এ কেমন আচরণ তাদের সঙ্গে!
- Get link
- X
- Other Apps
মুসলিমা জাহান | তারিখ: ০৯-০৬-২০১৩
নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক কিশোরী তাদের কৈশোরকাল হারিয়ে ফেলে।
ছবিটি প্রতীকী
কেয়া (ছদ্মনাম) ঢাকার একটি নামকরা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। পড়াশোনা আর দুষ্টুমি, দুটোতেই সমান পারদর্শী। বাসায় পড়াশোনার বাইরে যতটুকু সময় পায়, মায়ের সঙ্গে হাসিঠাট্টা-গল্প করে কাটায়। ড্রয়িং খাতায়ও তার হাত সমান চলে। দুষ্টুমি চলে বাবার সঙ্গেও। হঠাৎ করে খুব শান্ত হয়ে যায় ১০ বছরের কেয়া।
প্রথম দিকে বিষয়টি মা ধরতে না পারলেও কিছুদিন পরে তাঁর মনে খটকা লাগে। কেয়া মায়ের সঙ্গে গল্প করে না। প্রয়োজনের বাইরে একটি কথাও বলে না। এমনকি আঁকার খাতা নিয়েও বসে না। অনেক চেষ্টা করেও চাকরিজীবী মা এর কারণ খুঁজে পাননি। বাধ্য হয়ে শরণাপন্ন হলেন মনোরোগ চিকিৎসকের। মাস দুয়েক কাউন্সেলিং করার পর চিকিৎসক মাকে জানান, কেয়া গৃহশিক্ষকের দ্বারা নিয়মিত যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তারা যখন বাসায় থাকেন না, শিক্ষক তখন কেয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশে ও গোপনাঙ্গে হাত দেয়।
শুধু কেয়া-ই নয়। বাংলাদেশে এ রকম বহু শিশু-কিশোরী প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সমাজের উচ্চ-মধ্য-নিম্নবিত্ত সব শ্রেণীর শিশুই যৌন নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পথশিশু, বস্তির শিশু, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু ও শ্রমিক শিশুদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা বেশি। যৌন অপরাধের মধ্যে যৌন হয়রানি এবং যৌন নির্যাতন, দুটো বিষয়ই থাকছে। যৌন হয়রানি মানেই যৌন নির্যাতন নয়, তবে যৌন নির্যাতন হলে সেখানে যৌন হয়রানিও ঘটে। যৌন অপরাধ বলতে ইভ টিজিং, ধর্ষণ, শরীরে সংবেদনশীল স্থানে হাত দেওয়া, চুমু খাওয়া, শরীরের গোপন স্থান দেখার জন্য বস্ত্রহীন হতে বাধ্য করা, অশ্লীল ছবি তোলা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি।
শুধু যে মেয়েশিশুরা এর শিকার হচ্ছে, এমনটি নয়। ছেলেশিশু-কিশোরেরাও বাদ যাচ্ছে না। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের ২০১০ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছেলেশিশুরাই তুলনামূলক বেশি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছে। মেয়েশিশুর ওপর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনের তুলনায় কম কাজ হলেও ছেলেশিশুদের বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। এমনকি নির্যাতনের শিকার ছেলেশিশু-কিশোরকে কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়, অথবা কীভাবে ছেলেশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয় না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা বাড়িতে বেশি আসা-যাওয়া করে এবং শিশুরা যাদের বাড়িতে বেশি যায়, তাদের দ্বারা যৌন নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা বেশি ঘটে। অর্থাৎ নিকটাত্মীয়র মাধ্যমে। দূরসম্পর্কের ভাই, চাচা, মামা, খালু, নানা, দাদা দ্বারা হতে পারে এমনকি বাবা পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রতিবেশী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বড় ভাই, গৃহশিক্ষক, বাবা-মায়ের বন্ধু, বড় ভাইবোনের বন্ধু। অপরিচিত লোকজনের মাধ্যমেও ঘটতে পারে। এই নির্যাতন একবার কিংবা বারবার ঘটতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পেশা বিশ্লেষণ করে মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্ররাই সবচেয়ে বেশি যৌন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এ হার প্রায় ২৮ শতাংশ। এরপর শিক্ষকেরা ২৩ শতাংশ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া ৫১ শতাংশ অভিযুক্তের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন নির্যাতনের শিকার শিশু-কিশোর-কিশোরীরা শারীরিক ও মানসিক, উভয় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। জেড এইচ সিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক জিনাত আরা নাসরীন প্রথম আলোকে বলেন, আঘাত ও আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে নির্যাতনের শিকার শিশু মারা যেতে পারে। এ ছাড়া যৌনাঙ্গে সংক্রমণ, এমনকি স্থায়ী ব্যথাও হতে পারে। আর বিভিন্ন রকম যৌন রোগ যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া, এইডস, হেপাটাইটিস বিসিসহ নানা সংক্রামক রোগে শিশুটি আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া