। প্রচুর শক্তি প্রয়োগ করতে হয় পায়খানার সময় তাতে সামান্য মল আসে। স্বাস্থ্যহানি ঘটেছে। বায়োপসি করলাম ক্যান্সার ধরা পড়ল। এবার সর্ব শরীর পরীক্ষা করা হলো ক্যান্সারের জীবাণু কোথাও আছে কি না? তা জানার জন্য, না কোন ক্যান্সার কোষ কোথাও নেই। সফল সার্জারি হয়েছে। রুগী সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে এক সাইকেল কেমোথেরাপির ব্যবস্থা হয়েছে। যা পেলে রুগী দীর্ঘায়ু হবেন। 
অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান
হেপাটোবিলিয়ারী, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপাট সার্জারি বিশেষজ্ঞ
লিভার, গ্যাস্ট্রিক, জেনারেল হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট। 
বাড়ি নং-১০০/১, রোড নং-১১/এ, ধানমন্ডি আ/এ, সাতমসজিদ রোড। 
ঢাকা-১২০৯। 
মোবাইল -০১৭১৫৫১৭৬২১

Comments

Popular posts from this blog

কিডনি ভালো রাখতে যখন তখন ওষুধ নয়