শিশুটি পরবর্তী বৈবাহিক জীবনেও স্বাভাবিক যৌন আচরণ করতে পারে না বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল বলেন, যৌন নির্যাতনের ফলে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের সমস্যা হয়। তাৎক্ষণিক সমস্যা সাধারণত ২৮ দিন পর্যন্ত চলে। এ সময় ভিকটিম কথা বন্ধ করে দেয়, বোকা বোকা আচরণ করে বা বুদ্ধি লোপ পায়, ভাবগ্রস্ত বা আবেগশূন্য থাকে, সঙ্গে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়। আর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা বিয়ের পর পর্যন্ত চলতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষণ্নতা তো থাকবেই, সঙ্গে দুঃস্বপ্ন বা অবসাদগ্রস্ততা থাকে, হাউমাউ করে কান্না করে, পুরুষদের এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হয়, এমনকি স্বামীর সঙ্গে যৌনমিলনেও ভয় পায়।
বর্তমানে মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যৌন অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ ছাড়া শিশুটিও অপরাধবোধ বা ভয়ে পরিবারকে তার নির্যাতনের কথা জানাতে পারে না। এ কারণে দ্বিতীয়বারও একই ব্যক্তি দ্বারা নির্যাতনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, অপরাধীর শাস্তি না হওয়াই যৌন অপরাধ বাড়ার প্রধান কারণ। আর এর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রই দায়ী। রাষ্ট্র অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না করে তাকে বাঁচানোর কাজে নিয়োজিত থাকে। তবে পরিবারের অসচেতনতাও একটি অন্যতম কারণ।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অনুচ্ছেদ-৩৪-এ বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহ সব ধরনের যৌন নির্যাতন থেকে শিশুদের রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আইন অনুসারে হত্যা, ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আর্থিক দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না। এ বিষয়ে সুুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধী সব সময়ই কোনো না কোনো প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় থাকে। ফলে, পুলিশ প্রতিবেদন ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পক্ষপাতমূলক হয়। এ কারণে বেশির ভাগ সময় ভিকটিম সঠিক বিচার পায় না। তবে সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে ভিকটিমের পরিবার অনেক সময় অপরাধীর পরিবারের সঙ্গে আপস করে বা মামলা চালায় না। ফলে যৌন অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
প্রথম দিকে বিষয়টি মা ধরতে না পারলেও কিছুদিন পরে তাঁর মনে খটকা লাগে। কেয়া মায়ের সঙ্গে গল্প করে না। প্রয়োজনের বাইরে একটি কথাও বলে না। এমনকি আঁকার খাতা নিয়েও বসে না। অনেক চেষ্টা করেও চাকরিজীবী মা এর কারণ খুঁজে পাননি। বাধ্য হয়ে শরণাপন্ন হলেন মনোরোগ চিকিৎসকের। মাস দুয়েক কাউন্সেলিং করার পর চিকিৎসক মাকে জানান, কেয়া গৃহশিক্ষকের দ্বারা নিয়মিত যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তারা যখন বাসায় থাকেন না, শিক্ষক তখন কেয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশে ও গোপনাঙ্গে হাত দেয়।
শুধু কেয়া-ই নয়। বাংলাদেশে এ রকম বহু শিশু-কিশোরী প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সমাজের উচ্চ-মধ্য-নিম্নবিত্ত সব শ্রেণীর শিশুই যৌন নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পথশিশু, বস্তির শিশু, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু ও শ্রমিক শিশুদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা বেশি। যৌন অপরাধের মধ্যে যৌন হয়রানি এবং যৌন নির্যাতন, দুটো বিষয়ই থাকছে। যৌন হয়রানি মানেই যৌন নির্যাতন নয়, তবে যৌন নির্যাতন হলে সেখানে যৌন হয়রানিও ঘটে। যৌন অপরাধ বলতে ইভ টিজিং, ধর্ষণ, শরীরে সংবেদনশীল স্থানে হাত দেওয়া, চুমু খাওয়া, শরীরের গোপন স্থান দেখার জন্য বস্ত্রহীন হতে বাধ্য করা, অশ্লীল ছবি তোলা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি।
শুধু যে মেয়েশিশুরা এর শিকার হচ্ছে, এমনটি নয়। ছেলেশিশু-কিশোরেরাও বাদ যাচ্ছে না। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের ২০১০ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছেলেশিশুরাই তুলনামূলক বেশি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছে। মেয়েশিশুর ওপর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনের তুলনায় কম কাজ হলেও ছেলেশিশুদের বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। এমনকি নির্যাতনের শিকার ছেলেশিশু-কিশোরকে কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়, অথবা কীভাবে ছেলেশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয় না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা বাড়িতে বেশি আসা-যাওয়া করে এবং শিশুরা যাদের বাড়িতে বেশি যায়, তাদের দ্বারা যৌন নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা বেশি ঘটে। অর্থাৎ নিকটাত্মীয়র মাধ্যমে। দূরসম্পর্কের ভাই, চাচা, মামা, খালু, নানা, দাদা দ্বারা হতে পারে এমনকি বাবা পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রতিবেশী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বড় ভাই, গৃহশিক্ষক, বাবা-মায়ের বন্ধু, বড় ভাইবোনের বন্ধু। অপরিচিত লোকজনের মাধ্যমেও ঘটতে পারে। এই নির্যাতন একবার কিংবা বারবার ঘটতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পেশা বিশ্লেষণ করে মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্ররাই সবচেয়ে বেশি যৌন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এ হার প্রায় ২৮ শতাংশ। এরপর শিক্ষকেরা ২৩ শতাংশ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া ৫১ শতাংশ অভিযুক্তের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন নির্যাতনের শিকার শিশু-কিশোর-কিশোরীরা শারীরিক ও মানসিক, উভয় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। জেড এইচ সিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক জিনাত আরা নাসরীন প্রথম আলোকে বলেন, আঘাত ও আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণ হয়ে নির্যাতনের শিকার শিশু মারা যেতে পারে। এ ছাড়া যৌনাঙ্গে সংক্রমণ, এমনকি স্থায়ী ব্যথাও হতে পারে। আর বিভিন্ন রকম যৌন রোগ যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া, এইডস, হেপাটাইটিস বিসিসহ নানা সংক্রামক রোগে শিশুটি আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া শিশুটি পরবর্তী বৈবাহিক জীবনেও স্বাভাবিক যৌন আচরণ করতে পারে না বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল বলেন, যৌন নির্যাতনের ফলে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের সমস্যা হয়। তাৎক্ষণিক সমস্যা সাধারণত ২৮ দিন পর্যন্ত চলে। এ সময় ভিকটিম কথা বন্ধ করে দেয়, বোকা বোকা আচরণ করে বা বুদ্ধি লোপ পায়, ভাবগ্রস্ত বা আবেগশূন্য থাকে, সঙ্গে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়। আর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা বিয়ের পর পর্যন্ত চলতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষণ্নতা তো থাকবেই, সঙ্গে দুঃস্বপ্ন বা অবসাদগ্রস্ততা থাকে, হাউমাউ করে কান্না করে, পুরুষদের এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হয়, এমনকি স্বামীর সঙ্গে যৌনমিলনেও ভয় পায়।
বর্তমানে মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যৌন অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ ছাড়া শিশুটিও অপরাধবোধ বা ভয়ে পরিবারকে তার নির্যাতনের কথা জানাতে পারে না। এ কারণে দ্বিতীয়বারও একই ব্যক্তি দ্বারা নির্যাতনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, অপরাধীর শাস্তি না হওয়াই যৌন অপরাধ বাড়ার প্রধান কারণ। আর এর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রই দায়ী। রাষ্ট্র অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না করে তাকে বাঁচানোর কাজে নিয়োজিত থাকে। তবে পরিবারের অসচেতনতাও একটি অন্যতম কারণ।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অনুচ্ছেদ-৩৪-এ বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহ সব ধরনের যৌন নির্যাতন থেকে শিশুদের রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আইন অনুসারে হত্যা, ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আর্থিক দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না। এ বিষয়ে সুুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধী সব সময়ই কোনো না কোনো প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় থাকে। ফলে, পুলিশ প্রতিবেদন ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পক্ষপাতমূলক হয়। এ কারণে বেশির ভাগ সময় ভিকটিম সঠিক বিচার পায় না। তবে সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে ভিকটিমের পরিবার অনেক সময় অপরাধীর পরিবারের সঙ্গে আপস করে বা মামলা চালায় না। ফলে যৌন অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সূত্রঃ প্রথম আলো
- Get link
- X
- Other Apps
Comments